সাহিত্য জীবনকে চেনায়,সেইসঙ্গে নিজেকেও চেনায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেহেরুন্নেছা

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

সেই কবেকার কথা।স্কুল জীবনের চঞ্চলা কিশোরীর সাহিত্যে বিচরণ।পড়ার টেবিলে পাঠ্য বই এর নীচে থাকতো গল্পের বই।দস্যু বনহুর, মাসুদ রানা, সেবা প্রকাশনীর অনুবাদ… এসবই ছিলো তখনকার আনন্দের উৎস।তিন গোয়েন্দা, জুল ভার্নের সাইন্স ফিকশন আরো কত বই।বিশেষ করে সেবার অনুবাদগুলো পাগলের মত পড়েছি।

তারপরে একসময় চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম।আমি গর্বিত এমন একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়ে।
আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

বাংলা ক্লাশের অপেক্ষায় থাকতাম।মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়- এর ‘ পদ্মা নদীর মাঝি ’।আহ্! উপন্যাস শোনার সে কি আনন্দ! মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম কুবের মাঝি কিংবা হোসেন চরিত্রের বিশ্লেষণ।হোসেন -এর চরিত্রের প্রতিফলন এখনো সমাজে দেখি।একটি রহস্যময় চরিত্র।যাকে ভালো মানুষও বলা যায়না আবার খারাপ মানুষও বলা যায়না।

কুবের মাঝির বউ মালা।কুবের মালাকে ভালোবাসে আবার শ্যালিকা কপিলার টগবগে যৌবনও তাকে টানে।সেই সময়ে প্রেম, ভালোবাসা কিংবা সম্পর্কের খুঁটিনাটি এতো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি।জীবনের এই বেলায় এসে বুঝতে পারি, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের কি অমোঘ সত্যকে অংকিত করেছেন তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায়।

‘ভাঙ্গা চালার নীচে সংকীর্ণ শয্যায় পঙ্গু মালার তুলনা জগতে নাই’… মালার ব্যাপারে কুবেরের এই চিন্তা যেমন সত্যি; তেমনি ‘নায়ের দোলনে পদ্মার প্রেম’… কুবেরের এই অনুভূতিতে শুধুই কপিলা।একদিকে মালার জন্য মনের টান, মায়া।আরেকদিকে কপিলার ভরা যৌবনের প্রতি আকর্ষণ।কুবের মাঝি যে কোনটিকেই উপেক্ষা করতে পারেনা।

তাহলে মানব- মানবীর ভালোবাসা কী?
মনের টান? মায়া? শরীরের টান? কোনটি?

মন থেকে শরীর… সেটি যেমন সত্য; শরীর থেকে মন…সেটিও সত্য। তবে কি শরীর এবং মনের রসায়ন মিলেই হবে ভালোবাসা???

অগত্যা ভালোবাসা কী?? এ প্রশ্ন বড়ই জটিল।মানুষ নিজেকে যতই সভ্য দাবী করুক না কেনো; ভালোবাসার ক্ষেত্রে সে সভ্যতার সীমারেখা মানতে নারাজ।

আরো পাঠ্য ছিলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লার
‘লালসালু’। কালজয়ী আরেকটি উপন্যাস। মজিদ, রহিমা আর জমিলা।আজো গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শত শত জমিলারা মজিদের মতো ধর্ম ব্যবসায়ীদের শিকারে পরিণত হয়। তারপরেও জমিলারা যুগে যুগে জন্মাবে আর জীবন দিয়ে এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের কুপোকাত করে যাবে।

কবি, সাহিত্যিকদের কি কখনো পড়ে শেষ করা যায়? শিল্পী, কবি, সাহিত্যিকরা কি কখনো মরে?? তারা তাদের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে পাঠক হৃদয়ে সভ্যতা ধ্বংসের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে।

মনে পড়ে কলেজ জীবনে আরেকটি বই খোগ্রাসে গিলে ফেলেছিলাম। সৈয়দ শামসুল হকের ‘খেলারাম খেলে যা’। অদ্ভূত এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম বেশ কিছুদিন।তারপর কতবার যে পড়েছি।

আসলে সাহিত্যই জীবনকে চেনায়, সেইসঙ্গে নিজেকে চেনার দ্বারটা উন্মুক্ত করে দেয়!

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]