শুভ জন্মদিন হে কবিগুরু

লুৎফুল কবির রনি

উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে , মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ !!’

প্রতিটি বাঙালির কৈশোর থেকে রোমান্টিসিজমের স্বপ্ন যে রবীন্দ্রনাথ এঁকে দেন সেই যে যাপিত জীবনের আটপৌরে জীবনে তাঁর প্রবেশ শেষ দিন পর্যন্ত সেই ঘোর লাগা থেকে বের হতে পারে না।

জীবনবোধের ,জীবনযাপনের প্রতি মুহূর্তে তাই এত তীব্র বাঙালির শ্রেষ্ঠ এই প্রেমিক পুরুষ ।রোমান্টিকতার শেষ কথা ।আবেগের শেষ সীমানা।

রবীন্দ্রনাথকে বাতিল করা মানে বাঙালির সংস্কৃতিকে বাতিল করা । তাই পাক হানাদাররা বার বার রবীন্দ্রনাথকে নির্বাসিত করতে চেয়েছে ,কিন্তু ?এমনই প্রতিভা ওই কবির , তাঁকে বেতার থেকে বাদ দিলে তিনি জাতির হৃদয় জুড়ে বাজেন; তাঁকে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিলে তিনি জাতির হৃদয়ের কাব্যগ্রন্থে মুদ্রিত হয়ে যান ;তাঁকে বঙ্গভবন থেকে বাদ দেওয়া হলে তিনি সমগ্র বঙ্গদেশ দখল করেন; তাঁর একটি সঙ্গীত নিষিদ্ধ হলে তিনি জাতীয় সঙ্গীত হয়ে ওঠেন।

প্রতিক্রিয়াশীল নষ্টরা অনেক লড়াই করেছে তাঁর সঙ্গে, পেরে ওঠেনি ; তাঁকে মাটি থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি আকাশ হয়ে ওঠেন ;জীবন থেকে তাঁকে নির্বাসিত করা হলে তিনি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন জাতির স্বপ্নালোকে।

রবীন্দ্রনাথের দেশপ্রেম নিকষিত হেম যেন। দেশের প্রতি অন্ধ না হয়ে সত্তার আলোময় স্বরূপ দিয়ে দেশের মাটিকে এমনভাবে কেউ ভালোবেসেছেন কিনা আমাদের জানা নেই।যাদের শতাব্দীব্যাপী দু:খ দুর্দশা তিনি চোখে দেখেছেন,কানে শুনেছেন,ইতিহাসে পাঠ করেছেন তাদেরকে হিংসার দিকে নয়, ঘৃণার দিকে নয়, শান্তি লালিত উদার দিগন্তের পানে আপন বাণীর মন্ত্রশক্তিতে আকর্ষণ করার সে কি অনিদ্র প্রচেষ্টা! আপন দেশের হতভাগ্যের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বের হতভাগ্য দেশসমূহকে ভালবেসেছেন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন নাইট খেতাব পরিত্যাগ করেন, শান্তিনিকতনে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ভাষা নদীর স্রোতের মতো,কেউউ তাতে নিজ নাম লিখে রাখতে পারে না। কিন্তু তিনি বাংলা ভাষায় নিজ নাম লিখে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ আপন বীণার মত জীবন রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ অতীত বর্তমানের বিশ্ব সংস্কৃতির স্রোতে অবগাহন করে তার প্রাণের শিখা ছেঁকে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের কাছে আমরা মানুষ হওয়ার প্রেরণা পাই।

সারা জীবনই যার কামনা ছিলো, ‘যা পেয়েছি প্রথম দিনে তাই যেন পাই শেষে/দু হাত দিয়ে বিশ্বরে ছুঁই শিশুর মতো হেসে।’ তার বাণীর ঐশ্বর্যে, ভাষার নৈপুণ্যে ও মানবিক মাঙ্গলিকতার বোধে এখনও আমাদের শিশুর মতোই ছুঁয়ে যান তিনি, মোহিত করেন, আনন্দিত করেন, উদ্বুদ্ধ করেন।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রেমিক পুরুষ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মেছিলেন।

শুভ জন্মদিন তোমায় হে কবিগুরু।

ছবি: গুগল