সমুদ্রকথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

সুজল আহমেদ তালুকদার

আমার শীপের ছোট্ট  বাংলাদেশী জগতটা এখন পুরোপুরি ভারতবেষ্টিত। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, হিমাচল থেকে অরুনাচল সব আছে চোখের সামনে। নতুন অভিজ্ঞতা মনিপুরের ইম্ফল থেকে আসা কাপ্তান থকচম”। উনি আবার মনিপুরি বাংলা বলেন, অ আ র ব্যবহার বেশী মনিপুরী বাংলায়। মনিপুর আর ইম্ফল এখন আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এ অঞ্চলটি স্বাধীনতাকামীদের দীর্ঘ লড়াইয়ে বিপর্যস্ত। কাপ্তান থকচমের কাছে শোনা এখানে নাকি আছে দু‘ধরনের ট্যাক্স ব্যবস্থা, সরকারী আর নাগাল্যান্ড ন্যাশনাল কংগ্রেস যারা স্বাধীনতাকামী বলেই বেশী পরিচিত তাদের ট্যাক্স। তবে উনার বাংলাদেশ প্রীতি চোখে পরার মতো, কেনো যেনো যে কোন কিছুর গুনকীর্তন করলেই বাংলাদেশ চলে আসে। হয়তো একটি স্বাধীন দেশের এগিয়ে

দেরাদুন

যাওয়া দেখে নিজেদের নিয়ে ভাবতে পছন্দ করেন।

কেরালাইটস, মিনিকিও আইল্যান্ড এমনকি আন্দামানের সীম্যানও জাহাজে মিলেছে। ভারতের নানাবিধ মত ও পথের মানুষের সঙ্গে মিশে অবাক হই। এতো বৈচিত্রময় সংস্কৃতি, জীবনযাপন ব্যবস্থা নিয়েও এরা একটি ভৌগলিক সীমারেখায় টিকে আছে কেমনে!!! আলাহবাদের কট্টর মুসলিম যেমন মিলেছে তেমনি গুজরাটের তিলক পরা হিন্দু আর এস এস কর্মীও দেখেছি জাহাজে।

রাজস্থান

রাজস্থানের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মায়নাক দাওয়াত দিয়ে রেখেছে উদয়পুর আর জয়পুর ঘুরিয়ে দেখাবে। আমার এখনও মনে আছে ভানু ভাট বিয়ের দাওয়াত দিয়ে  দু‘মাস মাস আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো দেরাদুন আসতেই হবে তার বিয়েতে। ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার আকাশ ভারতারি মেসেঞ্জারে নিয়মিত মেসেজ পাঠায় দেরাদুন এ প্রোপর্টি সেলস এর। ভুল করে একবার বলছিলাম দেরাদুনে জমি কিনে বাড়ী বানামু, আর যায় কোথায়, আজও জমির খোজখবর দিয়েই যাচ্ছে আকাশ।

তবুও এখানে বিনোদন হয়ে যায় একঘরে, ভারতীয় মুভি ছাড়া এরা বিশেষ অন্যকিছু দেখতে চায় না। তবে আমি এর মধ্যেও বৈচিত্র্য খুজে নেই। বাহুবলি মাগাধীরা ইত্যাদি ইত্যাদি দক্ষিণী মুভিতে সবাই মিলে আনন্দ খুঁজে বেরাই। তামান্না ভাটিয়া, কাজল আগারওয়ালদের নিয়ে আমরা গভীর মনোযোগী হই। এই যে আজগুবি সব কাহিনী সবই আমরা মহানন্দে দেখছি জাহাজী জীবনে। আসলে মাটির পৃথিবীতে যেসব মোশন পিকচার অচল তাও জলের পৃথিবীতে সচল, আমাদের বিনোদন জগত সর্বভুক।

আমার বর্তমান সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার পারিবারিকভাবে একটি মাইনের মালিক, আগে ছিলো তিনটা। ভারতরাষ্ট্রে ব্যাক্তিগতভাবে খনির ইজারা নিয়ে তা পরিচালনা করা যায়। ওদের তিনটি খনির দুটি এখন বন্ধ, একটি সচল, ফায়ার ক্লে সমৃদ্ধ এ খনিটি ২১৫ একর জায়গা নিয়ে। কয়লা বেরিয়ে আসছে এখন তাই বিক্রি করে দিবে পারিবারিক সিদ্ধান্ত। কতোকিছুই জানতে পারলাম এই জীবনে।

ইম্ফল

প্রধান প্রকৌশলী স্বপন মিত্র যাকে এ জাহাজে রিলিভ করলাম তার বার্থপ্লেস দেখে আরেক ধাক্কা, উনি বরিশালে জন্ম নেয়া মানুষ। তবে বাংলাদেশের গুস্টি উদ্ধার করেন যখনই সুযোগ পান, আবার তারই চোখ ছলছল করে গ্রামের বাড়ীর কথা বলতে বলতে। একসময় জীবনের প্রয়োজনে যে দেশ ছেড়ে এসেছেন এখনো তার প্রতি মায়া আর ক্ষোভ দু‘টোই রয়ে গেছে। পরে বুজতে পেরেছি ক্ষোভটা আসলে ভালোবাসা থেকেই উৎসরিত। ভারতে এসে যে স্বাধীনসত্ত্বাই হারিয়ে বসেছেন উনারা সেই থেকেই যতো রাগ অভিমান।।

খাবার দাবার নিয়ে যা দেখেছি সেটা বিনোদন। এরা ঘরের বাইরে নন ভেজ, আর ঘরের বউরে ভেজ খাওয়ায়ে দিন পার করায়। কেউ কেউ ভেজ কিন্তু আন্ডা খায় আবার বাঙালীরা মাছ খেয়েও নিজেরে ভেজ দাবি করে। ডাল আর আটার রুটি কেন  এদের এতো প্রিয় এই প্রশ্নের উত্তর খুজঁছি। দক্ষিণে খাবে জম্মের ঝাল আর নারকেলের তরকারি, আমরা বাংলাদেশের দক্ষিণীরাও অবাক করার মতো একি খাদ্যাভাস।
দক্ষিন মানেই কি ঝাল আর নারিকেলের তরকারি নাকি!!!

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]