সবুজ হাওয়া…

আহমেদ মুশেফিকা নাজনিন

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

চেরী ফুলের দেশ জাপান। সুর্যোদয়ের দেশ জাপান। আমার মতো একটু নাক বোঁচা, চোখ ছোট মানুষের দেশ জাপান। সেই দেশের এক শিক্ষক করলেন অদ্ভুত কান্ড। গাছদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা বাড়ানোর জন্য তিনি এক কাজ করলেন। দুই টবে দুটো ফুলের গাছ লাগালেন শিশুদের দিয়ে। একই প্রজাতির,একই বয়সের গাছ। এবার বক্স দিয়ে ঘিরে দেয়া হলো গাছগুলো। শুধু সেই টব দু’টির এক পাশ জানালার মতো খোলা রাখা হয়। শিক্ষক এবার শিশুদের বললেন প্রতিদিন গাছগুলোর সঙ্গে কথা বলতে। তবে শর্ত হলো, এক গাছের সঙ্গে কথা বলতে হবে ধমক দিয়ে। অন্য গাছের সঙ্গে কথা বলতে হবে সুন্দর করে, ভালোবেসে।
কথামতো শিশুরা প্রতিদিন বক্সের খোলা পাশ দিয়ে এক গাছকে ধমক দিয়ে কথা বলে। অন্য গাছকে শোনায় গান আর নানা গল্প।এক মাস পর। গাছ দুটোর বক্স খোলা হয়।
যে গাছকে ধমক দিয়ে কথা বলা হয়েছিলো দেখা যায় সেই গাছের পাতা হলুদ বিবর্ণ। জীর্ন র্শীন হয়ে নুয়ে পড়েছে। আর যে গাছটাকে বলা হয়েছিলো সুন্দর সুন্দর কথা। শোনানো হয়েছিলো গান। সেই গাছের পাতা হয়েছে সবুজ সতেজ। বেশ কিছু নতুন ডালপালা হয়েছে তার।
গল্পটা আমি শুনেছিলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে। শুনে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে সেই শিক্ষকের প্রতি।
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বলে গেছেন গাছের প্রাণ আছে। আহা প্রাণ! সেই প্রাণে কত যে ব্যথা। আমাদের দেশে গাছের ডালে ডালে ঝুলতে থাকে পোস্টার, পেরেক, তার। ধুলো পরে সবুজ পাতা ধুসর হয়। পেরেকের যন্ত্রনায় পাখি বসে না ডালে। দড়ি বেঁধে শিশুরা খায়না দোল। দেবদারু শিরিষ বড় হতে হতে হয়ে যায় বনসাই। চামেলীবাগে যে বাসায় থাকতাম। তার ছাদ জুড়ে ছিলো অনেক গাছ। ছোট ছোট বাচ্চারা খেলতে যেয়ে প্রতিদিন গাছের পাতা, ফুলের কুঁড়ি সব ছিঁড়ে ফেলে। সব বিচ্ছু বাহিনী। মহা সমস্যা। পাতা বাড়তেই পারেনা। একদিন ওদের ডাকলাম। বললাম পাতা ছিঁড়লে গাছদের ব্যথা লাগে জানো ? ওরা ঠোট বেকিয়ে, চোখ বড় বড় করে শোনে। কেউ বা খিলখিল করে হাসে দুষ্টমির হাসি। আমি মুগ্ধ। আদর করে বললাম, আর ছিঁড়োনা কেমন ? মাথা দুলে সব চলে যায়। আমিও আত্মতৃপ্তির ভাব নিয়ে বাসায় চলে যাই। ওমা ! পরদিন যথারীতি আবারও পাতা ছেঁড়া। ওদের দলনেতা আলিফ নামের এক ফুটফুটে শিশু। কথা কম বলে। কিন্তু অনুমানে বুঝলাম সব দুষ্টু কাজ উনিই করেন। এবার ওকেই আগে হাত করার চেষ্টা করলাম। হুমম আমিও কম না ! বললাম, এই যে পাতাটা ছিঁড়েছো দেখো ও কান্না করছে। গাছটা দিয়ে তখনও কষ বেরোচ্ছিলো। ও একটু অবাক হয়। ভুরু কুঁচকে তাকায়। হাত দিয়ে ধরে। এবার বাগে পেয়েছি বাছাধনকে। বললাম তোমার ছোট ভাই খামচি দিলে তোমার ব্যাথা লাগে না? মাথা ঝাঁকায়, লাগে তো। তাহলে তুমি যখন পাতা ছেঁড়ো আমার গাছেরও তেমন ব্যাথা লাগে। বুঝেছো ?
আলিফ কিছু না বলে দল নিয়ে চলে যায়। এরপর কয়েকদিন ছাদে যেয়ে দেখি আমার সব গাছের পাতা ঠিক আছে। কুঁড়ি গুলোয় একটু একটু করে ফুল ফুটছে। কিন্তু অবাক কান্ড এবার আমার পাশের ফ্লাটের প্রতিবেশীর গাছের পাতা ছেঁড়া। আলিফকে আবার ধরলাম। তোমরা আন্টির গাছের পাতা ছিঁড়েছো ? আমার দিকে ফিক করে হেসে বিক্রমপুরের ভাষায় ও গড়গড় করে বলে গেলো, তোমার গাছের পাতা তো কান্দে। তাই তোমারটা আর ছিড়িনা। হ্যার গাছের পাতা কান্দে না। তাই হ্যারটা ছিড়ি।
আমি নির্বাক!