শুভ জন্মদিন হে আমার বাংলা গিটার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল কবির রনি

বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীত তো বটেই; সামগ্রিক অর্থে বাংলা ভাষার চিরদিনের ইতিহাসে অনন্য এক শিল্পী-সুরকার আইয়ুব বাচ্চু। অসামান্য প্রাণশক্তির অমিত প্রতিভাবান এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব চার দশকের বেশি সময় এদেশের সঙ্গীতে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। মেধাবী আইয়ুব বাচ্চু যেভাবে তিল তিল করে গড়েছেন নিজেকে; একইভাবে উত্তরপ্রজন্মের বেড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত করেছেন।

কিংবদন্তি শিল্পী, গিটারের জাদুকর, দেশসেরা রকস্টার। আইয়ুব বাচ্চু শুধু শিল্পী বা সঙ্গীত পরিচালক নন, দেশীয় সঙ্গীতের এক মহীরুহ। আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীত জীবনের পথ পরিক্রমা দেখলেই বোঝা যায়, কতটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি শিল্পী জীবনকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। পারিবারিক বাঁধা অতিক্রম করে, শিল্পী জীবনকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি।

কৈশোরে ভাড়াকরা গিটার নিয়ে শো করতেন। কারণ নিজের গিটার কেনার সামর্থ্য ছিলো না। অথচ সময়ের পালাবদলে সেই আইয়ুব বাচ্চু পরিণত হয়েছেন বিশ্বের আলোচিত একজন গিটারবাদকে। ষাটটি গিটার দিয়ে সংগ্রহশালাও তৈরি করেছেন। দেশে প্রথম ধারাবাহিক একক গিটার শো’র প্রবর্তনও করেন তিনি। অথচ পেছন ফিরে তাকালে তার সংগ্রামী সময়টা গল্প বলেই মনে হয়।

দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে একক গিটার শো শুরু করার আগে তিনি শুনিয়েছিলেন সেই গল্প। বলেছিলেন, ‘গিটারের প্রতি এই ভালোবাসার জন্ম কৈশোরে। সেটা সত্তর দশকের শুরু। নিজের কোনো গিটার ছিলো না। সামর্থ্যও ছিল না গিটার কেনার। পরিচিত একজনের গিটার ছিলো, যে ভাড়া দিতো। কয়েক মাইল পথ হেঁটে তার কাছে যেতাম গিটার ভাড়া নিতে। ৩০ টাকায় ভাড়া নেওয়া গিটার দিয়েই বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিতাম। শো থেকে পাওয়া সত্তর-আশি টাকার প্রায় অর্ধেক চলে যেত গিটার ভাড়া দিতে। অথচ এখন আমার নিজেরই অনেক গিটার। পৃথিবীর নামিদামি ব্র্যান্ডের ৪০টি গিটার আমার সংগ্রহে আছে। তারপরও আফসোস করি বাবার কিনে দেওয়া প্রথম গিটারটির জন্য। বাড়িতে অনেকের আসা-যাওয়া ছিলো। কে কবে সেই গিটার নিয়ে গেছে, তার কোনো হদিস পাইনি।’

নিজের প্রথম গিটার হারিয়ে ফেলার আফসোস আজীবনই ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। কারণ যখন নিজে সেই গিটারের মালিক হন, তখন থেমে থাকার অবকাশ ছিলো না তার। রাতদিন একাকার করে গিটার নিয়ে মেতে থেকেছেন। গোল্ডেন বয়েজ থেকে শুরু করে আগলি বয়েজ, স্পাইডার ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে মিউজিশিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। এরপর ফিলিংস ও সোলসের সদস্য হয়ে মেতে উঠেছিলেন সৃষ্টির নেশায়। একটি গিটারই তাকে শিল্পীর জীবন বেছে নেওয়ার সাহস জুগিয়েছিলো। তার অন্য কোনো পেশা নয়, শিল্পী হবেন- এমন বাসনা নিয়েই ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। সে কথা বিভিন্ন সময় স্বীকারও করেছেন। যদিও শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ততদিনে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী; তবুও কথায় ঘুরেফিরে গিটার প্রসঙ্গই আগে এনেছেন। বলেছেন, ‘গান নাকি গিটার বাজানো কোনটা বেশি ভালো লাগে- নিজেকে কখনও এই প্রশ্ন করিনি, তাই উত্তরটাও আমার কাছে স্পষ্ট নয়। গিটার বাজানো বা গান গাওয়া কোনোটাই সঙ্গীতের বাইরে নয়। এ কথা ঠিক, গিটার ছাড়া কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা আমি ভাবতেই পারি না। অনেকবার বলেছি, গিটার হলো আমার তৃতীয় হাত। গানের চেয়ে গিটার বাজানো আমার কাছে কোনো অংশেই কম নয়। এর চেয়ে বড় সত্য, গান নয়, গিটারই আমাকে ঘরছাড়া করেছিলো। গিটার শিল্পী হওয়ার বাসনায় ঘর ছেড়ে সঙ্গীতযুদ্ধে নেমেছিলাম।’ আইয়ুব বাচ্চুর এ কথা যে মিথ্যা নয়, তা পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়।

গিটারশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন আর সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েই চট্টগ্রাম ছেড়ে রাজধানীর বুকে পা রেখেছিলেন তিনি। সম্বল ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে থেকে শুরু করেছিলেন কথা-সুর-সঙ্গীতের বুনন। তার সমসাময়িক অনেকে গান পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস না পেলেও আইয়ুব দমে যাননি। সঙ্গীত সৃষ্টির নেশায় এতটাই মত্ত ছিলেন যে, শত কষ্টের মাঝেও পিছিয়ে আসেননি।

সুরকার ও গিটারশিল্পীর পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর উত্থানপর্ব শুরু হয় আশির দশকের শেষ প্রান্তে। তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। যদিও তার আগে ‘রক্ত গোলাপ’ একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন, আশির দশকে সোলস ব্যান্ডের হয়েও কিছু গান করেছেন, কিন্তু তা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়নি। মূলত ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করে বাংলা রক গানকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য মাত্রায়।

নিজেকে ভেঙে কতভাবে নতুন আয়োজন করা যেতে পারে তারও অসংখ্য উদাহরণ রেখে গেছেন এই শিল্পী। ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি’, ‘প্রেম প্রেমের মতো’, ‘জীবনের গল্প’, ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘ফেরারি মন’ ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময়’ ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই, ‘ক্যাপসুল’সহ শতাধিক একক, ব্যান্ড, মিশ্র ও ডুয়েট অ্যালবাম ছাড়াও প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তিনি সময়কে জয় করেছেন।

মৃত্যুর আগে আইয়ুব বাচ্চু বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে তার গান শুরুর দিকের স্মৃতি নিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা কখনোই চাননি আমি এই লাইনে থাকি। বাবা বলতেন তুমি শেষ, তোমার মত বাউলের এই বাড়িতে কোন জায়গা হবে না।’

বেশ কষ্ট ও অভিমান নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘আসলেই এই বাউলগিরি করে আমার জীবন শেষ’। কোথায় যেন তার দুঃখ ছিলো, ছিলো অভিমান। তাই হয়তো গেয়েছিলেন, এই বুকের যন্ত্রনা বেশী সইতে পাড়ি না, এতবেশী কাঁদালে উড়াল দিবো আকাশে।

গিটারের সেবক আইয়ুব বাচ্চু গান গেয়ে প্রথম আয় করেন ৩০ টাকা। যা কিনা বর্তমানে ৩০০০০ এর সমান। চট্টগ্রামে এক প্রোগ্রামে গান গেয়ে তার এই আয়। তবে পারিবারিক সাপোর্ট না থাকার জন্য সে সময় নিজের গানের জন্য যে খরচ হতো তা তাকে নিজেরই বহন করতে হতো। সে স্মৃতি মনে করে আইয়ুব বাচ্চু বলে ছিলেন, ‘প্রথম আয় সবার জন্যই খুব আনন্দের। আমারও ছিলো। ইচ্ছে ছিলো সেই টাকাগুলো যদি রেখে দিতে পাড়তাম। চাইলেও পারিনি, কেননা তখন নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হতো।’

গান গেয়ে যেই মানুষটি সারা জীবন পার করলেন সেই মানুষটি তার নিজের ছেলেকেই তার পেশায় আসতে দেননি। অনেকেই এটা নিয়ে বেশ কয়েকবার আইয়ুব বাচ্চুকে প্রশ্ন করেছিলেন আর প্রতিবার তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি এই পেশায় যত কষ্ট করে ঘাম ঝড়িয়ে টাকা উপার্জন করেছি, আমি চাই না আমার ছেলে এত কষ্ট করুক। কেননা আমি বাবা হয়ে তা মেনে নিতে পারবো না। তাই তাকে পড়াশোনার জন্য বাইরে পাঠিয়েছি। বলে দিয়েছি গান করবে শখে। যখন তুমি চাকরি করে বিশাল বাংলোয় থাকবে, তোমার বাসায় রুম ভরা গিটার থাকবে, তোমার বন্ধুরা আসবে তোমার গিটার বাজানো শোনার জন্য।’

নিজেকে কখনোই গিটার বাদক মনে করেননি তিনি। সব সময় বলতেন আমি গিটার বাদক নই আমি গিটারের সেবক। দীর্ঘ দিনের ক্যারিয়ারে গিটারের সেবক পেয়েছেন কোটি ভক্তের ভালোবাসা। তারপরও কোথায় যেন ছিলো তার এক অপূর্ণতা। বেশ হতাশা নিয়ে তাকে একবার বলতে শোনা গিয়েছিলো, সব কিছু থেকে পালিয়ে যেতে চাই অনেক দূরে। অনেক তো করলাম আর করতে ভালো লাগছে না কিন্তু কেন এই পালিয়ে যাওয়ার ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘হলো তো, সবই করেছি, সবাই বড় হয়েছে, চারপাশের সবাই বড় হয়েছে, এখন সবাই সেটেল। তাই এখন বর্ব মার্লির মতো হয়ে যেতে চাই।’

পরিবারের সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম উল্লেখ করে আইয়ুব বাচ্চু বলে ছিলেন, ‘আমার দাদা-দাদী, চাচা-চাচী সবাই এক সঙ্গেই থাকতো। এক উঠানেই আমারা সবাই থাকতাম। আমিও তাই চেয়েছিলাম কিন্তু আমার মনে হয় এইটা অযৌতিক। এখনও আমি সেকালে রয়ে গেছি। এখন পাশের বাড়িতে মানুষ থাকবে কিন্তু কেউ তার খবর জানবে না।’

প্রতিটা সময়ই তিনি শিল্পীদের সম্মানের কথা বলেছেন। তিনি মনে করতেন যখন সবাই শিল্পীদের মনে করবে তাদের পেট আছে, পরিবার আছে, সামাজিকতা আছে তখনই এক জন শিল্পীকে সম্মান করা হবে। অনেকের হয়তো অজানা গিটারের এই সেবক একজন সমাজ সেবীও ছিলেন। তিনি অনেক অসহায়দের পাশে বিভিন্ন ভাবে দাঁড়াতেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন আর বলতেন আমি ডান হাতে কি করেছি সেটা যেন আমার অন্য হাত না জানে।

যেই মানুষটি সব সময় মা, দেশকে নিয়ে কথা বলছেন, বলেছেন বদলে যাওয়ার কথা সেই মানুষটি হুট করেই সবাকে ছেড়ে চলে গেলেন। নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তিনি নিজে জানলেও কখনো তার গানে, কথায় বুঝতে দেননি কাউকে। তার এই চলে যাওয়া আজ সবাইকে ভাবায় তিনি কি অভিলাসি না অভিমানী?

কিংবদন্তীদের কখনও মৃত্যু নেই। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। আর তার সেই রূপালি গিটার দিয়ে মহল্লার চায়ের দোকানে, কলেজের ক্যান্টিনে কিংবা খোলা মাঠে তরুণ প্রজম্নের কণ্ঠে ছয় তারের সুরে শোনা যাবে ‘চলো বদলে যাই’।

এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চুর গান প্রথম কবে শুনেছি মনে নেই। মনে থাকার কথাও না। গানগুলো শুনেই বড় হয়েছিতো। স্মৃতির অংশ, জীবনের অংশ হয়ে গেছে। বন্ধুত্ব, প্রেম, দুঃখ, সুখ, বিয়ে, ঈদ, জন্মদিন কিংবা অকারণে এলআরবি থাকতোই। থাকতোই মানে কি আছেই! থাকবেই!

ফিতা থেকে সিডি, সিডি থেকে ডিজিটাল, ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে পিসি, পিসি থেকে এমপিথ্রি প্লেয়ার, সেখান থেকে স্মার্টফোন। সামনে যে প্রযুক্তিই আসুক, এলআরবি থাকবেই।

‘লিটল রিভার ব্যান্ড’ থেকে ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

নব্বইয়ের দশক ছিল মূলত কনসার্ট ও ব্যান্ড কালচারের জন্য স্বর্ণযুগ। প্রতি সপ্তাহেই কোথাও না কোথাও কনসার্ট লেগেই থাকতো। এলআরবি হলে ত কথাই নেই। পিছু নিতে গিয়েই চেনা হয় আশেপাশের জেলা শহর। কনসার্টের লোভে রাজধানী তাড়িয়ে বেড়ানো সেই দুরন্ত কৈশোর।

আমরা বেড়ে উঠেছি বাচ্চু আর এলআরবি বুকে নিয়ে,ঠোঁটে গেয়ে।

আমার শৈশব কৈশোর আর তারুণ্যের বেশির ভাগ সময় কেটেছে যে ভালবাসার শহরে, সে শহরে কান পাতলে আজও শুনি আইয়ুব বাচ্চুর কথাগুলো

‘হাসতে দেখ,গাইতে দেখো
অনেক কথায় মুখর আমায় দেখো
দেখো না কেউ হাসির শেষে নীরবতা।’

কৈশোরে প্রেমকে বিরহে হতে দেখেছি আমরা।তখন আইয়ুব বাচ্চু সেই তুমি নিয়ে এলেন,প্রিয়াকে ফিরে পাবার আহ্বানে আমাদের প্রজন্মের কাছে সেই তুমি হয়ে রইল আবেগের নাম।

জন্ম শহর ছেড়ে যখন প্রথম পা বাড়ালাম পাহাড়ে আমার ভালবাসার শহরে,আইয়ুব বাচ্চুর শহরে। মন খারাপের অশ্রুমাখা দহনদগ্ধকালে বহুদিন আমি বাচ্চুর রূপালি গিটারের অকল্পনীয় দক্ষতায় বুঁদ থেকেছি।

”এখন অনেক রাত/ খোলা আকাশের নিচে/জীবনের অনেক আয়োজন আমায় ডেকেছে/তাই আমি বসে আছি দরজার ওপাশে…।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে চলতে চলতে হেঁড়ে গলায় গেয়ে উঠা

‘আর কত এভাবে আমাকে কাঁদাবে
আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে,
এই বুকে যন্ত্রণা বেশী সইতে পারি না
আর বেশী কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে।।’

আইয়ুব বাচ্চু এভাবেই জড়িয়ে ছিলেন।

ইট,কাঠ,পাথরের এই রুক্ষ্ম প্রাণহীন সময়ে আমার,আমাদের জীবনের কতো শতো মুহূর্ত ঘন্টা দিন এবং রাত্রি রাঙিয়ে দিয়েছেন আপনি!

Love Runs Blind (L.R.B) শুরু হয়েছিলো ১৯৯১ সালে এই কিংবন্তীর হাত ধরেই। তারপর একে একে সৃষ্টি হয়েছে ‘রূপালি গিটার’, ‘রাত জাগা পাখি হয়ে’, ‘মাধবী’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘বার মাস’, ‘হাসতে দেখ’, ‘উড়াল দেব আকাশে’। ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সেই তুমি কেন অচেনা হলে’, ‘একদিন ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘মেয়ে ও মেয়ে’, ‘কবিতা সুখ ওড়াও’, ‘এক আকাশ তারা’ গানগুলো ছাড়া জীবনকে ভাবা যায় না।আরো কতো মনোমুগ্ধকর লিরিক, সুর। এতো খ্যাতি, এতো আয়োজন, এতো ভালোবাসা সব ছেড়েই চলে গেলেন।

গিটার কথা বলে ওঠে বাচ্চুর আঙুলের স্পর্শে,সেই জাদুকর রয়ে যাবেন বুকের নগরে।

২৮ বছর এলআরবি ব্যান্ড কে নিজের সন্তানের মতো লালন করেছেন সে আইয়ুব বাচ্চু।আইয়ুব বাচ্চু আজ নেই তো কি! আমরা এলআরবি শুনবো, আর ওতেই বাচ্চু ভাইকে খুঁজবো।

শুভ জন্মদিন রক গানের প্রাণপুরুষ

আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পী নয়, তিনি শিল্পীর কারিগর। বাংলাদেশের কত তরুণ শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে এই মানুষটার যে কত অবদান তা আজ বলতে গেলে বাঁধ ভেঙে যাবে কষ্টের। আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা, ইয়ুথ আইকন, কিংবদন্তি, গিটার–গুরু এবং পাশাপাশি রক মিউজিকে অতলান্ত গভীরতা তো ছিলোই। সঙ্গে ছিলো মাটির মানুষ হিসেবে সুনাম।

এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘শিল্পী জীবনের লক্ষ্য কী?’ চির বিনয়ী মানুষটি হেসে জবাব দিয়েছিলেন, ‘ভাল মানুষ হতে চাই।’‌

একজন কিংবদন্তি শিল্পীর জন্য, একজন নিখাদ মানুষের জন্য। যাঁর জন্য গলা ছেড়ে গাওয়া যেতেই পারে, ‘তুমি কেন বোঝো না, তোমাকে ছাড়া আমি অসহায়।’

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]