শুভ জন্মদিন সত্যজিৎ রায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জন্মের ৯৯ বছর পেরিয়ে শত বছরে পা দিলেন তিনি এ বছর। চলচ্চিত্রকার সত্যজিতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে জাপানি চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া একবার বলেছিলেন— ‘রায়ের ছবি না দেখা আর পৃথিবীতে চাঁদ আর সূর্য না দেখে বেঁচে থাকা একই ব্যাপার।’ সাঁইত্রিশ বছরের কর্মজীবনে পরিচালক হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের ৩৬টি ছবির (২৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র, পাঁচটি তথ্যচিত্র ও দু’টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি) বিস্তৃতি ও গভীরতা নিঃসন্দেহে পৃথক এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণমূলক আলোচনার দাবি রাখে। ছবির প্রয়োজনে হোক কিংবা স্বাধীন শিল্পী হিসেবে— অলঙ্করণ, কস্টিউম ও গ্রাফিক ডিজাইনিং, চিত্রনাট্য ও সাহিত্যরচনা, সম্পাদনা অথবা সুরসৃষ্টির মতো চারুকলার বিভিন্ন পরিসরে তাঁর অবাধ ও দক্ষ চলাচল, রায়চৌধুরী/রায় পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর স্বতন্ত্র ও সফল পরিচিতি, জনমানসে তাঁর প্রগাঢ় ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতি জন্ম শতবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে সত্যজিৎ রায়কে আজও সমান প্রাসঙ্গিক, সমান আধুনিক করে রেখেছে।
সত্যজিৎ রায়ের জন্ম কলকাতা শহরের সাহিত্য ও শিল্প সমাজে খ্যাতনামা রায় পরিবারে।সময়টা ২ মে ১৯২১ তার পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কিশোরগঞ্জে (বর্তমানে বাংলাদেশ) কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।তিনি একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ইতালীয় চলচ্চিত্র ‘বাইসাইকেল থিফ’ তাঁকে অন্যরকম সিনেমার পৃথিবীতে নিয়ে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন এক অন্য সত্যজিৎ।
কিন্তু কলম ধরার ক্ষেত্রে বংশের ধারাটা তার চলচ্চিত্র যাত্রার পেছন ছাড়েনি কখনোই। বিখ্যাত ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদনা, গোয়েন্দা ফেলুদার মতো চরিত্র সৃষ্টি, ছোটদের জন্য মেলে দেয়া প্রফেসর শঙ্কুর পৃথিবী আর গল্প লেখক সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে গেছে আরেক উচ্চতায়।
সিনেমায় এই মানুষটির মূল সুর ছিলো ‘মানবজীবনের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, শান্ত অথচ গভীর জীবনবোধ এবং মানবপ্রেম’-এর সুরে বয়ে চলা ‘বহমান নদীর বিশালতা ও প্রশান্তি’রই প্রতিধ্বনি। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’ প্রসঙ্গে আকিরো কুরোসাওয়া এমন মন্তব্যই করেছিলেন।
বাবা ছিলেন অন্যতম সেরা শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়। মা সুপ্রভা দেবী। মাত্র আড়াই বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান।
এর দু-তিন বছরের মধ্যে তাঁরা চলে আসেন তাঁর মামার বাড়িতে দক্ষিণ কলকাতার বকুলবাগানে। সেখানে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে তিনি ভর্তি হন। মায়ের সান্নিধ্যেই বড় হয়ে ওঠেন সত্যজিৎ রায়।
চলচ্চিত্র প্রাবন্ধিক শঙ্করলাল ভট্টাচার্য বলেছেন অসাধারণ এক বাল্যকাল পার করেছিলেন সত্যজিৎ।
“সেই ছেলেটি সারাক্ষণ নানা দিক থেকে সমানে তৈরি করেছেন নিজেকে। শুধু পড়াশোনায় নয়, গানবাজনা, ছবি আঁকায় নিজেকে দক্ষ করে তোলা- এরকম একটা অর্গানাইজড বয়হুড (সুশৃঙ্খল বাল্যকাল) ভাবা যায় না।”
আজ এই অসামান্য মানুষটির জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]