শুভ জন্মদিন শক্তি চট্টোপাধ্যায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো।

যেদিকে দুচোখ যায়-যেতে তার খুশি লাগে খুব।

ভালোবাসা পেলে আমি কেন পায়াসান্ন খাবো

যা খায় গরীবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে।

এমনই সব কবিতা যাঁর কলমে মুখিয়ে থাকতো বাংলা কবিতার জগতকে চমকে দিতে তিনি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। জীবনানন্দ-উত্তর যুগে বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি। সাহিত্যের জগতে কবিতা দিয়ে নয়, ‘কুয়োতলা’ নামে উপন্যাস দিয়ে। তারপর বহু পথ ঘুরে আধুনিক কবিতার ভূগোলের অন্যতম রাজার আসন দখল করেছিলেন তিনি। তাই অনায়েশে তিনি লিখেছিলেন,

তীরে কি প্রচন্ড কলরব

‘জলে ভেসে যায় কার শব

কোথা ছিলো বাড়ি?’

রাতের কল্লোল শুধু বলে যায়-‘অমি স্বেচ্ছাচারী।’

জয় করে নিয়েছিলেন বাংলা কবিতার পাঠকদের হৃদয়। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ‘৯৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জয়নগরে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ।

শক্তি ও সুনীল আড্ডায়

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সবচাইতে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো’ বাংলা সাহিত্যে স্থিতাবস্থা ভাঙ্গতে, প্রথাগত অনুসরণের পথ থেকে সরে আসতে পশ্চিম বাংলায় ‘হাংরি জেনারেশনের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো ষাটের দশকে শক্তি ছিলেন তার অন্যতম পুরুষ।

তার পিতার নাম বামানাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম কমলা দেবী। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি তার পিতাকে হারান এবং নানার বাড়িতে বড় হন। তিনি ১৯৪৮ সালে কোলকাতার বাগবাজারে আসেন এবং সেখানে একটি স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

১৯৫১ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং সিটি কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। একই সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। পাস করার পর তিনি বাংলা সাহিত্যে অনার্স করার উদ্দেশ্যে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। কিন্তু দারিদ্রের কারণে তিনি স্নাতক পাঠ অর্ধসমাপ্ত রেখে প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন, এবং সাহিত্যকে জীবিকা করার উদ্দৈশ্যে উপন্যাস লেখা আরম্ভ করেন। তার প্রথম উপন্যাস কুয়োতলা। কিন্তু কলেজ জীবনের বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর সাথে তাঁর বনাঞ্চল-কুটির চাইবাসায় আড়াই বছর থাকার সময়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায় একজন সফল লিরিকাল কবিতে পরিণত হন। একই দিনে বেশ কয়েকটি কবিতা লিখে ফেলার অভ্যাস গড়ে ফেলেন তিনি। নিজের কবিতাকে তিনি বলতেন পদ্য ।

তিনি স্ফুলিঙ্গ সমাদ্দার ছদ্দ নামে লেখালেখি করতেন। আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে অন্যতম প্রধান কবির কবিতার ছন্দে, গন্ধে, ভাষা প্রয়োগে এবং অর্থে কেউ কেউ তাঁকে জীবনানন্দ দাশের শেষ উত্তরসূরী হিসেবও অভিহিত করে থাকেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম, “যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো”।

দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন কলকাতার আন্দবাজার পত্রিকায়। রূপচাঁদ পক্ষী ছদ্মনামে অনেক ফিচার লিখেছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম, হে নৈশব্দ’ ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় দেবকুমার বসুর চেষ্টায়। পঞ্চাশ-ষাটের দশকের কলকাতা নগরীকে শাসন করতেন যে চার কবি তাদের মাঝে অন্যতম ছিলেন শক্তি। ঘোরগ্রস্ততায় তাদের ফুটপাত বদল হয়ে যেত, পুলিশের সাথে গোল্লাছুট ছিল মামুলি কারবার। নতুন সাহিত্যকে যাপন করতেন নিজেদের জীবন দিয়ে, মদ আর মগজের জ্বালানিতে নিজেদের পুড়িয়ে তৈরি করতেন নতুন কবিতা। এই চার যুবক কবি ছিলেন, সুনীল- শক্তি-উৎপল-শরৎ! সেসব ঘটনা আজো বাংলা সাহিত্যের রাফ খাতায় গল্প হয়ে জমে আছে অজস্র কাটাকুটি দাগের মধ্যে।

শক্তির ঝোলায় ছিলো উন্মাদনা। জীবনকে, বাস্তবতাকে দুই তুড়িতে বেপরোয়া উড়িয়ে নৈঃশব্দের কাছে ফিরে যাবার ক্ষমতা। গীতল কবিতায়, কথার যাদুতে মগজের মদে কবিতাকে নেশাতুর করে ফেলার বিরল প্রতিভা। খেলা হয়তো শেষ, কিন্তু কবিতার সেই অদ্ভূত জাদুকর তাঁর কবিতা দিয়ে  তার পাঠকমনের কুয়াশাচ্ছন্ন জলাভূমিতে চর তুলবে, ফের ডোবাবে, এভাবেই বাঁচবেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, কবি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]