সম্পর্কের যত্ন নিন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৃজা ঘোষ

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

সন্দেহ- যে কোনো সম্পর্কে যখন তখন এসে পড়া এই আদিম উপাদানটা এই সময়টায় বড় বেশি গেঁড়ে বসেছে। বন্ধুমহলে ভাঙতে দেখলাম বহু যুগলকে, কাঁদতে দেখলাম। আজ এক বোন আমায় ফোন করে ওর সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণাগুলো বলছিলো। তার মধ্যেও একটা উপাদান রয়েছে আর তা হলো সন্দেহ। তাই আজ কটা কথা বলা বড্ড জরুরি মনে হলো। হয়তো কাজে লাগবে কারো।

সন্দেহ একটা মানসিক অসুখ। ইনসিকিউরিটি থেকে সেটা হয়। তাই এই অসুখটাকে সারিয়ে তুলতে গেলে সম্পর্কে থাকা দু’জনেরই দু’জনকে সাহায্য করতে হবে। যেনো তাদের মধ্যে কোনো ইনসিকিউরিটি না আসতে পারে আর ভবিষ্যতে। উল্টো দিকের মানুষটা কোনোভাবে আমায় সন্দেহ করলেই আমরা খুব সহজে একটা কথা ডিক্লিয়ার করে দিই- ‘বিশ্বাস না রাখতে পারলে সম্পর্কে থেকোনা’। একবারও ভেবে দেখিনা তার ইনসিকিউরিটির পেছনে, তার এই অসুখটুকুর ইতিহাসে আমার কোনো অবহেলা রয়ে গেল না তো?

বিশ্বাস কোনো দৈবিক বস্তু নয় যে হঠাৎ একদিন আকাশ থেকে সে আপনিই সম্পর্কে এসে পড়বে। বিশ্বাস তৈরি করতে হয় রোজ, একটু একটু করে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি কাজটি হলো কমিউনিকেশন। কমিউনিকেশন মানে শুধু কথা বলা নয়৷ পৃথিবীতে নানাভাবে এই ঘটনাটিকে ঘটানো যায়। উল্টোদিকের মানুষটাকে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেওয়া যায় ভালবাসি। বুকে হাত রেখে বলো তো, ক’জন করি এমনটা? প্রতিটা সম্পর্ককে একটা সময়ের পর টেকেন ফর গ্রান্টেড করে নিই। আরে জল না দিলে তো দু’দিনেই একটা গাছ শুকিয়ে যায়, আর মাসের পর মাস বছরের পর বছর জাস্ট ‘ইন আ রিলেশনসিপ’ স্টেটাস দিয়ে যে দায়িত্ব থেকে হাত তুলে দিই আমরা, তার প্রভাব সম্পর্কে পড়বেনা? এর পরে সন্দেহ, ভয়, ওভার পজেসিভনেস হওয়া অন্যায়!

আমরা বড় তাড়াতাড়ি ভুলে যাই। ভুলে যাই ‘সম্পর্ক’ দু’টো মানুষেরই, তাই তার নিয়মিত যত্ন জরুরি। সে যত্ন মানে উপহার নয়, উইকেন্ডে ঘুরতে যাওয়া নয়, ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে লাল গোলাপ নয়। সে যত্ন হলো মুখোমুখি বসা চুপ করে, একে অন্যের দিকে চেয়ে থাকা কিছুক্ষণ, বুঝতে চেষ্টা করা ওর মুখে এত দুঃখ কবে জমল? ওর বুকে এত অভাব কখন গেড়ে বসলো? ঠিক কোন সময় ও এতটা নিরাপত্তার অভাব বোধ করলো? কেন আমি পারলাম না ওর মধ্যে সেই বিশ্বাস তৈরি করতে যাতে ও আস্থা রাখতে পারে? প্রতিটা অসুখের একটা প্রেক্ষাপট থাকে। সেটা একদিনে, জাস্ট এমনি এমনি শরীরে বা মনে বাসা বাঁধেনা। মানসিক অসুখের যন্ত্রণা শরীরের চেয়ে বহুগুণ বেশি, শুধু তাকে বাইরে থেকে দেখা যায় না বলে আর খুব সহজে ওষুধ খাইয়ে বা জলপট্টি দিয়ে নিজেকে মহান প্রমাণ করা যায়না বলে আমরা ছেড়ে আসতে পারি!

আরে আমরা তো মানুষ, চেকিং মেশিন নই। তাই সংশয়, সন্দেহ হবেই। আর সেক্ষেত্রে উল্টোদিকের মানুষের কাজ হলো সে সংশয়টাকে ভাঙিয়ে দেওয়া, বাড়িয়ে দেওয়া নয়। প্রেমে আর অপ্রেমে এটাই তো তফাত। প্রথমটা দায়িত্ব নেয় আর দ্বিতীয়টা? ‘যা খুশি তাই ভাবতে পারো’ বলে ফেলে রেখে চলে যায়।

আসলে আমরা একটা দারুণ দেখনদারির যুগে এসে পড়েছি। যেখানে স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে দেখিয়ে দেওয়া যায় সব। প্রেমিক বা প্রেমিকার কপালে চুমু খাওয়ার ছবি দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায় কতটা কেয়ারিং তারা, কোটসের পর কোটস সাজিয়ে আক্রমণে মেরে ফেলা যায় আবার পর মুহূর্তে ভালবাসায় বেঁধেও ফেলা যায়, ভেতরের যন্ত্রণা লুকিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায় কত ভালো আছি আমরা, কিম্বা হাত কেটে, গোমড়া মুখে সেলফি দিয়ে এও দেখানো যায় তুমি আমায় দুঃখে মেরেছ। এখানে আপডেট দেবার সময় অনেক শুধু কথা বলার সময় নেই।

সাধারণতঃ এত সহজ কথা এত সহজে বলতে বা লিখতে আমার ভাললাগেনা। আজ সময় বের করে এতগুলো কথা লেখার একটাই কারণ আর সেটা হলো নিজেদের দিকে আঙুল তোলার কায়দাটা শেখানো। আয়নার সামনে এনে দাঁড় করানো। আসুন আগে সেটা শিখি। প্লিজ, একটু দায়িত্ব নিই। ও তো তোমারই আপন মানুষ, ও কষ্ট পেলে এমন উদাসীন থাকতে নেই। বরং হাত ধরতে হয়। দশ বারে উত্তর না পেলে দশ হাজার বার জিজ্ঞেস করতে হয়- ‘কি হয়েছে?’ ‘কেন এত কষ্ট পাচ্ছো তুমি?’।

সন্দেহ খুব যন্ত্রণাদায়ক একটা অসুখ। যার ওপর সন্দেহ জন্মায় তাকে আঘাত করাটা উদ্দেশ্য থাকেনা সবসময় অথচ তাকে আঘাত করে ফেলে আর সঙ্গে সঙ্গে যে সন্দেহ করছে সেও ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হয়। তাই এটা কোনো স্বেচ্ছাচারিতা নয়। বরং স্বেচ্ছাচারিতা হলো ইগো নিয়ে বসে থাকা। সুতরাং সেটা যত তাড়াতাড়ি ঝেড়ে ফেলা যায়, ততো ভাল। ও আঘাত করছে বলে আমাকেও আঘাত করতে হবে- এ ভাবনা যদি তোমার মনে ক্ষণিকের জন্যেও জায়গা নেয়, তাহলে বলবো- ভাল তুমি কোনোদিন কাউকে বাসতে পারবেনা। ভালবাসলে তো নিঃস্বার্থ হয় মানুষ। তাকে ভাল রাখার জন্য হাসতে হাসতে মরে যাওয়া যায়। তাই সত্যিই ভালবাসো যদি, উদ্যোগ নাও। আগে ইনিশিয়েটিভ নিলে তুমি ছোটো হবেনা। বরং একদিন মাঝরাতে সে নিজেই বুঝবে- কেন তোমায় ছাড়া বাঁচা তার পক্ষে অসম্ভব…।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]