শেষ কদমফুল 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

নিঘাত কারিম

কর্কট কথা-এক.

বর্ষায় সবার ভীষণ পছন্দ কদম ফুল । রবি ঠাকুর তো কদম ফুলকে ভালোবেসেই লিখেছেন –

“ বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান

আমি দিতে এসেছি শ্রাবনের গান ।”

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে গাছে গাছে কদম ফুটে থাকে থোকা থোকা দেখতে এত ভালো লাগে । ঠিক যেনো গাছ ভর্তি ছোট ছোট হলুদ হলুদ বল । হাতে নিলে এত নরম তুলতুলে । আদর আদর । হলুদের উপরে সাদা সাদা চুলের মতো পাপড়ি । অদ্ভুত ভালো লাগা এই কদম ফুলে ।

নিঝুম ছোটবেলায় কত যে খেলেছে এই ফুল নিয়ে , বলটা কেটে রান্না রান্না খেলা । চুলগুলো ছিঁড়ে টাক্কু মাথা খেলা । কলম দিয়ে চোখ মুখ এঁকে মানুষের মতো মুখ করা ছিল একটা মজার খেলা ।

একদিন নিঝুম ছাদে দাঁড়িয়ে আছে বৃষ্টির পর । ছাদের কার্নিশে হেলান দিয়ে চারিদিক দেখছে । এত ভালো লাগে এই পরিবেশটা । মনটা শীতলতায় ভরে যায় । গাছগুলো বৃষ্টির জলে নেয়ে উঠে ঝকঝকে সবুজ হয়ে যেনো খুশীতে ঝলঝল করে হাসতে থাকে । এটা নিঝুমের   সবচেয়ে প্রিয় বৃষ্টি শেষে পিচ ঢালা রাস্তায় হাঁটা বা ভেজা ভেজা আবহাওয়ায় ছাদে সময় কাটানো । বাড়ির সামনের রাস্তাটায় সারি সারি কদম গাছ । ফুলে ভরে আছে । বৃষ্টি ভেজা কদম এত সুন্দর ! কিন্তু কোথা থেকে যেনো ইউরিনের গন্ধ আসছে ও দাঁড়াতে পারছে না নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে । এত সুন্দর পরিবেশ কিন্তু এত বাজে গন্ধ ! ও সরে আসলো । ছাদে হাঁটছে আর ননদ  শানুর সঙ্গে গল্প করছে । গন্ধটার কথা বলতেই শানু হাসতে হাসতে বললো, “যত সুন্দর কদম ফুল হোক না কেন ওর মধ্যেই এই পচা গন্ধটা বৃষ্টির পর চারিদিকে ছড়িয়ে যায় ।” নিঝুম অবাক হলো তারমানে কদম ফুলের গন্ধ এত খারাপ । সব সময় জানে ফুলের গন্ধ সুন্দর গন্ধ । ও নিজেকে কখনো ফুল ভাবে না । ফুলের বুকের সৌরভ হতে ওর ভালো লাগে । সৌন্দর্য তো সবার জন্য। সৌরভ মনের গহীনের ভালো লাগা আর মন ভালো করার জন্য । সুন্দরের ভিতরে এত কুৎসিত গন্ধ লুকিয়ে থাকে  ওর জানা ছিল না ।

অনেকদিন পর । নিঝুম এখন চল্লিশের কোঠায় । বসে আছে চুপ করে চিন্তিত মুখ । পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে চারিদিক । কোথাও এক ফোঁটা ও কালো দাগ নেই । একটা ওয়েটিং রুম । মনের ভিতরে ভীষণ তোলপাড়। কি হবে ? রুমে অপেক্ষেয়মান ওরা তিনজন । তিনজনের পরনেই সাদা ধবধবে  হাসপাতালের পোশাক । ওর সামনে বসে আছেন দুজন ভদ্র মহিলা একজন আমেরিকান অন্যজন চাইনিজ । দুজন অত্যন্ত মুমূর্ষু । মাথাটা দেখে কদম ফুলের কথা মনে পড়ল ।  চুলগুলো সাদা সাদা কদম ফুলের মতো । ক্যামো দেয়াতে আজ মাথার অবস্থা কদম ফুল । আশ্চর্যজনকভাবে ঠিক তেমনি দেখাচ্ছে । দুজনের মাঝখানে টবে সবুজ সতেজ একটি গাছ । গাছটি যেনো তার বুকের ভিতর থেকে অক্সিজেন দিয়ে বলছে কোন ভয় নেই তোমরা বেঁচে উঠো  আবার নব উদ্দ্যমে জীবন শুরু করো । নিঝুমের মাথায় একরাশ ঘন কালো চুল । সে অপেক্ষা করছে আজ তার কিছু মেডিকেল চেকাপ হয়েছে । বসে আছে আরো অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে । ডাক্তাররা কিছু একটা সন্দেহ করছেন পরীক্ষার পর রিপোর্টে  কি আসবে ? তার ও কি মেঘ কালো চুল এমন কদম ফুল হয়ে যাবে ? শরীর থেকে বের হবে পচা কোন গন্ধ । তার কি দিন ফুরিয়ে এসেছে । মনে মনে বলছে –

“আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদল সাঁঝে ,

গগনে  গগনে গভীর মৃদল বাজে ।”

সত্যি কি তার যাওয়ার মৃদল বেজে উঠবে ? শুনতে কি পাবে শেষ শঙ্খ নিনাদ । নাকি সবুজ গাছটির সতেজতা নিয়ে সে বেঁচে থাকবে আরো অনেকদিন জীবনকে ভালোবেসে সবার সাথে সুস্থ সবল হয়ে।(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]