সমকামী সম্পর্কে ভার্জিনিয়া উলফ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভার্জিনিয়া ও স্যাকভিল

তাদের দু’জনের প্রথম দেখা লন্ডনে এক পার্টিতে। তারপর আরও কয়েকটি নৈশভোজে দু’জনের দেখা হয়। সম্পর্কটা সামাজিক সৌজন্যের বেড়া টপকে গড়িয়ে যায় আরও দূরে। এই দু’জনের একজন বিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক ভার্জিনিয়া উলফ ও অন্যজন বৃটিশ কূটনীতিক হ্যারল্ড নিকলসনের স্ত্রী এবং তৎকালীন প্রসিদ্ধ লেখক ভিটা স্যাকভিল ওয়েস্ট। স্যাকভিল ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া উলফের ব্যক্তিত্ব এবং লেখালেখিতে মুগ্ধ হয়েছিলেন।  কিন্তু শুধুই কি মুগ্ধতা? স্যাকভিল আর ভর্জিনিয়া উলফের সেই সম্পর্ক ছিলো কামনার আগুনে পোড়া। এই দুই নারীর মাঝে সেই সময়ে গড়ে ওঠে শারীরিক সম্পর্ক। পরবর্তী সময়ে এই দুই লেখিকা তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেন। ঝড় ওঠে তখনকার ইংল্যান্ডের রক্ষণশীল সমাজে।

তখন ইংল্যান্ডে পুরুষের সমকামীতা ছিলো নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।ফলে এই দুই লেখিকার মাঝে যৌন সম্পর্কের মাত্রা সমাজের ব্যারোমিটারের পারদকে উপরে তুলে দিয়েছিলো।

আমেরিকার টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া এল. স্মিথ দুই নারী সাহিত্যিকের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার মতে, ভার্জিনিয়া তীব্র ভাবে ভালোবাসতেন ভিটা স্যাকভিলকে। স্যাকভিলও ভার্জিনিয়ার প্রণয়ে বিভোর হয়ে পড়েন।

ভার্জিনিয়া উলফের চাইতে বয়সে স্যাকভিল ছিলেন ১০ বছরের ছোট। ভার্জিনিয়া বিয়ে করেন লিওনার্ড উলফ নামে একজন বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীকে। লিওনার্ড ছিলেন ভার্জিনিয়ার ভাইয়ের বন্ধু। অন্যদিকে স্যাকভিলও উঠে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের একটি বনেদী পরিবার থেকে। স্মিথ মনে করেন, এই দুই নারী সমাজের দুটি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হলেও আকর্ষণের দিক থেকে তারা ছিলেন একই সমতলে। ভার্জিনিয়া উলফকে স্যাকভিল নিজেও সব সময় তার চাইতে অনেক বেশি অগ্রসর একজন লেখক বলে মনে করতেন।স্যাকভিলের সংসার ছিলো, স্বামী ছিলো, সন্তানও ছিলো। কিন্তু তারপরেও এই দু’জন মানুষের মধ্যে তৈরি হয় গাঢ় প্রণয়। ভার্জিনিয়া সন্তানের মা হতে চাইতেন। কিন্তু তার খানিকটা ভারসাম্যহীন মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে লিওনার্ড কখনোই সন্তান নিতে আগ্রহী হননি। গভীর মানসিক বিষাদে ভুগতেন ভার্জিনিয়া। আর এই বিষাদ তাকে একটা সময়ে ঠেলে দেয় আত্মহননের দিকে। ১৯৪১ সালে ভার্জিনিয়া নিজেই বিদায় জানান পৃথিবীকে।

‘ওর্লান্ডো’ উপন্যাসে ভার্জিনিয়া উলফ তাদের দু’জনের সমকামীতার কাহিনি-ই লিখেছেন। আর উপন্যাসের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে দুই মানবীর সম্পর্ক। ১৯২৮ সালে প্রথমবার প্রকাশিত এই উপন্যাসের সংস্করণ ছয় মাসেই শেষ হয়ে যায়। তখন অনেকেই তাদের দু’জনের সম্পর্ক জানতেন। ফলে উপন্যাসটি দ্রুত পাঠকদের কৌতুহলের বিষয়ে পরিণত হয়। এই উপন্যাস প্রকাশের পর স্যাকভিলের মা ব্যারনেস স্যাকভিল অভিযোগ করেছিলেন যে, ভার্জিনিয়া উলফ তার মেয়ের জীবন পাল্টে দিয়েছে। সত্যিই কি সেই প্রেম পাল্টে দিয়েছিলো স্যাকভিলের জীবন? উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর ভিার্জিনিয়া উলফ যখন এর বিষয় সম্পর্কে স্যাকভিলকে জানান তিনি আনন্দিত হয়ে চিঠিতে লিখেছিলেন,‘ভার্জিনিয়া, আমি উল্লোসিত এবং উত্তেজিত এভাবে তোমার উপন্যাসে প্রকাশিত হয়ে’।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box