শৈশবটা মনমরা হয়ে বসে আছে

সুমন সুপান্থ

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

 আমার স্কুল। আমার ভাঙা দালান। মাঠের পরে মরা খাল। পেরিয়ে এসে মাটির পথ। নি:সঙ্গ। একহারা। তার শিয়রে কাঠের জানালার অভিমান। কোমল বাতাস গায়ে এসে লাগলে বুঝি কাছেপিঠে শৈশব বসে আছে কোথাও মন খারাপ করে। জীর্ণ দালানের পাশে দুই দুইটা নতুন বিল্ডিং। মধ্যদিনের ঘন্টা পড়লো। ঢং ঢং। শ’তিনেক বাচ্চা হুল্লোড় করে বেরিয়ে এলো। ছুটলো দিগ্বিদিক।

এক টাকায় একটা নারকেল লাগানো মালাই আইসক্রিম কেনা যেতো তখন। আরেক টাকায় একটা জোড়-বিস্কুট কিংবা প্যাটিস। দুই টাকার টিফিন। টাই ঝুলানো কিণ্ডার গার্ডেনের স্মৃতি নেই আমাদের। ইউনিফর্ম রাঙানো, খাঁচায় উঠে স্কুলে যাওয়া নেই। নিখাদ গ্রামীন মধ্যবিত্ত ছেলেবেলা।

মাঠের দিকে দেখি। একবার দেখি পুরোনো স্কুলঘর। পরিত্যক্ত। দরজায় তালা লাগানো। ছাত্রছাত্রীরা নতুন স্কুলঘরে। আমি জানালা দিয়ে পুরোনো স্কুলে ঢুকি। শিক্ষকেরা, বাচ্চারা অবাক হয়ে আমার পাগলামি দেখে। বিস্মিত হয়। হাসে। আমি দেখি হেডস্যার পড়াচ্ছেন যতীন্দ্র মোহন বাগচীর কবিতা। রাগী সামসু স্যার সপাংসপাং বেত পেটাচ্ছেন শুন্য টেবিলে। তাতেই আমাদের আত্মারাম খাঁচা! পরীক্ষায় বসে রুমেলকে কলম দিয়ে খোঁচাচ্ছি ___ ” বল্ না এই প্রশ্নের উত্তর কি?” কে দিবে উত্তর! উল্টো ধমক খাচ্ছি। আমি আবার পরদিন বলছি না শব্দার্থ ওকে। কি করে বলি! আমি-রুমেল-দিলওয়ারা। ফার্স্ট বয়ের মিউজিক্যাল চেয়ারের জন্য দৌড় চলেছি পাঁচ পাঁচটি বছর। সাথী শুভ্রার গল্প বলতে হবে আলাদা করে। স্কুলে থাকতেই ওরা চলে গিয়েছিলো ইণ্ডিয়া। নৃপেন- কৃপেন দুই ভাই। আমরা খেপাতাম কৃপণ বলে। শাহ্ আলম। রূপিয়া। ইয়াসমিন। সাহেদ। কতো নাম! আর মনে পড়ে না।

ভাঙা জানালা ছুঁই। বন্ধ দরজা হাতড়ে ফিরি। পড়ো পড়ো খিলান ধরে দাঁড়িয়ে থাকি কিছুক্ষণ। কান লাগাই। ভেতর ভিজে টলটল করছে। ধুলোবালি, কালিঝুলিতে শৈশবটা মনমরা হয়ে বসে আছে। আমি বলি, আয় আয়। তার ভীষণ অভিমান হয়। তখন আমার জগতকে ডেকে এনে দেখাতে ইচ্ছে করে ____ নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ/ প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ/ এ আমারই সাড়ে তিনহাত ভূমি।

ছবি: লেখক