শো মাস্ট গো অন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চার্লি চ্যাপলিনের জীবন যেন নানান রঙের আলো। সিনেমার পর্দায় যে মানুষটি কালো কোট, প্যান্ট পরে, মাথায় কালো টুপি দিয়ে আর হাতে একটা ছড়ি নিয়ে নানান অঙ্গভঙ্গিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন হাসি আর কান্নার ফোয়ারা তাঁর জীবন-পর্দার আড়ালে রয়ে গেছে বহু বেদনার গল্প। জীবন যেমন পুড়িয়েছে পৃথিবীর এই অসাধারণ অভিনেতাকে তেমনি তাকে ভেঙেছে ভালোবাসার যন্ত্রণা।

জীবনে একের পর এক প্রেমে পড়েছেন চ্যাপলিন। কিন্তু সেই ভালোবাসা জীবনে স্থায়ী হয়নি। কিন্তু প্রেমিকাদের সেই ভিড়ের মাঝে তিনি ভুলে যাননি প্রথম ভালোবাসা

হেনরিয়েটা কেলি

। স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু কবলিত হয়ে কেলি প্রাণ হারিয়েছিলেন তরুণ বয়সে। আর সেই মৃত্যুর খবর চ্যাপলিনের কাছে এসে পৌঁছেছিলো তিন বছর পরে।কেলিকে হারানোর বেদনায় কেঁপে উঠেছিলেন সেদিন চার্লি চ্যাপলিন।

তখনও মঞ্চে মঞ্চে অভিনয় করছেন চ্যাপলিন। সেই সূত্রেই ১৯০৮ সালে স্ট্রেথাম এম্পায়ারে ফ্রেড কার্নো’র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। ‘মামিং বার্ডস’ নাটকে একজন মাতালের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ওই নাটকেই একটি ডান্স ট্রুপে ছিলেন হেটি কেলি। নাটকের সূত্র ধরে বার পাঁচেক দেখা হয়েছিলো তাদের। কথা হয়েছিলো হয়তো সব মিলিয়ে ২০ মিনিট। কিন্তু তখনই হেটির সৌন্দর্য আরি স্নিগ্ধতার মায়ায় জড়িয়ে যান চার্লি চ্যাপলিন। তখন তাঁর বয়স ১৯, হেটির ১৫…।

আত্মজীবনীতে চ্যাপলিন লিখেছেন, হেটি কেলিই তাঁর জীবনের ‘প্রথম সত্যিকারের প্রেম’ ছিলো। কোনোদিনও ভুলতে পারেননি তাঁকে। ভালোবেসে সেই মেয়েটিকেই বিয়ের প্রস্তাব দেন চ্যাপলিন। কিন্তু হেটি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। সেদিনই বেদনায় ভেঙে গিয়েছিলেন তিনি। হেটিকে বলেছিলেন, তিনি চান দু’জনের আর দেখা না-হোক।  সেটাই বোধহয় সবচেয়ে ভালো হবে। রাজি হয়েছিলেন হেটি। ভালোবাসার আঘাতে বিক্ষত হলেও হেটি’র স্মৃতি আগলে রেখেছেন চিরকাল।

কিন্তু তারপর হেটি কোথায় গেলেন? সে অধ্যায়ও ছিলো আরেকটি বিয়োগান্তক নাটক। ২১ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন লেফটেনেন্ট অ্যালান এজার হোরনে-কে। লন্ডনেই চলছিলো তাঁদের সংসার। এমন সময় এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেসব কেটে যাওয়ার পর, আমেরিকা ও গোটা ইউরোপে থাবা বসালো স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা ফ্লু । রীতিমতো মহামারীর আকার নিল সেই রোগ।  রোগে আক্রান্ত হলেন হেনরিয়েটা  কেলিও। ১৯১৮ সালে মারা যান তিনি।

এই ঘটনার তিন বছর পর চার্লি চ্যাপলিনের কাছে এই মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। সেদিন কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন চ্যাপলিন। হয়তো চির বিচ্ছেদের বেদনা তছনছ করে দিয়েছিলো তার হৃদয়। কিন্তু শিল্পীর তো থেমে গেলে চলে না। তার তো একটাই মূল মন্ত্র-দ্য শো মাস্ট গো অন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ প্রহর
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box