সফদার ডাক্তারদের গল্প

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

কোভিড-১৯ এর বিভীষিকা ছড়িয়ে যাবার পর থেকে কত দেশে কত রকম টোটকা বের হচ্ছে, কেউ গোমূত্রের বিস্ময়কর ক্ষমতার কথা ছড়াচ্ছেন, কেউ জীবাণুনাশক দিয়ে শরীরের ভিসেরা সাফ-সাফাই করে ফেলছেন, কেউ কালিজিরা আর থানকুনির বংশনাশ করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং বাতলেছেন করোনা-নিরাময়ের উপায়, তিনি বলছেন ডিসইনফেক্ট্যান্ট খেয়ে ফেলার কথা কিংবা আলোকরশ্মি দেহে প্রবেশ করাবার কথা। বিপত্তারণকালে গ্রাম্য বৈদ্য বা ওঝাদের চেয়ে কেউ কিছু কম যান না। সরকারের অসমর্থন এবং হুঁশিয়ারির পরও খোদ লন্ডনে চলছে এইসব ভাঁওতাবাজি।

দক্ষিণ লন্ডনের ক্যামবারওয়েলের ‘কিংডম চার্চ’এর বিশপ ক্লাইমেট ওয়াইজম্যান এক বোতল বিপত্তারণ তৈল আর একগাছি লাল সুতো সম্বলিত একটি প্রটেকশন-কিট বিক্রি করে চলেছেন এই বলে যে এই তেল করোনা সারায়। শুধু তেলের দাম সত্তুর পাউন্ডের মতন, আর কিটটার দাম একানব্বই পাউন্ড, এরই মধ্যে প্রায় দু’হাজার কিট বিক্রি হয়েছে। গীর্জা কর্তৃপক্ষ বলছেন তাঁরা বিশপ ওয়াইজম্যানের এই ‘ডিভাইন ক্লিনজিং অয়েল’ এর ক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত। চ্যারিটি কমিশন ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত চালায় এবং পরবর্তীতে উদ্বেগ প্রকাশ করে, জবাবে গীর্জা কর্তৃপক্ষ নাম বদলে এই তেল বিক্রি করা অব্যাহত রাখে।

বিবিসি লন্ডন থেকে ক্রেতার ছদ্মবেশে অনুসন্ধান করে জানা যায়, গীর্জা থেকে বলা হচ্ছে এই তেল এমন করে করোনা সারায় যে পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবারও প্রয়োজন হয় না, কাজে ফিরে যাওয়া যায়, তবে কাজের জায়গায় দেখিয়ে দেখিয়ে যেন তেলসেবকরা কিছুটা হলেও দূরত্ব বজায় রাখেন নইলে লোকে সন্দেহ করবে। সাদার্ক কাউন্সিলের ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস এখন ব্যাপারটা নিয়ে তদন্ত করছে।

করোনার ভয়ে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য মানুষ, সেই মানুষকে তার দুঃসময়ে ঠকাবার লোকের অভাব নেই। মানুষই মৃত্যুভয়ে ভীত মানুষকে এমন অমানবিকভাবে ঠকাচ্ছে, এ নিয়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা আর হুঁশিয়ারির অন্ত নেই, তবু ঠেকানো যাচ্ছে না।

অল্পবয়সে প্রত্যন্ত গ্রামের কবিরাজের দাওয়াইয়ের ভয়ানক সব গল্প শুনেছিলাম, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক হওয়া শিশুকে সেই জলাতঙ্করোগগ্রস্ত কুকুরটির যকৃত খাইয়ে দেবার গল্প। পাঠ্যবইয়ে পড়েছি এমন কোয়াককে নিয়ে ছড়া, যার নাম ছিল সফদার ডাক্তার, রোগীর ‘ম্যালেরিয়া হলে পরে নাহি কারো নিস্তার, ধরে তারে কেঁচো দেয় গিলিয়ে’। কিন্তু শেষটা ভারী স্বস্তিকর, ‘হাতকড়া দিয়ে হাতে, নিয়ে গেল চাষাড়াতে, তারিখটা আষাঢ়ের উনিশে’। আষাঢ়ের উনিশ আসবার আগে এইসব হাতুড়েরা ধরা পড়ুক, কারাবন্দী হোক, করোনার অতিমারীতে বিপর্যস্ত এ পৃথিবীতে যারা মানুষের মৃত্যুভয়- প্রিয়জনকে নিয়ে উদ্বেগ ইত্যাদি নিয়ে খেলা করে— তারা শাস্তি পাক। তাদের হাতে পড়ে ‘কেহ যেন দুঃখভোগ না করে’।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]