সিকিমের সিকি আধুলি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মৃত্তিকা মৃত্যুঞ্জয় ব্যানার্জী

তিন.

পরদিন সকাল সকাল গেস্টরা সব বিদায় নিলেন…আমাদের পরিকল্পনা ছিলো সকালে তারে ভির যাওয়া আর রাতে ক্যাম্পফায়ার,নাচ গান ইত্যাদি…মাঝে দুপু

র বেলায় হন্টন…

পুপুর কেরামতি

সকাল সকাল বাজরার রুটি,আলুরদম,ডল্লে খুরসানির চাটনি,ওমলেট,ব্ল্যাক টি খেয়ে বিনোদজির গাড়িতে চড়ে বসলাম….তারে ভির অতি মনোরম একটি জায়গা,পাহাড়ের গায়ে রেলিং দেওয়া পথ,আর নীচে কালিম্পং শহর….পথের পাশে পাইন গাছের সারি আর পাগল করা হাওয়া….ঘন্টা দুয়েক তারে ভির এ কাটিয়ে আবার ব্যাক টু কটেজ…

দুপুরে লোডশেডিং হওয়ায় দুপুরের খাওয়া হলো বাইরের লনে বসে…রাই শাক,ডাল,ইস্কুস, আলু আর পেঁয়াজ দিয়ে চচ্চড়ি,পাপড়ভাজা,সালাদ সহ দ্বিপ্রাহরিক আহার সারলাম..এখানকার শাক সব্জি সব organic…কোনও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়না…তাই সাধারণ সবজির স্বাদও যেন দ্বিগুণ!!!

দুপুর বেলার খাওয়া দাওয়া শেষ হলে হন্টন শুরু হলো পাহাড়ি পথে…পথের শোভা কী আর বলবো!!!!…মেঘে ঢাকা পাইন গাছের বন,সামনের রাস্তা–সমস্তটুকুই অনুপম….স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ কীর্তি যেন!!!….কোলাহলহীন,শান্ত,
স্নিগ্ধ পাহাড়ি গ্রামখানির মেঘমেদুর রূপ মাদকতায় মোড়া….অবারিত সবুজের হাতছানি,এঁকেবেঁকে চলা বন্ধুর পথ,বুনো ফুলের সুবাস,দৃষ্টিনন্দন,মনোরম প্রকৃতি–বেড়াতে এসে আর কী চাই!!!!….

অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির মাঝে নিজস্ব একটুকরো স্থায়ী আস্তানার অলজ্জ অভিলাষ মনকে অস্থির করে তুললো…সমতলে ফেরত যেতে হবে,দৈনন্দিন জীবনে জড়িয়ে সে এক ভীষণ যাপন শুরু হবে ভাবলেই মন অভিমানী হয়ে উঠছিলো…তারপর ভাবলাম,কে যেন বলেছিলেন,”familiarity breeds contempt!!!”….আকাঙ্ক্ষার বস্তুটি নাগালের মধ্যে চলে এলেই এক ধরণের অবসাদ গ্রাস করে… দৈনন্দিনতা উপহার দেয় গ্লানি …তারচেয়ে এই সমান্তরাল পথ চলাই ভালো বরং…. মাধ্যাকর্ষণের টানের চেয়েও তীব্র এই আসক্তিটুকু জিইয়ে রাখার পন্থা হলো দূরত্ব…অলঙ্ঘনীয়,অমেয় দূরত্ব!!!…

ক্যাম্পফায়ার

তবে তাই হোক,বার বার পাহাড়ের কোলে ফিরে আসার অদম্য,নির্মল ইচ্ছাটুকু অমর হোক….দরমিঁয়া কখনো বাড়ুক,কখনো কমুক,কিন্তু মরে না যাক,বেঁচে থাক…বাঁচিয়ে রাখুক নানান অছিলায় কাছে আসার,ঘনিষ্ঠ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাটুকু..–মনকে এই বুঝিয়ে শান্ত করলাম তখনকার মতন…

একসময় পাহাড়ে সন্ধ্যা নেমে এল,রহস্যময়ী রাত্রি গ্রাস করলো আলোর শেষ চিহ্নটুকুন….আমরাও পায়ে পায়ে ফেরত এলাম কটেজে…বাঁধাকপির বড়া,মালাই চা আর হোমমেড আটা,বাটার কুকিজ দিয়ে সন্ধ্যার স্ন্যাকস পর্ব চললো…চললো পপিরানির সঙ্গে খেলা পর্ব…

কষা মাংস,ঝাল চাটনি,মকাই সেদ্ধ,মিক্সড ডাল,স্যালাড আর রুটি দিয়ে ডিনার সারলাম…বিনোদজি সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন…কনকনে শীতের রাতে শুরু হলো ক্যাম্পফায়ার,বাইরের উঠানে বসে….আগুন মাঝখানে রেখে,নাচে গানে জমে উঠল আসর…ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা ছুঁয়ে ফেলল কখন মালুম হলোনা বিলকুল!!!…(ক্রমশঃ)

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]