শূন্য করে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নজরুল সৈয়দ

‘শূন্যতাই জানো শুধু? শূন্যের ভেতরে এতো ঢেউ আছে সেকথা জানো না?’

শূন্য করে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ। জানতাম যাবেন, সময় তো হয়েই এসেছিলো। সমসাময়িকরা সবাই আগেই চলে গেছেন। তাঁর যাবার বেলা এগিয়ে নিয়ে এলো করোনা। হাসপাতালে ছিলেন, পত্রিকায় প্রতিদিন চোখ রাখতাম, সেগুলোতে আশাবাদ থাকতো, তবু জানতাম এবার হয়তো আর ফেরা হবে না। হলো না ফেরা। শূন্য করে দিয়ে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ।

‘বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া, তোমার সাথে ওতপ্রোত, নিয়ন আলোয় পণ্য হলো, যা কিছু আজ ব্যক্তিগত’

ক্রীতদাসের জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে যখন আমরা মনে প্রাণে আরো বেশি করে নিজেকে বিকিয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে গেছি তখন এই নতুন শতাব্দীতেও শঙ্খ ঘোষকে দেখে বিস্ময় জাগতো… তিনিও বিস্মৃত হলেন।

কবি হিসেবে শঙ্খ ঘোষের খ্যাতির আড়ালে থেকে যায় গদ্যের শঙ্খ। কিন্তু তাঁর মতো সুমধুর গদ্য খুব বেশিজন লিখতে পারেননি। অনেক বছর আগে কলেজ স্ট্রিটের দে’জ পাবলিশার্স থেকে মন খারাপ করে ফিরে এসেছিলাম অর্থাভাবে তাঁর গদ্য সমগ্র কিনতে না পারায়। বেশ কিছু বছর পর কোনোরকমে অর্থ জোগার করেও আবার দে’জ থেকে ফিরে এসেছিলাম গদ্য সমগ্র না কিনেই, সেবার সবগুলো খণ্ড ছিলো না। তারপর অদ্যবধি সেই সমগ্র জুটলো না কপালে। তিনি চলে গেলেন।

আর বক্তা শঙ্খ? তার কি তুলনা হয়? ২০০৭ সালে প্রণবেশ সেন স্মারক বক্তৃতা দিয়েছিলেন সম্প্রচারের ভাষা শিরোনামে। যা বই হয়ে প্রকাশ হয়েছিলো ‘অন্ধের স্পর্শের মতো’ নামে। এই সামান্য একচিলতে বইখানি, পঞ্চাশ টাকা বোধহয় দাম, সেই বইখানির প্রতিটি বাক্য শব্দ মুখস্ত করে রাখার মতো… এতো অসাধারণ বক্তৃতা বাংলা ভাষায় খুব বেশি পড়িনি।

শঙ্খ ঘোষ আর লিখবেন না, বলবেন না… এরচেয়ে বিষাদের আর কিছু হতে পারে না!

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box