সবই নয় অভিনয়!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চলচ্চিত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে কী শুধুই অভিনয় করে যান? নাকি পরিচালক,ক্যামেরা আর উজ্জ্বল আলোর সামনে কখনো তারা জড়িয়ে যান আসল শরীরী সম্পর্কে? এরকম ঘটনা হলিউডি ছবির দুনিয়ায় বেশ কয়েকবার ঘটেছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা  শরীরের নকল ভাষায় অভিনয় করতে করতে অজান্তেই নিজেদের স্থাপন করে ফেলেন আসল শারীরীক সম্পর্কের মাঝে। অভিনয় বাঁক নেয় বাস্তবে।
হলিউডে বেশকিছু ছবি এরকম ঘটনার জন্য আলোচনায় উঠে এসেছে। পাত্র পাত্রীরা নানা কথার আবরণ দিয়ে ঘটনাটাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওই যে পুরনো একটা কথা আছে-শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। এসব ক্ষেত্রেও সত্য হয়েছে পুরনো প্রবাদ। প্রবল সংবাদের বিষয় হয়ে উঠেছেন তারা।

অল অ্যাবাউট আনা (২০০৫)
বেশীদিন আগের কথা নয়। ২০০৫ সালে তৈরী হয়েছিল ‘অল অ্যাবাউট আনা’ ছবিটি। পরিচালক জেসিকা নেলসন। ছবিতে অভিনেতা, অভিনেত্রী ক্যামেরার সামনে আসল শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করে ফেললেন। শুরু হয়ে গেল গুঞ্জন। পশ্চিমা দুনিয়ায় এ ধরণের ঘটনা খুব বড় ব্যাপার না হলেও সিনেমার পর্দায় বিষয়টা একটু বেশী আলোড়নের জন্ম যে দেয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেন্সর বোর্ড কাঁচে হাতে তৈরী। ছেটে ফেলতে হবে এসব আপত্তিকর দৃশ্য। কিন্তু প্রতিবাদ জানালেন পরিচালক। তার কথা হচ্ছে, ছবির এসব দৃশ্য কাটা পড়লে গল্পটাই নষ্ট হয়ে যাবে। অনেক বাদানুবাদের শেষে দৃশ্যগুলো থেকে যায়। বাজার মাৎ করতে না পারলেও অন্যভাবে আলোচিত হয় ‘অল অ্যাবাউট আনা’।

ক্যালিগুলা (১৯৭৯)
‘ক্যালিগুলা’ চলচ্চিত্রের ইতিহাতে নানা কারণেই বিখ্যাত হয়ে আছে।চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে এটি বারবার দেখার মতো একটি সিনেমা। রোমান সাম্রাজ্যের কুখ্যাত সম্রাট ক্যালিগুলার উত্থান-পতনের কাহিনি নিয়ে তৈরী হয়েছে সিনেমাটি।সে সময়ের রোমান সম্রাটদের লালসা, ভোগ আর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কুশ্রী ইতিহাস বন্দী হয়েছে সেলুলয়েডে। এসব তথ্য সবারই জানা।কিন্তু একটি বিষয় বোধ হয় জানা নেই যে, এই ছবিতে ব্যাপক যৌনাত্নক দৃশ্যগুলো সবই বাস্তব। অর্থাৎ ছবির নট-নটিরা সবাই ক্যামেরার সামনে আসল শারীরীক মিলনে অংশ নিযেছিলেন।

৮এমএম (২০০৫)
২০০৫ সালে তৈরী হয়েছে ‘৮এমএম’ সিনেমাটি। রাজনৈতিক নেতার যৌনদৃশ্য গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কাহিনি হচ্ছে এ ছবির মূল বিষয়। ছবিতে এক হাঙ্গেরিয়ান পতিতার সঙ্গে সেই নেতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের শারীরীক সম্পর্ক স্থাপনের দৃশ্যগুলোই এক অপরাধী গোপনে ক্যামেরাবন্দী করে। তারপর শুরু হয় অন্য খেলা।
এই সিনেমায় যৌন দৃশ্যের আধিক্য রয়েছে। হলিউডের গুঞ্জন হচ্ছে, ছবিতে এ ধরণের সব দৃশ্যই আসল। সেখানে পাত্র পাত্রীরা কেউ অভিনয় করে নি।

বেসিক ইনস্টিংট (১৯৯২)
অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন আর তার শরীরী আবেদনের চুম্বক আকর্ষণের গল্প ‘বেসিক ইনস্টিংট’। ১৯৯২ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা নড়েচড়ে বসেছিলেন শ্যারন স্টোনের উত্তাপ ছড়ানো অভিনয় দেখে। সিনেমায় শ্যারনের সহ অভিনেতা ছিলেন অভিনেতা মাইকেল ডগলাস। তিনিও কিন্তু কম যান নি। শ্যারন স্টোনের সঙ্গে বিষ্ফোরক শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে বাস্তব রসায়নে পিছলে পড়েছিলেন তিনি। অনেকে বলেন, বিষয়টা মোটেই পা পিছলে যাওয়া নয়। মাইকেল ডগলাস আর শ্যারন স্টোনের সম্মতিতেই ঘটেছিল এমনটা।

ফ্যাক্টরি গার্ল (২০০৬)
শিনা মিলার আর হাইডেন ক্রিস্টেনসেনের ছবি ‘ফ্যাক্টরি গার্ল’। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ছবিটি ছিল অসফল। কিন্তু সে ক্ষতি পুষিয়ে গেছে অন্যদিক দিয়ে। দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী সত্যি সত্যি শয্যাদৃশ্যে অংশ নিলে হলিউডে ব্যাপক আলোচনার বিষযে পরিণত হয় এই ছবি। অবশ্য ছবির নায়িকা পুরো ঘটনাটাকে কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এ ধরণের কোন ঘটনাই শু্টিংয়ে হয় নি। তবে কথা যখন উঠেছে তখন তিনি সমালোচনাকে তার অভিনয়ের পুরস্কার হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

ডোন্ট লুক নাও (১৯৭৩)
সত্তরের দশকের খ্যাতিমান অভিনেত্রী জুলি ক্রিস্টির সঙ্গে তখন তুমুল প্রেম চলছে অভিনেতা ওয়ারেন বেটির। কিন্ত ‘ডোন্ট লুক নাও’ ছবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ডোনাল্ড সাদারল্যান্ডের সঙ্গে এক গভীর প্রেমঘনিষ্ট দৃশ্যে অভিনয় করার পর গুঞ্জন শুরু হয়। বিষয়টা এতোদূর পর্যন্ত গড়ায় যে ওয়ারেন বেটি প্লেনে চেপে সোজা গিয়ে হাজির হন শ্যুটিং লোকেশনে। সেখানে তিনি পরিচালকের সঙ্গে দরবার করেন দৃশ্যটা সিনেমা থেকে বাদ দিতে। পরিচালক অবশ্য বেটির দরবারে মোটেও কর্ণপাত করেন নি।

দ্য গেটওয়ে (১৯৯৪)
কিম বেসিংগার আর অ্যালেক বল্ডউইনের প্রেমকথা হলিউডে সবারই জানা ছিল একটা সময়ে। এই দুই অভিনেতা-অভিনেত্রী চুটিয়ে প্রেম করতেন। এরই মধ্যে তারা অভিনয় করলেন ‘গেটওয়ে’ ছবিতে। সেখানেও ছিল এক বাষ্প ছড়ানো শয্যাদৃশ্য। ব্যস, দুজন বাস্তব জীবনের মতো ক্যামেরার সামনেও অংশ নিলেন শরীরী রসায়নে। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল। ছবিটিও ব্যবসা সফল হয়েছিল এই শোরগোলের কারণেই। ওই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার সময় উপস্থিত পরিচালক আর টেকনিশিয়ানরা বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলেন।

পারফর্মেন্স (১৯৭০)
‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ডের মিক জ্যাগার। দুনিয়াশুদ্ধ সবাই চেনে এই গায়ককে। হঠাৎ করেই মিক জ্যাগার অভিনয় করলেন ‘পারফর্মেন্স’ নামে এক ছবিতে। সঙ্গে অভিনেত্রী, মডেল অ্যানিটা পেলেনবার্গ। সে ছবির স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এই দুই চরিত্রের জন্য ছিল একটি শয্যাদৃশ্য। অ্যানিটা আবার তখন রোলিং স্টোন ব্যান্ডের আরেক সদস্য কিথ রিচার্ডসের সঙ্গে প্রেমে পড়েছেন। কিন্তু তাতে এই শয্যাদৃশ্যে অভিনয় থেমে থাকে নি। ছবির সেটে উপস্থিত সকলের বক্তব্য ছিল তারা দুজন খুব অবলীলায় অভিনয় করেছিলেন দৃশ্যটিতে। কিন্তু উপস্থিত লোকজন সাক্ষ্য দিয়েছিল যে তারা দুজন অভিনয় করতে করতে সত্যি সত্যি ডুবে গিয়েছিলেন অন্য এক জগতে।

বোলেরো (১৯৮৪)
বো ডেরেক ছিলেন হলিউডের এক বিষ্ফোরক অভিনেত্রী। সাহসী ছবি আর লাগামহীন কথাবার্তা খুব অল্প সময়ে তাকে পরিণত করে সংবাদ শিরোনামে। ১৯৮৪ সালে ‘বোলেরো’ ছবিতে বেশ একটু বেশী খোলামেলাভাবে উপস্থিত হন বো ডেরেক। দুর্জনেরা বলে থাকেন, ওই সিনেমায় বিভিন্ন যৌন দৃশ্যগুলো ছিল একেবারেই বাস্তব। বো এ বিয়টি কখনো অস্বীকারও করেন নি। তবে এখানে আরেকটি খবর না দিলেই নয়, বোলেরো ছবির পরিচালক কিন্তু ছিলেন বো ডেরেকের স্বামী জন ডেরেক।

বিনোদন প্রতিবেদক
তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]