সমুদ্রকথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

সুজল আহমেদ তালুকদার

ভারতবর্ষ থেকে অতলান্তিক

দুই.
বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে মাঝরাত্তির হয়ে গেলো। পাইলটেজ শেষে পূর্ণ গতিতে ছুটতে শুরু করলাম ভোর তিনটার দিকে। বন্দর থেকে বেরিয়েই জাহাজ নিয়ে ডানদিকে ঘুরে গেলাম, স্টারবোর্ডে টার্ণ নিয়ে তারপর সিধা দক্ষিণ পশ্চিম কোনাকুনি চলছি এখন। মাঝরাতে গরীব চাঁদটা দেখে মনে হলো আহা আজ যদি ভরা জোছনা হতো। তবে চাঁদ নিয়ে আমার এই প্রেম জাহাজে এলেই ফাইভ জি স্পিডে বাড়তে থাকবে, কেবল তো শুরু। এখন চলছি শ্রীলঙ্কার দিকে। কাল মাঝরাতে শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূল হয়ে হাম্বানটোটার কাছাকাছি পৌঁছবো ভোরবেলা। জাহাজে সশস্ত্র তিনজন নিরাপত্তারক্ষী উঠবে ওখান থেকে, আসলে এরা হলো শুটার, পারফেক্ট শুটার যাকে বলে। সোমালিয়ার জল ডাকাতদের হাত থেকে সুরক্ষা দিতেই এই শুটারদের নেয়া হয়।

আজ প্রায় আটমাস পরে সমুদ্রের জলে ভাসলাম। দুপুরের দিকে ডেকে গিয়ে দাঁড়িয়ে সামনে তাকিয়ে রইলাম বহুক্ষণ। নীল সাগরে চলার যে আনন্দ, সাগরের জল হাওয়ায় গা ভিজলে যে আনন্দ তা বলে আসলেই বোঝানো সম্ভব না। আমার কাছে সাগর অপার রহস্যময় একটি জায়গা।
এখানে দিগন্ত বলতেও নীল সমুদ্র আর আসমান। আমরা আধুনিক থ্রি ডি যুগে যে জল আর স্থলভাগ দেখি এটা পৃথিবীর বয়সের কোন এক সময়ে এমন ছিলো না। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিচিত্র লাগে, যে সাগরের ওপর দিয়ে চলছি আমি এবং আমরা তা হয়তো মিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগেও স্থল ছিলো। ছিলো কোন রাজত্ব,  না হয় কোন উন্নত সভ্যতা। আমরা এখন নিজেদের বেশ উন্নত সভ্যতা বলেই মনে করছি, আধুনিকতম সভ্যতা বলতে যা বোঝায়। মানবজাতির পঞ্চম না ষষ্ঠ ভার্সন নাকি এই আমরা।

আমি হিন্দু ধর্মের রাম আর রাবণের গল্পটা পড়েছি, এবং বিশ্বাসও করেছি। ভ্রু কুচকে তাকিয়ে লাভ নেই। মেঘনাদবধ কাব্য মধুসূদন দত্ত এমনি এমনি লিখে যাননি। এই যে শ্রীলঙ্কা এর সঙ্গেই লাগোয়া যে স্থলভাগ ভারত মহাসাগরের মাদাগাস্কার আর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো সে রাজ্যের নাম ছিলো লিমুরিয়া। দক্ষিণ ভারতীয়রা যেটা বিশ্বাস করে কুনদন কুমারী রাজ্য নামে। আসলেই হয়তো একসময় সাগরের এই অংশে বিস্তৃত ছিলো কোন উন্নত সভ্যতা। প্রথম যে এডাম বা আদম (আঃ) পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনিও তো পদার্পণ করেন শ্রীলঙ্কায়, আবার পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো যে ধর্ম সেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাম আর হনুমান ও কিন্তু রাবণকে বধ করতে আক্রমন করেছিলেন এক উন্নত রাজ্যে।
এগুলি মিথ হলেও আমার ধারণা বাস্তব কিছু গল্প আসলেই ছিলো।

পৃথিবীর জল আর স্থল এমন ছিলো না, অনেক ভাঙ্গা গড়ার পরে এখন আমরা যে পৃথিবীটা দেখছি সেটা আসলে কয়েক বিলিয়ন বছরের পরের পৃথিবী। লিমুরিয়া ছিলো, আটলান্টিস ছিলো, সমুদ্রের অনেক গল্প ছিলো, আছে। লিমুরিয়ার পরপরই আটলান্টিস ছিলো আরো উন্নত সভ্যতা।

আমি যখন এই মহাসমুদ্রে ঘুরে বেড়াই আমি যেনো তাদের অনুভব করতে পারি। মনে হয় আমি ওদের দেখছি। জলের এই অংশটা হয়তো একসময় জলই ছিলো না। পৃথিবীর বুকে এতো জল আগে কি ছিলো। যদি থেকেই থাকে তাহলে দু ধরণের জল কেন, মিষ্টি পানি আর নোনা পানি এলো কোথা থেকে। কতো প্রশ্ন আমার মনে। বরফযুগ আর মহাপ্লাবনের গল্প শুনে বড় হয়েছি, এখন এই সাগরে ভেসে ভাবছি গল্পগুলি সত্যি হলেও হতে পারে। পৃথিবীর বুকে লিমুরিয়া, আটলান্টিস আরও কতো আধুনিক সভ্যতা হারিয়ে গেছে কে জানে। চাঁদের আলোয় সমুদ্রের জল যখন জ্বলজ্বল করে তখন ভুলে ভেবে বসি আরে লিমুরিয়ানরা আবার ফিরে এলো নাকি। আটলান্টিয়ানরা নাকি তাদের সব প্রযুক্তি জ্ঞানভান্ডার মায়া আর আজতেক সভ্যতাকে দিয়ে গিয়েছিলো। আজও আমরা মায়ান আর আজতেকদের নিয়ে কতোইনা গবেষণা করি।
আসলে এই জলেরও অনেক গল্প আছে, মহাসমুদ্র মহাকাল ধরে বহু গল্পের স্বাক্ষী। কোথাও হারিয়েছে লিমুরিয়েনরা, কোথাও হারিয়েছে আটলান্টিয়েনরা। আমরা কি আসলেই পৃথিবীর গল্পগুলি সব জানি? এক পৃথিবীতে এতো রঙের এতো ঢংয়ের মানুষ তাহলে এলো কোথা থেকে। আদম আঃ পৃথিবীতে যেদিন প্রথম এসেছেন সেদিন তিনিও তো এলিয়েনই ছিলেন। এমন করে কি আরো অনেকেই এসেছেন এই পৃথিবীর বুকে যুগে যুগে। মানুষ পৃথিবীতে ছিলো না এটা তো সত্য, মানুষ পৃথিবীতে এসেছে এটাও সত্য। তাহলে এলিয়েন নিয়ে এতো গবেষণা কেন, যেখানে সে নিজেই এই গ্রহের কেউ ছিলোনা।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]