সমুদ্রকথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

সুজল আহমেদ তালুকদার

ভারতবর্ষ থেকে অতলান্তিক

এক.
আজ চেন্নাইয়ের বিমানবন্দরে নামার পরেই বুঝলাম ভারত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলি উন্নয়নের যাত্রায় নাগরিকদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলছে। অল্প বিস্তর টাকাপয়সা যেই না হয়েছে এদের – রাস্তাঘাট, সেতু সব ভেঙ্গেচুরে চুরমার করে ফেলছে। চেন্নাই থেকে প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার দূরের ক্রিশনাপাটনাম বন্দরে আমার জাহাজ। এতোদূর নিয়ে আসলো ভিজয় নামে এক অস্হির প্রকৃতির ড্রাইভার। কখন কি করছে নিজেও বুঝে করছে বলে মনে হয়না। একবার দেখি স্টিয়ারিং এ হাত দিয়ে পকেটের টাকা বের করে গুনছে। আমি ওকে  ডেকে বললাম ড্রাইভ কেয়ারফুলি, আমার দিকে তাকিয়ে সে একটা বেকুব টাইপের হাসি দিলো। পুরো রাস্তা টেনশন নিয়ে অসুস্থ শরীরটাকে আরো কাহিল করার কোনো মানে নেই ভেবে দু’ধারের তপ্ত প্রকৃতি দেখায় মনস্থির করলাম।

প্রচুর নারিকেল আর তাল গাছের দেখা মিলবে এই তামিলনাড়ু টু অন্ধ্ররাজ্যের যাত্রায়। মানুষজন খুব একটা কৃষিকাজ করে বলে মনে হয়না, আবার করলেও হয়তো এক মৌসুমি চাষ করে বিশ্রামে চলে যায়। তবে ভারতের এই অঞ্চলটা দেখে আমার কাছে খুব একটা আধুনিক মনে হয়নি। সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা হলো বন্দর ইমিগ্রেশন অফিসারের কাজকাম দেখে। এজেন্ট এবং তার সাগরেদ মিলে অলিগলি পেরিয়ে যেখানে নিয়ে গেলো সেটা হলো ইমিগ্রেশন অফিসারের নিজের বাড়ী। বাড়ীর ড্রয়িং রুমেই তার পোটলায় মোড়ানো সিলছাপ্পর। বিশাল একখানা ভেসে থাকা পেট আর সাদা লুঙ্গীতে আমি উনাকে দেখে ভয়ই পেয়েছি। এমনিতেই সাউথ ইন্ডিয়ার মুভি-টুভি দেখে মনে হয়েছে এরা না জানি কতোই মারামারি করে। পরে দেখলাম আমাকে একখানা গ্লুকোজ হাসি দিয়ে পাসপোর্ট উল্টায়ে পাল্টায়ে সিল মারলো। পরে বুঝলাম গ্লুকোজ হাসিতে চিনির যোগান আছে। আমি বেরিয়ে আসলে সে চিনি সাপ্লাই হয়।

এই ইমিগ্রেশন করতে গিয়ে একটা মজার অভিজ্ঞতা হলো, সব বাড়ীর দরজার সামনে দেখলাম চক দিয়ে আঁকাআকি, হরেক পদের চকের দাগ। এজেন্টকে জিজ্ঞেস করলে বললো এটা ধর্মীয় ঐতিহ্য আর বিশ্বাস। ভগবান হয়তো এসব আঁকিবুঁকি দেখে তাদের ঘর ভিজিট করবে। এটা ওদের বিশ্বাস। তামিলনাড়ু আর অন্ধ্ররাজ্যের মানুষদের বিশ্বাস। সবকিছু পেরিয়ে কয়েক কেজি আম কিনে জাহাজে চলে এসেছি। আমার ঘর আর জাহাজের ঘর এ দুটোর মাঝামাঝি আমি নিরাপদ বোধ করিনা। জাহাজে পৌঁছে গেলে একটা শক্তিও ফিরে পাই। সেকেন্ড হোম বলে কথা, একটা ঘর আর অফিস-রুমে শুয়ে বসে কয়েকটা মাস পার করে দিলে তার প্রতি যে মায়াটা হয় সেটা বোঝানো বোধকরি কঠিন নয়। বন্দরটির নাম ভিজিয়া নাগরা রাজ্যের রাজা কৃষ্ণা দেব রাইয়ের নামে। এজেন্টের পুচকি এসিস্ট্যান্ট বললো এখানে নাকি উনার ছোট একটা বন্দর ছিলো সেই যুগেও। সেই ইতিহাস থেকেই আবার জেগে উঠেছে এই বন্দর।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]