সময়…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জয়দীপ রায়

(পশ্চিমবঙ্গ থেকে): এই সময়ে কিছু লিখে রাখা দরকার। এই রকম সময়ে যখন আকাশ অনেক বিস্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ এক পাহাড়প্রমাণ গাছের নীচে দাঁড়িয়ে দূর আকাশে কি লেখা আছে পড়ার চেষ্টা করছে, তখনই তো লেখার প্রয়োজন। এখন কোনও গান হবেনা। ভাঁটুফুলের সত্যিই কোনও গন্ধ আসে কিনা দেখার জন্য কোনও পাগলেও হন্যে হয়ে নতুনগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবেনা। এমনকি কোনও প্রশ্ন কেউ করতে পারবে না কোনও কবিতা সংক্রান্তও। কারণ এখন জলের নিচে প্রতিবিম্বতেও মানুষের মাথা দেখা যায় না আর।

মানুষ এখন অনেক বড় গাছের নিচে খাঁড়া হয়ে দেখানোর মত করে দাঁড়াচ্ছে কিন্তু মাথাসহ মেধা গুলে গেছে জলে। সেজন্য মানুষ বুঝতে পারছে না আর সে কোনওদিন গান ভালবাসবে কিনা। ছবি ভালবাসবে কিনা। ভালবাসতে ভালবাসবে কিনা। এ বড় কঠিন সময়।

এই সময়ে কিছু লিখে রাখা প্রয়োজন বলে লিখতে গিয়ে টের পেলাম আমারও মাথাসহ কথারা ডুবে গেছে এক অবিশ্বাসের জলে। আমি এক পাহাড়প্রমাণ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকেও বিশ্বাস করে ঠিকঠাক কথাগুলো বলে লিখে যেতে পারছি না। দূরে দিগন্তে সকাল হবে না সন্ধ্যে আমি বাকি দেশের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি। আর আমার শুধু গানের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আম্ফানের সময় মানুষে মানুষে ভালবাসার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। লালনের কথা মনে পড়ছে। আমার ধানক্ষেত, আমার লিটল ম্যাগাজিন মেলা, আমার বসন্তের আকাশ লাল করে দেওয়া পলাশগাছের কথা মনে পড়ছে।

এই সময়ে কিছু লিখে রেখে যাওয়া বড় প্রয়োজন। কিছু গান, কিছু স্লোগান। কিছু লম্বা চিঠি, যেগুলো আয়তনে প্রেমপত্রের মত হবে কিন্তু দেশ, মানুষ, ধর্ম এবং ঈশ্বর সংক্রান্ত যাবতীয় গোপন কথা লেখা থাকবে সেখানে। প্রয়োজনে পোস্টাপিস খুললে প্রেমিকার মত পাঠকের ঠিকানায় পোস্ট করা যেতেই পারে সে চিঠি।

কিন্তু সবার আগে মাথাটা খুঁজে পাবার দরকার। আর গান শোনার কানটা। আমার প্রাণের ভিতর রবীন্দ্রনাথের বাংলা বইছে যে!

ছবি: লেখক


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box