শুভ জন্মদিন বিনয় মজুমদার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জন্মদিনে ঘুম ভেঙে জেগে উঠলেন বিনয় মজুমদার। কোথায়? মানসিক হাসপাতালের বিছানায় নাকি নিজের গ্রামে? ঘুম থেকে উঠে বসে আছেন কবি অথবা ঘুম থেকে ডেকে তুলছেন বাংলা কবিতাকে?

আজ কবি বিনয় মজুমদারের জন্মদিন। তিনি ১৯৩৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মিকটিলা জেলার টোডো গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন। প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে কবির স্মৃতির উদ্দেশ্যে রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

এক সাক্ষাৎকারে বিনয় মজুমদার একবার বলেছিলেন, ‘লিখতে লিখতে বুঝেছি আমি কবিতা লিখতে জানি না। লিখতে লিখতে বুঝেছি কবিতা লিখলে দুঃখ ভোলা সম্ভব। কিন্তু দুঃখ ভুলে গেলে আর কবিতা লেখা যায় না।’ দুঃখ ভুলে যাননি বিনয় মজুমদার। আর তাই বাংলা কবিতা তার হাতে বৃষ্টির মতো ঝরেছিলো হাওয়ায়। তিনি লিখেছেন,

‘‘ভালোবাসা দিতে পারি ,

তোমরা কি গ্রহনে সক্ষম ?
লীলাময়ী করপুটে তোমাদের সবই ঝরে যায়
হাসি ,জ্যোৎস্না , ব্যথা ,স্মৃতি অবশিষ্ট কিছুই থাকে না ” ।

ভালোবাসা দিয়েছিলেন কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। লিখেছিলেন ‘ফিরে এসো চাকা’ পর্যায়ের কবিতা।

বিনয় মজুমদার প্রায় আটবার ভর্তি হয়েছিলেন মানসিক হাসপাতালে। বহুবার তার মাথায় দেওয়া হয়েছে ইলেকট্রিক শক। এরপরেও বিনয় নিজেই বলছেন, ‘এতোকিছুর পরেও আমি সুস্থ চিন্তা করতে পারি। নিজেকে পাগল বলে মনে করি না। তাই কেউ পাগল বললে আমার খারাপ লাগে।’ নিজেই ব্যাঙ্গ করে বলতেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের পাগলাগারদ সমূহের পরিদর্শক আমি’।

অথচ এই মানুষটি কী দক্ষতার সঙ্গেই না মেডিকেল কলেজের এজরা ওয়ার্ডে থাকাকালীন জটিল কাব্যদর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন! এজরা ওয়ার্ডের দেয়ালেও লিখেছেন কিছু কবিতা। জীবন তাকে উপলব্ধি দিয়েছিলো বলেই হয়তো লিখেছিলেন, ‘ক্ষত সেরে গেলে ত্বকে/পুনরায় কেশোদগম হবে না কখনও’।

বিনয় মজুমদারের কবিতা বাংলা কবিতার জগতকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। গণিতকে তিনি মিশিয়ে দিয়েছেন কবিতার সঙ্গে। প্রকৌশলী বিনয় মজুমদার কবিতা লিখতে গিয়ে বিজ্ঞানচেতনাকে ব্যবহার করেছেন। কেউ তাকে পাগল বলেছে, কেউ আখ্যা দিয়েছে প্রতিভাবান বলে। তিনি নিজে শেষ জীবনে একা এক কুঠিতে নিজেকে নির্বাসন দিয়েছিলেন। বুঝেছিলেন অনেক কিছুই। তাই জড়, উদ্ভিদ আর জীবকে কোথাও এক মাত্রায় বসিয়েছিলেন। বিয়ে করেননি কিন্তু কোনো এক সিদ্ধান্তে গিয়ে বলেছিলেন, শিবরাম চক্রবর্তী আমার গুরু, তার স্ত্রী যদি কল্পনা হয় আমার স্ত্রী তবে রাধা আর ছেলে কেলো।

একবার রেডিওতে কবিতা পড়ার জন্য ডাকা হয়েছিলো বিনয় মজুমদারকে। একা একা জীবন কাটাচ্ছেন তিনি তখন। সবাই ভেবেছিলো কবিতা পড়ার কথা বললে তিনি আসবেন না। তাই অন্য কথা বলে তাঁকে হাজির করা হয়েছিলো রেডিওতে। কিন্তু কবিতা পড়তে গিয়ে এক ভিন্ন মূর্তি বিনয় মজুমদারের। নিমগ্ন হয়ে কবিতা পাঠ করেছিলেন সেদিন তিনি। পরে রেডিওর ক্যান্টিন থেকে ভাত এনে তাঁকে খাওয়ানো হয়। কেউ একজন জানতে চেয়েছিলো, আবার ডাকলে তিনি কবিতা পড়তে আসবেন কি না?উত্তরে বিনয় মজুমদার বলেছিলেন,‘যদি এভাবে ভাত খেতে দাও আবার আসবো কবিতা পড়তে।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]