শুভ জন্মদিন প্রিয় সাবিনা ইয়াসমিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবদুল্লাহ আল মোহন

বাঙালি ও বাংলাদেশের গর্ব বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশের গানের পাখি, সুরেলা কোকিল তথা বাংলা গানের অসম্ভব জনপ্রিয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রায় চার দশক ধরে সঙ্গীতের ভূবনে তার সগর্বে বিচরণ। উচ্চাঙ্গ ধ্রুপদ, লোকসঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্র মিশ্র আঙ্গিকের সুর-যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন সেখানেই যেন সোনা ফলেছে। শুধু দেশের গানেই তার যে অবদান, তা দিয়েই তিনি এ বাংলার বুকে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে। বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় তার গাওয়া দেশের গান আমাদের পুলকিত করে, অনুপ্রাণিত করে, আন্দোলিত করে। আর দেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবসে তার গাওয়া দেশের গানই যেন আগামী দিনে নতুন করে পথচলার সাহস জোগায়। দেশের গান ছাড়াও চলচ্চিত্রে হাজার হাজার গান গেয়েছেন তিনি। আর এমনি করেই গানে গানে সাবিনা ইয়াসমিন হয়ে উঠেছেন এদেশের তথা বাংলা ভাষাভাষীর অতি প্রিয় একজন জীবন্ত কিংবদন্তিতে। জন্মদিনের এই শুভক্ষণে সাবিনা ইয়াসমিন এর দীর্ঘজীবন কামনা করছি। জন্মদিন প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘জন্মদিনটা সবসময়ই আমার কাছে খুব ভালোলাগার। কিন্তু বয়স বাড়ছে, আর এ বিষয়টি যখন মনে পড়ে তখন মন খারাপ হয়ে যায়। তারপরও এখনো বেশ ভালো আছি, সুস্থ আছি-এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন। আমার জন্য দোয়া করবেন।’ ২০০৭ সালে সাবিনা ইয়াসমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ায় তিনি আবার দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসেন। সুস্থ্য হয়ে ফেরার পর এখনও শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে যাচ্ছেন কোকিলকণ্ঠী এ গায়িকা।

সাবিনা ইয়াসমিন অসংখ্য জনপ্রিয় গান দিয়েই শ্রোতাদের হৃদয় জুড়ে রয়েছেন শুরু থেকেই। ১৯৭১ সালে নঈম গহরের লেখা ও আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম প্রেরণা জুগিয়েছিলো। সাবিনা ইয়াসমিনের গানের মধ্যে মনে পড়ছে, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মত গন্ধ বিলিয়ে যাই’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও’, ‘ঝড়ের ও পাখি হয়ে উড়ে’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ এবং ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’, ‘দুঃখ ভালবেসে প্রেমের খেলা’, ‘এ সুখের নেই কোন সীমানা’। আর তার বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’সহ ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘মাঝি নাও ছাড়িয়া দে’,‘সুন্দর সুবর্ণ’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’ সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে কালজয়ী গানের শিল্পী তিনি। দেশের গান ছাড়াও চলচ্চিত্রে হাজার হাজার গান গেয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত সাবিনা ইয়াসমিন প্রায় ১৭ হাজারের মতো গান রেকর্ড করেছেন। তিনি ১৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১১ বার বাচসাস পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১২ সালে তাকে ‘বাংলা একাডেমি’ সম্মানসূচক ফেলোশীপ প্রদান করা হয়।

সাবিনা ইয়াসমিন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভূবনে আধিপত্য বজায় রেখেছেন। মরমী শিল্পী আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে এখনকার শিল্পীরদের সঙ্গে অবিরাম গেয়ে চলেছেন। উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার আর,ডি,বর্মণের সুরে গান গাওয়া, বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমারের ও মান্না দের সঙ্গেও ডুয়েট গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা।

পাঁচ বোন একসঙ্গে

ছোটবেলায় খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন এ শিল্পী। মা ও বোনদের গানের মধ্য দিয়েই তাঁর গাওয়ার শুরু। প্রথমে ‘খেলাঘর’ নামে বেতার অনুষ্ঠানে ছোটদের গান করতেন সাবিনা ইয়াসমিন। সঙ্গীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র ৭ বছর বয়সে স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেন। ছোটদের সংগঠন খেলাঘরের সদস্য হিসেবে রেডিও ও টেলিভিশনে গান করেছেন নিয়মিত। বেতার ও চলচ্চিত্রে বড়দের গান করেন ১৯৬৭ সালে। ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন। এর আগে ‘নতুন সুর’-এ প্রথম গান করেন শিশু শিল্পী হিসেবে। বড়দের গানে যাত্রা শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময়েই। তাই তৎকালীন দ্বৈত গানে প্লেব্যাক করতে অনেক সময় দুই বা তিন ধাপের টুল ব্যবহার করতে হতো তাঁকে। ১৯৬২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রয়াত বরেণ্য সুরকার-সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষের সঙ্গীত পরিচালনায় এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে প্রথম গান করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নূরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমাতে আলতাফ মাহমুদের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘মধু জোছনা দীপালি’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রনাথ’, মইনুল হোসেনের ‘প্রেমিক’, বুলবুল আহমেদ’র ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’ , আমজাদ হোসেনের ‘দুই জীবন’, কাজী হায়াৎ’র ‘দাঙ্গা’, মতিন রহমানের ‘রাধা কৃষ্ণ’, মোহাম্মদ হোসেন’র ‘আজ গায়ে হলুদ’ ও চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সাবিনা ইয়াসমিন অ্যালবাম ও চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শো’তে গান পরিবেশন করছেন।
ফিল্মের গান এখন বেশি গাইছেন না। বলেন,` ফিল্মের গান যেগুলো হচ্ছে সেগুলো আমার স্টাইলের গান না। সেজন্য ফিল্মের গান আমার কম গাওয়া হচ্ছে। যেগুলো আমার মতো গান সেগুলো গাই।;
শুধু দেশের গানেই তার যে অবদান, তা দিয়েই তিনি এই বাংলার বুকে বেঁচে থাকবেন যুগযুগ ধরে।
ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]