সাজেক ভ্যালী মেঘে মেলে দ্যায় মনের অলিগলি

লুৎফুল হোসেন

এক.

পাহাড়ের শরীর বেয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে এগিয়েছে পথ। যতো এগোচ্ছে ততো বাঁক বাড়ছে তীক্ষ্ণতায়। উঁচু থেকে নীচুতে, আবার নীচু থেকে উঁচুতে, উঠছে নামছে যখন তখন মোচড় খেতে খেতে। বাস এগোচ্ছে কখনো মসৃণ আওয়াজ তুলে, কখনো ইঞ্জিনের শব্দ উঁচিয়ে পথের কসরৎ জানান দিতে দিতে। কখনো সমতলে, কখনো ঢাল বেয়ে সাবধানে গড়িয়ে, কখনো কষ্টে ঢালের বিপরীতে উপরের দিকে। মাঝে মাঝে গতি শ্লথ করে একপাশে সরে যেতে হচ্ছে বিপরীত মুখী গাড়ীকে জায়গা করে দিতে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার গায়ে কোন অলক্ষ্যে রাত নামছে দুপাশে। খোলা প্রান্তরের চেয়ে পাহাড়ি বুনো সীমানা পথ যতো ঘিরে ধরছিলো, গাছ-গাছালির গায়ে গায়ে বোনা আঁধারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আকাশে এক পূর্ণ চাঁদ ততো প্রখর থেকে প্রখরতর হচ্ছিলো। বৌদ্ধ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ অকৃপণ আলোয় ভাসিয়ে দিচ্ছে দু’পাশের গাঢ় সবুজ আঁধার। গাড়ি যতো জোরে ছুটছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে যেনো রূপালি আলোয় পূর্ণ বিকশিত চঞ্চলা এক কিশোরী। গাছা-গাছালি আর উঁচু-নীচু পথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারও যেনো লাফিয়ে লাফিয়ে জ্যোৎস্নার আঁচল উড়িয়ে এক্কা দোক্কায় দুরন্ত ছুটে চলা। বাসের জানালা গলে জড়াজড়ি করে ঢুকে পড়ছে বুনোগন্ধী বাতাস আর  মখমলি রূপালি চাঁদোয়া।

পথ যতো এগোচ্ছে বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রাম ছেড়ে গাড়ী খাগড়াছড়ির কাছাকাছি হচ্ছে। পরিবর্তনের আবহ জানান দিতে জায়গার নামগুলো ক্রমশঃ বদলে যাচ্ছে। এখন পেরুচ্ছি যে জায়গাটা, এর নাম জালিয়াপাড়া। অনেক আগে কোনো জেলে পরিবার হয়তো প্রথম পত্তন গেড়েছিলো এখানটায়। এবার যে জায়গাটা পেরুলাম, তার নাম গুইমারা। কিজানি হয়তো গুই সাপের রাজত্ব ছিলো কখনো এখানটায়। হতে পারে চামড়া সংগ্রহের লোভে মানুষ আসতো এখানে গুইসাপ শিকারে।

ভাবতে ভাবতে পথ গন্তব্যের সীমানায় ঢুকে পড়েছে। এখানকার নামটায় আদি আর আধুনিকের মিশেল। চেঙ্গি স্কয়ার। মনে পড়লো হোটেল পর্যন্ত যার লিফট দেবার কথা সে সম্ভবত এখানেই আমাকে নামতে বলেছিলো। কণ্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করবার সুযোগ মিলতে মিলতে ক’জন যাত্রী নামিয়ে জায়গাটা ছেড়ে গেলো গাড়ী। বেশ কিছুক্ষণ থেকে থেকে বৃষ্টির দেখা মিলছিলো। পথের গায়ে এখানে থেকে থেকে জলকাদা জমে আছে। জানা গেলো এর পর শাপলা চত্তর শেষ স্টপেজ। ওখানেই নেমে যেতে হবে। একই নাম কতো জায়গার পরিচিতিতে জড়িয়ে আছে। হয়তো এটা এখানে ওদের অফিস পাড়া।

আমাদের নিতে আসবার কথা অ্যালামনাইয়ের ছোটভাইয়ের কর্মসূত্রে চেনা সহকর্মীর গাড়ি। সেটা একবার আমাদের পার হয়ে চলে গেলো। পাঁচ মিনিট পরেই ফিরে এলো। থেমে থাকা বাসটার জন্য আড়ালে আমাদের খেয়াল করে উঠতে পারেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ী পৌঁছে দিলো আমাদের হোটেলে। শেষ সময়ে র‍্যাণ্ডম ফোনে বুকিং করেছিলাম। জানা নেই কেমন হবে। এক রাতের থাকা। বলেছিলো আগেই জানাতে, রাতে খাবো কিনা। জানিয়েছিলাম খাবো। পাঁচমিশালি সবজি, মুরগি, ডাল, ভাত। বলতে ক্লান্তি কমাতে কড়া লিকার চাও দিলো। রাত দশটা সাড়ে দশটায় সব শুনশান। গোটা হোটেলটাও।

দুই.

উঁচু এক টিলার খাড়া প্রান্তে তিন তলা একটা দালান। সুন্দর, ছিমছাম। নীল রঙের টাইলস দিয়ে বাইরের দেয়ালে ক্ল্যাডিং। বুঝিবা আকাশ আর মেঘের সখ্যে মিলবার সুযোগ দিতে এই রঙের ব্যবহার। নকশার অভিপ্রায়ে খাড়া ঢালের মতো সামনের দিকে এগিয়ে আসা জেট বিমানের পাখার মতো তীর্যক বিম ছাদের কিনারে যেখান থেকে শুরু তার এক গজ সামনে এসে মাটি ছুঁয়েছে। সামনে কংক্রিটের ঢালাই ছোট এক চত্ত্বর, পার্কিং আর গাড়ি ঘোরাবার জন্য। চারিদিকে ক্যাকটাস, পাতাবাহার, জবা, আর নানান ফুলগাছ। চত্বরের সামনের দিকে খাড়া দেয়াল নেমে গেছে জঙলার মতোন ঢালু হয়ে। এর পর নীচু প্রান্তর। ধানক্ষেত, মাঠ, মাঝে একখানা বড় ঘর। রাতে পৌঁছাতে পৌছাতে ন’টা পার হয়ে গিয়েছিলো। তাই আবছা ধারণাটুকু করা গেছে। ভালো করে দেখার সুযোগ মিললো ভোরে।

লেট রাইজার আমার ঘুমটা সবার আগে ভাঙে কোথাও ঘুরতে গেলে। এখানে ঘুম ভাঙালো দোয়েল শালিখ, চড়ুই, ঘুঘু, বউ কথা কও এরা সবাই মিলে। চারিদিকে পায়চারি করতে করতে পাখ-পাখালির শব্দ আর বর্ণময় সবুজ ক্যামেরাবন্দি করলাম স্মৃতির ঝুলিতে জমাবো বলে।

আটটায় জীপ সমিতিতে বুকিং দেয়া গাড়ি আসবার কথা। চলে এলো দু’মিনিট আগেই। ইতিমধ্যে নাশতা সেরে আমরাও তৈরি। সাড়ে দশটার আগে বাঘাই হাটে থাকতে হবে। এক ঘন্টার পথ। ওখান থেকে সব পর্যটকদের বয়ে নেয়া গাড়িগুলো কনভয় করে যাবে আর্মি এসকর্টে। কোনো কারণে যেনো দেরি না হয়, মিস না হয়, তাই আগে ভাগে রওনা দেয়া। এটাই রীতি। গাড়িগুলো তিনটনি পিক আপের পেছনে স্কুল বেঞ্চির মতোন সারি দিয়ে সিট। প্রচলিত নাম চাঁন্দের গাড়ি। সকাল আটটায় খাগড়াছড়ি থেকে রওনা হয়ে পরের দিন দুপুরে ফেরত আসা পর্যন্ত একটা গাড়ির প্যাকেজ ভাড়া সাত হাজার সাতশত টাকা। স্ট্যাণ্ড থেকে একা একা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মতোন এক সিটের ভাড়া দিয়েও যাওয়া যায়। তাতে হাজার এর মতোন পড়তে পারে খরচ।

বাঘাই হাটের নাম কেনো এমন হলো কে জানে। বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে সপ্তায় নিয়ম করে একদিন হাট বসতো। কোথাও খুব জোর দু’দিন। জায়গাটা বাজার। ভ্যান ভর্তি কলার কাদি এসে নামছে। একপাশে সারি দিয়ে জমা হচ্ছে। পাইকারি বিক্রি হয়ে কোথায় কোথায় চলে যাবে। বড়সড় মজুদ ঘরও আছে একটা দেখা গেলো। ভাতের হোটেল, সিঙ্গারা পুরি চা বিক্রির দোকান। দু-তিনটা ওষুধের দোকান। পর্যটকদের জন্য থামি ব্লাউজ ওড়না কামিজ, নানা রকম হ্যাট, বার্মিজ আচার এসবের দোকান দু একটা। পৌঁছাবার পর বেশ অনেকটা সময়। সেই সুযোগে ঘুরে দেখা আর জিনিসও কয়েকটা কেনা হলো। কয়টা গরম সিঙারা আর একটা ডাব চেখে দেখা হলো। নেয়া হলো দুটা ওষুধ, ওরস্যালাইন। তবে দুটা প্রাত্যহিক ওষুধ ভুলে আনা হয়নি। ওগুলো পাওয়া গেল না।

তিন.

গাড়ি চালকের পরামর্শে খাওয়ার পানি নিলাম পাঁচ লিটার। সাথে স্প্রাইট, চানাচুর বিস্কিট এসবও। ইতিমধ্যে আরো গাড়ি এসে সারি বেঁধেছে। এবার আবার যাবার পালা। কিছুটা এগোলে সামনেই আর্মি চেক পোস্ট। নেমে রেজিস্টারে নাম ধাম এন্ট্রি দিয়ে গাড়ির তথ্য দিয়ে টোকেন নিতে হলো।

এবার চলতে শুরু। চড়াই উৎরাই আর আঁকাবাঁকা হবার মাত্রা বাড়তে থাকলো পথের। বাঘাই হাট থেকে সাজেক মাত্র ৩১ কিলোমিটার। অথচ পৌঁছাতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক লাগে। মাইলপোস্ট দেখা যাচ্ছে একটু পরপর। দীঘিনালা আর সাজেক। এই দুটো গন্তব্যের নাম লেখা। দুটোর মধ্যে তফাৎ এগারো কিলোমিটার। পাহাড়ি পথে কোথাও মাটি কেটে পথ করা। পাশের গাছ গাছালি গাড়ির গা ছুঁয়ে দিচ্ছে। কোথাও দুপাশে ধানি জমির কিঞ্চিৎ সমতলের দেখাও মিলছে। যদিও সেই সমতল আসলে ক্রমশ ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে টুকরো টুকরো সমতল মাত্র।

জায়গাগুলোর নামের সঙ্গে আদি বাংলা আর পাহাড়ি শব্দ মিলেমিশে আছে। পথের দুপাশে একটু পরপর দেখা মিলছে উৎসুক শিশু-কিশোরদের। ওরা দাঁড়িয়ে থেকে হাত নাড়ছে আমাদের। বড়দের দেখা মিলছে কম। হেঁটে যাচ্ছে, গাড়ী আসলে পথ ছেড়ে সরে যাচ্ছে। দু-একটা বাইকের দেখা মিলছে মাঝে মধ্যে, জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে কোথাও কাজে। কখনো একাধিক বাইকে ট্যুরিস্টদের দেখা মিলছে, যাচ্ছে সাজেক বা আসছে ফিরে। স্কুলড্রেসে ছেলেমেয়েদের দল দেখা যাচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ পরপর। স্কুলও দেখতে পাচ্ছি কখনো কখনো। মাঝে মধ্যে রাস্তার পাশে পরপর কয়েকটা বাড়িঘর চোখে পড়ছে।

যতোই এগোচ্ছি ততোই অননুমেয় মাত্রায় বাড়ছে রাস্তার বাঁক, চড়াই উৎরাই। রোলার কোস্টারের আইডিয়াটা বুঝি বা এমন ধরনের পথের অভিজ্ঞতা থেকেই উদ্ভাবন করেছে মানুষ। সাজেকের যতো কাছে যাচ্ছি ততো ঝুঁকিপূর্ণ রকম খাড়া হয়ে উপরে নীচে উঠছে নামছে পথ। অনেক কাছে এসে একবার থামা হলো আট-দশ মিনিটের জন্য। এর পরের পথটুকু অনেক খাড়া। ইঞ্জিনের পুরো শক্তি দরকার। তাই যন্ত্রকে খানিক বিশ্রাম দিতে দাঁড়াচ্ছে অনেক গাড়িই। তারপর একজন এগিয়ে গেলে একটু বিরতি দিয়ে এগোচ্ছে অন্যটা।

চার.

মাঝে মাঝে পাশের পাহাড় দৃশ্য থেকে খানিক সরলে পথের বাঁদিকে নদীর দেখা মেলে বেশ ক’বার। পাকা ব্রীজ আর বেইলি ব্রীজ, দুইই আছে কিছু সময় পরপর। শেষ খাড়া চড়াই-উৎড়াই পথটুকু পার হয়ে অকস্মাৎ দূর থেকে পাহাড়ের উপর খণ্ড খণ্ড সাজেক লাফ দিয়ে আরো কাছে চোখের সামনে হাজির হয়ে পড়ে।

শেষ খাড়া পথটুকু বেয়ে এক সময় পৌঁছে গেলাম সাজেকে ঢোকার গেটে। লাগোয়া সিকিউরিটি সেন্ট্রি বক্স। হেল্পার নেমে টকেন দিলো। শুরুতে বাঘাইহাটের পাশে খাতায় এন্ট্রি করার পর দুটো টোকেন দিয়েছিলো। তার একটা আগেই পথে দিতে হয়েছে এক পুলিশ ফাঁড়িতে। অবশ্য সেই পুলিশ ক্যাম্প, আনসার ক্যাম্প, বিজিবি ক্যাম্প আর  সেনানিবাস পার হতে হয়েছে। সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবি সবারই ঘাঁটি আছে এখানে কিছুটা পথ পরপর। এই পাহাড়ি পথে সড়ক নির্মাণ ছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ এবং নানামুখি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এদের এই অবস্থান। তাছড়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তও দৃশ্যমান দূরত্বেরই কোনো অজানা পাহাড়ের গায়ে।

সেন্ট্রি বক্সের পরই সাজেকের শুরুতে দৃষ্টি নন্দন বৃত্তাকার তিনতলা দালানে আর্মি রিসোর্ট। পাহাড়চূড়ায় এক কিলোমিটার পথ জুড়ে দু’ধারে নানান রঙে নকশায় হোটেল কটেজ। এর কোনো কোনোটায় শুধু থাকার ব্যবস্থা। অল্প কয়েকটায় খাওয়ার ব্যবস্থাও আছে। হোটেল বা কটেজে এক রাতের জন্য যা ভাড়া গুনতে হয় তা দেড়-দু হাজার থেকে চৌদ্দ-পনেরো হাজারের ব্যাপ্তিতে বিদ্যমান হলেও আড়াই থেকে চার বা সড়ে চার হাজারের রুমের সংখ্যা বেশি। সব রুমেই বলতে গেলে এক ব্যবস্থা। দুখানা করে ডাবল বেড আর একটা এটাটড বাথরুম।

প্রত্যেক কটেজে বা হোটেলে সোলার সিস্টেমে এক ফুট টিউব জ্বলে সব রুমে আর বারান্দায় একটা করে। তা বাদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য সবার আছে জেনারেটর। এতে খরচ বাড়ছে পর্যটকদের থাকার আয়োজনের। এর চেয়ে জরুরি বিষয় হলো পানি। এখানে পানি আসে দূর নীচু এলাকা থেকে পিক আপ ট্রাকে বড় প্লাস্টিক ট্যাঙ্কিতে করে। তাতে লিটার প্রতি পানির খরচ পড়ে প্রায় তিন টাকা। এই পানিই বাথরুমে, বেসিনে, ফ্ল্যাশে, রান্নায়, গোসলে, কাপড় কাচায় ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টি হলে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে এখানে সবার। বন্দোবস্তের তুলনায় তাই থাকা খাওয়ার খরচটা অল্প একটু বেশিই এমন জায়গায়।

সব মিলিয়ে প্রায় একশো দশটা হোটেল বা রিসোর্ট এখানে। এতে এক রাতে মোট আনুমানিক হাজার চারেক লোকের থাকবার ব্যবস্থা সাজেকে। সাজেক পার হয়ে যাওয়া যায় কংলাক পর্যন্ত। তবে সাজেকের পর রাস্তা ইট বিছানো আর সবশেষে কাঁচা হবার কারণে বৃষ্টি-বাদলের দিনে সব পর্যটকদের ঐ পর্যন্ত যাওয়া হয়ে ওঠে না। এই এক কিলোমিটার পথের দু’ধারে বেশির ভাগ সময় ঘুরে বাড়ায় সবাই। সূর্যাস্ত দেখে, সূর্যোদয় দেখে, বৃষ্টি দেখে, শীতে হিম পড়া দেখে। জ্যোৎস্নায় চাঁদ দেখে। প্রকৃতির বুকে বুঁদ হয়ে ডুবে থাকে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের দু’হাজার ফুট উপরে এই নয়নাভিরাম সবুজ পাহাড়ি জায়গার চেয়ে নীচু পাহাড় ডুবিয়ে বা আধো ডুবিয়ে ওড়াউড়ি করে মেঘের ভেলা। পেঁজা তুলা আর হাওয়াই মিঠাই মেঘ যেনো শাদা আর নীল রঙে ভর করে ভেসে বেড়াচ্ছে চারপাশে। গেলে মনে হয়না ফিরে আসি। (চলবে)

ছবিঃ লেখক