শুভ জন্মদিন লিও মেসি

লুৎফুল কবির রনি

‘সবাই বলেন ঈশ্বরের চোখে প্রত্যেকেই নাকি সমান। কিন্তু মেসিকে দেখার পর সেই কথাটা দ্বিতীয়বার ভাবতে উদ্যত হবেন আপনি।’

– রে হাডসন

আমি এই অতিমানবের ফ্যান না, গ্রেটেস্ট সেই যে বিরোধীর মন জয় করে নিতে পারেন।

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন মধ্যরাতের কথা। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের সান্তাফে অঙ্গরাজ্যে তখন শুনশান নীরবতা নেমে এসেছে। সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কেবল ইটালিয়ানো হসপিটালের দশ নম্বর রুমে জেগে আছে ইস্পাত ব্যবসায়ী হোর্হে হোরাসিও মেসি এবং তার স্ত্রী, খন্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স। কিছুক্ষণ পরেই সেই রুমে আকাশ থেকে খসে পড়ল একটি তারা। তবে জেনে নিন- সেই তারার নাম হচ্ছে লিওনেল মেসি!

তাঁর বাঁ পা টা যেন পিকাসোর তুলি কিংবা ডেভিড কপারফিল্ডের জাদুর কাঠি, যা দিয়ে তিনি পুরো পৃথিবীকে বুঁদ করে রেখেছেন কোনো এক আদিম নেশায়। তাঁর প্রতিটা পাসেই যেন ভিঞ্চির শৈল্পিক ছোঁয়া। তাঁর প্রতিটা গোলই যেন পাবলো পিকাসোর তুলির নিখুঁত আঁচড়। তাঁর পায়ে বল গেলেই মাঠে থাকা প্রতিটা দর্শক আর টিভি পর্দায় সেটে থাকা কোটি দর্শকের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় দারুন কিছু দেখার আশায়, আর প্রতিপক্ষ কাঁপতে থাকে এই বুঝি জাদুকর তাঁর জাদু শুরু করে দেবে।

১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (Growth Hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিলো। এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিলো ৯০০ মার্কিন ডলার।

বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিত্‍সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজী হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমী লা মাসিয়া’র সভ্য করে নেয়া হয়।বাকিটা ইতিহাস।

সারা পৃথিবীর বহু শিশুর স্কুলের যাবতীয় খরচ তিনি দিয়ে থাকেন। গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ১৬০০ বাচ্চার জন্য ২০টি ক্লাসরুম উপহার দিয়েছিলেন তিনি। আবার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার পুরো টাকাটাই তিনি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার একটা হাসপাতালকে!

এমনকি ইজরায়েল যখন ফিলিস্তিনের শিশুদের ওপরে হামলা করছিল তখনো তিনি বলেছিলেন- আমি ঘৃণা করি সেই লোকেদের যারা নিরীহ বাচ্চাদের ওপর হামলা করার নাম দিয়েছে যুদ্ধ!

শুভ জন্মদিন লিও মেসি। বিশ্বকাপ আপনার হাতে উঠবে কিনা নাকি আপনি ট্র্যাজিক হিরো হবেন তা সময়-ই বলে দিবে, তবে নিরানন্দ, ঘাতক সময়ে আপনি অন্তত মাঠে সুন্দরের, জীবনের মুগ্ধতার ছবি একেঁছেন।

ছবি: গুগল