সত্যজিৎ রায়ের সেই বইয়ের দোকান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সত্যজিৎ রায় ম্যাগাজিন আর বইয়ের খোঁজে যেতেন ছোট্ট সেই বইয়ের দোকানটিতে। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতেন তিনি ওই দোকানে পত্রপত্রিকা ঘাটাঘাটি করে।সেখানে পত্রপত্রিকা কিনতে আসতেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। আসতেন কলকাতা শহরের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী চলচ্চিত্র নির্মাতারা। কলকাতা শহরের প্রায় কেন্দ্রে বিলুপ্ত লাইটহাউজ সিনেমা হলের উল্টোদিকে প্রায় ৭৫ বছর ধরে টিকে থাকা এই দোকানটি এই করোনাকালে তার শাটার চিরকালের জন্য বন্ধ করলো।

এখন দোকানটা চালাতেন গোপাল তেওয়ারী। তার বাবা মোহন তেওয়ারী বইয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন ৭৫ বছর আগে। গোপাল তেওয়ারী নিজেও সত্যজিৎ রায়কে দেখেছেন এই দোকানে। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি পত্রপত্রিকা আর বই নাড়াচাড়া করতেন। কখনো কখনো সেখানে বসেই বই পড়তেন। গোপালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সত্যজিৎ রায়ের ‘আওয়ার ফিল্মস, দেয়ার ফিল্মস’ বইটা প্রকাশের পর মজার ঘটনা ঘটেছিলো। বইটা বাজারে আসার পর কেউ রটিয়ে দিয়েছিলো সত্যজিৎ রায় ওই দোকানে দাঁড়িয়ে বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। ব্যাস, বিশাল লাইন পড়ে গিয়েছিলো দোকানের সামনে সেদিন। শত শত কপি বই বিক্রি হয়েছিলো। সত্যজিৎ রায় অবশ্য সেদিন দোকানে উপস্থিত ছিলেন না।

আলোচিত দোকানটি শেষ আলোর মুখ দেখলো গত মার্চ মাসে। দোকানের দুর্মূল্য বই আর ম্যাগাজিন কম দামে বিক্রি করে দেয়া হলো। মালিকদের কথা হচ্ছে, অনলাইনের যুগে কেউ আর দোকানে বই কিনতে আসে না। বিগত কয়েক বছর ধরেই তাদের ব্যবসা খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছিলো। তারপর এলো করোনার এই দুঃসহ সময়। বইয়ের ক্রেতারা সবাই উধাও। তাদের পক্ষে আর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ টাইমস অফ ইন্ডিয়া
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box