শেষ কদমফুল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

নিঘাত কারিম

কর্কট কথা-৪

নিঝুমের কথা –      MD Anderson Cancer center –

অপারেশন থিয়েটার থেকে নিয়ে এসে আমাকে বেডে দেয়া হলো । এ্যানেশথিশিয়ার ঘোর কাটতে আমার একটু বেশী সময় লাগলো।

 কিছুতেই জ্ঞান ফিরছে না নার্স দুজন খুব চিন্তায় পড়ে গেলো । দুজন বলাবলি করছে এই পেসেন্টের জ্ঞান ফিরছে না কেনো ? এ্যানেশথিশিয়ার ডাক্তার কে call করতে হবে । ওরা যখন খুব উদ্বিগ্ন তখন আমি একটু একটু শুনতে পারছিলাম । আমাকে এত আদর করে কথা বলছে যে আমি অবাক হচ্ছিলাম । নার্সদের ব্যবহার যে এত ভালো হয় এসব হাসপাতালে না এলে জানতেই পারতাম না । এত অমায়িক , এত নরম সুরে কথা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া । নিজের হাতে গরম কফি বানিয়ে খাইয়ে দেয়া । আশ্চর্য হচ্ছিলাম ।কারণ কোনদিন কোনো নার্সদের এভাবে কথা বলতে দেখিনি । আমরা বাঙ্গালীরা অভ্যস্ত ওদের কাকের মতো কর্কশ সুরের সঙ্গে । ধমক দিয়ে বলবে , “এই কথা বলছেন না কেনো ? ঈশশ কি ঢং ! এত আহ্লাদ করতে হবে না !  উঠেন উঠেন। আপনাকে এখনি উঠতে হবে। একা একা গিয়ে ওখানে বসেন ।

পারবেন না কেন ? যান উঠেন আর ঢং করতে হবে না ।”

আর এখানকার নার্সরা আদর করে নরম সুরে বলে ,”Ohh my sweetie, ohh my baby  , can you hear me sweetie please wake up. We are waiting for you. Wake up baby.”

 এত আদর দেখে ইচ্ছে হলো আরেকটু আদর খেয়ে নেই তারপর answer করবো ।

আস্তে আস্তে আমি answer করলাম , Humm . Pain

মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, It’s okay dear , wake up sweetie, won’t you go home. Your babies are waiting.

বললাম , No I don’t, i don’t wanna go. বললাম কারণ তখনো আমার ঘোর কাটেনি এমন আদর মাখা কণ্ঠস্বর কাদের হতে পারে। ওরা কি ফেরেস্তা ? আমি কোথায় চলে এসেছি। আমি যাবো না কোথাও। আমার সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে আমি কোথাও যেতে চাই না।

ওরা বললো, “Okay don’t go . Stay with us . We will take care of you. We are super man . “

       একটু ঘোর কাটার পর সারাক্ষণ মনে হচ্ছিলো কি যেনো কামড় দিচ্ছে ।

বললাম , “ভাবী, ব্যথা । মশা কামড়াচ্ছে । “

নার্স অবাক হয়ে বললো , What she saying? ওরা আমার বাংলা কথা তো বুঝতে পারছে না । বুঝলে হাসতো আর আশ্চর্য হয়ে বলতো

What mosquito ? হয়তো মশার ভয়ে নিজেরাই অজ্ঞান হয়ে যেতো ।

ভাবী হেসে বলল, ,”Nothing, she is okay. Don’t worried about her thanks.”

ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কোলে করে শুইয়ে দিলো বেডে । কড়া করে কফি বানিয়ে ধরে খাওয়ালো খুব যত্ন করে । আমি ওদের ব্যবহারেই যেনো অর্ধেক ভালো হয়ে গেলাম ।

     ময়মনসিংহ  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল –

অপারেশন বেডে শুয়ে আছে বাচ্চা একটি ছেলে । ওর পা ভেঙ্গে গিয়েছে অপারেশন করতে হবে । ডাঃ তৃপ্তি ইনটার্নি করছে । পেসেন্টকে সে দেখাশুনা করছে আর সহকারী ডাঃ হিসেবে থাকবে এই অপারেশনের সময় । তৃপ্তি অপেক্ষা করছে সার্জনের জন্য । এ্যানেশথিশিয়ার ডাক্তার বাচ্চাটিকে কিছুতেই অজ্ঞান করতে পারছে না । বাচ্চাটি শুধু চিৎকার করছে আর বলছে ,

“বিক্কু খায়াম ,বিক্কু খায়াম ।”

ডাঃ তৃপ্তি কিছুতেই বুঝতে পারছে না বাচ্চাটি কি বলছে ! ও থামাতেও পারছে না । নার্সরা ধমক দিয়ে থামতে বলছে কিন্তু বাচ্চাটির একটাই কথা , “ বিক্কু খায়াম , বিক্কু খায়াম । “

শেষে উপায়ান্তর না দেখে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে বাচ্চার বাবাকে বললো , রোগী কি বলছে বুঝতে পারছি না আপনি একটু দেখেন ও কি বলে ? বাচ্চার বাবা শুনে তাড়াতাড়ি নাবিস্কো বিস্কিট এর একটা প্যাকেট এনে তৃপ্তির হাতে দিলো । বিস্কিট দেখে বাচ্চাটি চিৎকার থামালো । আর ডাক্তাররা ওদের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারলো । ডাক্তার তৃপ্তি ঢাকার মেয়ে ময়মনসিংহের এর ভাষা ও বুঝতে পারেনি আসলে বাচ্চাটি বিস্কিট খেতে চাচ্ছিল । “বিক্কু খায়াম “ হলো “বিস্কিট খাবো ।”

        আমি American দের সঙ্গে বললাম বাংলা , আর ছেলেটি বলেছিলো ওর আঞ্চলিক

ভাষা । দুজনের ভাষাই ছিলো দুর্বোধ্য ডাক্তার আর নার্সদের কাছে । ভাষার মতো দুই দেশের নার্স , ডাক্তারদের ব্যবহারেও অনেক পার্থক্য । আমাদের দেশের মেডিকেল এর নার্সদের ব্যবহার কি কোনদিন এমন অমায়িক হবে ?

কোনদিন কি ওরা রোগীর মাথায় হাত বুলিয়ে বলবে , “ কোন চিন্তা নেই আমরা আছি আপনার সাথে । We are Super man .”

ছবি: সজল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]