সিক্রেট লাইফ অফ মোল্লা ওমর

রীতিমতো চমকে ওঠার মতো তথ্য দিচ্ছে আফগানিস্তানের প্রায় কিংবদন্তীসম তালিবান নেতা মোল্লা ওমরের ওপর লেখা নতুন আত্নজীবনী। ওমরের জীবন নিয়ে গিবেষণা করে বেটি ড্যাম নামে নেদারল্যান্ডের এক সাংবাদিক বই লিখেছেন। ‘সিক্রেট লাইফ অফ মোল্লা ওমর’ নামে এই বইটিতে বেটি জানাচ্ছেন, আফগানিস্থানে মার্কিন সেনাদের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে বসবাস করতেন এই তালিবান নেতা। একবার সৈন্যরা তার সেই গোপন আস্তানায় হানা দিয়েছিলো কিছু না জেনেই। সেই বাড়ির একটি গোপন ঘরে ওমর তখন অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সৈন্যরা তাকে আবিস্কার করতে পারেনি। তখন ওমরের মাথার মূল্য ছিলো ১০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় এক কোটি টাকা।

বেটি ড্যামের এই বই পশ্চিমা দুনিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের গোয়েন্দা বিভাগের সক্ষমতা নিয়ে।

বেটি ২০০৬ সাল থেকে আফগানিস্তানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে বসেই তালিবানদের এই রহস্যময় নেতার জীবন নিয়ে বই লেখার পরিকল্পনা তার মাথায় আসে। পাঁচ বছর ধরে নানা সূত্র আর তথ্য সংগ্রহ করে তিনি শেষ করেন বইয়ের কাজ। গত মাসে ডাচ ভাষায় বইটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে বইয়ের ইংরেজি অনুবাদও।

বইতে দেয়া তথ্য অনুযায়ী মোল্লা ওমর লোগমান নামে একটি জায়গায় আত্মগোপন করে ছিলেন বেশ অনেকটা সময়। ২০০৪ সালে মার্কিন সৈন্যরা সেখানেই একটি ঘাঁটি তৈরি করে। ঘাঁটিতে সৈন্য সংখ্যা ছিলো এক হাজারেরও বেশি। ওমরের জন্য সেই লোগমানে একটি ছোট নদীর পাশে কুটির তৈরী করা হয়েছিলো।ফসলের ক্ষেতে সেঁচের পানি যাওয়ার সুড়ঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা ছিলো ঘরটি। মার্কিন সেনা অভিযান চললে এই গোপন পথে সেঁচের সুড়ঙ্গে গিয়ে আত্মগোপন করতেন মোল্লা ওমর। মার্কিন সেনাদের একেবারে নাকের ডগায় ওমরের আস্তানা হলেও কিছুই টের পায়নি তারা।দিনের পর দিন এই ভয়ঙ্কর তালিবান নেতা বসবাস করেছেন সেই ছোট্ট কুটিরে। ওই সময়টায় গ্রামের লোকদের সঙ্গেও বিশেষ কথাবার্তা বলতেন না ওমর। গ্রামের লোকেরাও তাকে ফকির ধরণের মানুষ বলে মনে করতো। সারাদিন ওই ঘরেই বসে থাকতেন ওমর। শীতকালে রোদ পোহানোর জন্য তাকে মাঝে মাঝে বাইরে এসে দাঁড়াতে দেখা যেতো।

এই গোপন জীবনেও ওমর দু’বার খুব অল্পের জন্য সেনাদের হাতে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে যান। একবার ওমর লাকড়ির স্তুপের ভেতরে ঢুকে রক্ষা পান। আরেকবার সৈন্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে লুকিয়ে পড়েন সেঁচের নালার ভেতরে।

ওমর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য বেটি চষে বেড়িয়েছেন প্রায় গোটা আফগানিস্তান। কথা বলেছেন বহু সরকারী সূত্রের সঙ্গে। দেখা করেছেন তালিবানদের জীবিত কয়েকজন নেতার সঙ্গে। এদের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি ছিলো জাবীর ওমারি। আফগানিস্তানে তালিবান শাসন চলাকালে এই জাবির ছিলেন একটি প্রদেশের গভর্নর। পরে সব দায়িত্ব ছেড়ে জাবির যোগ দেয় মোল্লা ওমরের সঙ্গে। ২০০১ সাল থেকে সে-ই ছিলো ওমরের সবচাইতে বিশ্বাসভাজন দেহরক্ষী। ওমরের মৃত্যু পর্যন্ত এই জাবীর ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী।

জাবীর ধরা পড়ার পর বহু চেষ্টা করে বেটি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন একটি সুরক্ষিত কারাগারে। সেখানে বসেই তার সাক্ষাৎকার নেন বেটি।

মোল্লা ওমর ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল মারা যান। অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বমি হচ্ছিল। খেতে পারছিলেন না কিছুই। কিন্তু আস্তানা থেকে বের হয়ে ডাক্তার দেখাতে চান নি তালিবান এই নেতা। আর তাতেই শেষ হয় এই মৌলবাদী, জঙ্গী এই নেতার জীবন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

ছবিঃ গুগল