শেষ কদম ফুল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

নিঘাত কারিম

কর্কট কথা – ৭ পর্ব

জীবন সে তো এখন শুধুই জীবন। টিমটিমে এক পুরোনো  আলো । মৃদু হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠছে । নিভু নিভু স্বল্প আলোয় আলোছায়ার লুকোচুরি খেলা । কখনো উজ্জ্বল কখনো ম্লান।

          নিঝুম এখন এক সেঁজুতি। দুত্যিহীন এক সন্ধ্যা প্রদীপ। তেলটুকু  ফুরিয়ে গেলে বা কোন দমকা হাওয়ায় দপ করে নিভে যাবে । প্রতিটি ভোর তার জন্য নতুন  জীবন।  শুকরিয়া করে বেঁচে থাকার জন্য। প্রতিটি নতুন সূর্য , নতুন দিন তার জন্য নতুন পাওয়া। ভোরে টের পায় মুনীরের হাত । ওকে ছুঁয়ে দেখছে বেঁচে আছে তো ! চুপ করে চোখ বন্ধ করে নিঝুম শুয়ে থাকে মুনীরের কষ্টটা টের পায় । এতো ভালোবাসা এতো মায়া ঘেরা জীবন । যেতে ইচ্ছে হয় না । এখন এই জীবন  টলমল  এক জীবন ‌ জীবনকে ফিরে পেয়ে ও তার মৃত্যুর জন্য প্রতিদিনের প্রস্তুতি ।

          ডাক্তার শেঠী এখন প্রতি সপ্তাহে রুটিন চেক আপ করছে । প্রতি মাসে একজন RN বাসায় এসে   দেখে যাচ্ছে । নিঝুমকে বাঁচিয়ে রাখার নিরন্তর চেষ্টা ওদের , এমন  সব  করছে যেনো কিছুতেই মরতে দিবে না। রেডিয়েশনের তীব্রতায় অংশবিশেষ পুড়ে দগদগে ঘা । যেনো কেউ এক মগ গরম পানি ঢেলে দিয়েছে। পোড়া অংশ শুকনোর জন্য চলছে আলাদা ট্রিটমেন্ট। ওফফ্ কি যে কষ্ট ,কি যে যন্ত্রণা ! আর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।

এতো কষ্টের পর ও বেঁচে থাকার আকুতি । রেডিয়েশন পর্ব চললো  দুমাস ধরে শেষের দিকে আর সহ্য করার মতো ছিলো না । কী যে অসহ্য কষ্ট । ভীষণ তেষ্টা ! পৃথিবীর সব ঠাণ্ডা পানি খেয়ে ফেললেও সে তেষ্টা মিটবার  নয় । গ্যালন গ্যালন জুস খেয়ে ও ভেতরে অসহ্য আগুনের তাপ। এখন একটা করে ঔষধ খেতে হচ্ছে প্রতিদিন। হরমোন এর জন্য । শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখবে। মেটাবলিজম ঠিক থাকলে ক্যান্সার আর বিস্তার লাভ করতে পারবে না । কিন্তু এই ঔষধ শরীরকে নিস্তেজ করে রাখে ।

ক্লান্ত করে  ঘুম পাড়িয়ে দেয় । তারমানে যতোদিন বাঁচবে নিঝুম ততোদিন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বাঁচবে ? জীবনের আয়ু তো প্রায় শেষ যে কদিন  বাঁচবে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না । কতো কাজ এখনো বাকি ! কতো কি করা হয়নি ! বেঁচে থেকে মানুষ বোঝে না তার করণীয় কি ? কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বোঝা যায় কি করা হয়নি । মুত্যুর দ্বার থেকে যে ফিরে এসেছে সেই বোঝে জীবন কতো সুন্দর আর মৃত্যু কতো ভয়ঙ্কর।  নিঝুম ভাবে , এসব ঔষধ খাবো না , সব ফেলে দিবো । আমি আগের মতো ঝটপট কাজ করবো , হাসবো ,কথা বলবো । এরকম ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে বাঁচা ? সে হবে না । কথা বলতে পারছে না জিভে আটকে যাচ্ছে। কোন কাজ করতে যেয়ে হাঁপিয়ে যাচ্ছে । উফফ্ এমন ভাবে বাঁচা ? অসম্ভব। কিন্তু শাইয়ূ ! ওর কি হবে ? ঔষধ না খেলে ক্যান্সার জেকে বসবে মৃত্যু তখন অনিবার্য।  বড় জোর এক বছর সময় হাতে থাকবে। কিন্তু শাইয়ুর জন্য ওর আরো বাঁচতে হবে দশ বছর । পারবে কি এতদিন বাঁচতে‌ ? দেবে কি আল্লাহ ওকে দশ বছর । ছেলেটার দিকে তাকাতেও ভয় হয় । ওর মায়াভরা মুখটা ! ভেবেছিলো এই বাচ্চাটাকে কখনো  কোন কষ্ট পেতে দিবে না । কিন্তু …..(চলবে)

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box