সিনেমা বিড়ম্বনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আশিকুজ্জামান টুলু

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

আমার এক বন্ধু ইউ এন এ চাকরী করতো । অফিসের এক ট্যুরে ওকে একবার ঢাকার বাইরে কোন এক মফস্বল শহরে যেতে হয় । সঙ্গে ছিলো ওর তিনজন সাবঅর্ডিনেট যারা ওর আনডারে ওর ডিপার্টমেন্টেই কাজ করতো । ওরা ওকে খুবই রেস্পেক্ট করতো একজন ভালো মানুষ হিসাবে ।
অফিসের কাজ বিকাল নাগাদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধু ওর সঙ্গে যাওয়া সবাইকে ট্রিট করার জন্য সিনেমা দেখার প্রস্তাব দিলো ওর খরচে । সবাই এক বাক্যে রাজী হয়ে গেলো যেহেতু স্যার বলেছেন । ওদের হোটেলের পাশেই একটা সিনেমা হল ছিলো, ওরা গিয়ে হলে পৌঁছলো । পোস্টার দেখে ঠিক বুঝতে পারলো না যে আসলে কোন ছবিটা চলছে । ওরা ভাবলো ছবি যাই হোক না কেন অযথা হোটেলে বসে বোর হওয়ার চাইতে একটা ছবি দেখে কাটুক সময় । টিকেট কিনে ভিতরে ঢুকলো । হলের ভিতর খুব বেশী মানুষ নাই, হয়তো মফস্বল শহর, যে কারনে দর্শক কম ।
কিছুক্ষণ পর সিনেমা শুরু হলো । প্রথম দুই মিনিট যাওয়ার পরই শুরু হয়ে গেলো দুর্ধর্ষ সব ঝাকানাকা সিন অর্থাৎ একেবারে অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট । ও ভাবলো ছবি শুরু হওয়ার আগে হয়তো কাটিং/অ্যাড দেখাচ্ছে, আর হয়তো মিনিট পাচেক পরে আসল ছবি শুরু হবে । কোনরকমে নিঃশ্বাস আর চোখ বন্ধ কাটাতে থাকলো, কোনভাবেই স্ক্রিনের দিকে খেয়াল না করে কলিগদের দিকে তাকিয়ে থাকলো, সঙ্গে দেশের সার্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে কলিগদের সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চালাতে থাকলো এবং এমন একটা ভাব করলো যে ও কিছুই দেখতে পায় নাই এবং ওর কোন খেয়াল নাই কি হচ্ছে স্ক্রিনে । ওদিকে তো সিনেমার সাউন্ডবক্সে প্রচণ্ড শব্দে বেজে চলেছে বায়ুচড়া উত্তেজক আওয়াজ এবং সঙ্গে চলছে সব নাপাক সিন ।
১০ মিনিট পার হওয়ার পর ও বুঝতে পারলো যে ওগুলি কাটিং না বরং ওটাই সিনেমা । বাইরে পোস্টার এক আর ভিতরে সিনেমা আরেক । পুলিশের ভয়ে বাইরের পোস্টার ইচ্ছা করে অন্য কিছু দেয়া হয়েছে । ও সবাইকে বললো’
‘চলেন করিম সাহেব আমরা হোটেলে গিয়ে বরং একটু রেস্ট নেই, কালকে তো আবার রওনা দিতে হবে ঢাকায়।’
ওরা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে উঠে পড়লো কারন ওরাও লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলো কিন্তু দ্বিধা ভেঙ্গে বলতে পারছিলোনা ওঠার কথা । ওরা সবাই মিলে প্রায় দৌড়ে হলের দরজার কাছে চলে এলো । ওখানে টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে আছে টিকেটচেকার অর্থাৎ যে কিনা হলের সিট দেখিয়ে দেয়, সেও একেবারে মশগুল সিনেমা দেখায় । ওরা দরজা খুলতে গিয়ে দেখলো দরজা খুলছে না, বাইরে থেকে আটকানো । ওরা ওই টিকেটচেকারকে বললো দরজা খুলে দিতে । টিকেটচেকার জানালো যে পুলিশের ভয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়া হয়েছে যাতে পুলিশ রেইড করলে দেখতে পায় যে হল বন্ধ এবং চলে যায় । ওরা খুলে দিতে রিকোয়েস্ট করলো । ও জানালো যে সিনেমা শেষ হওয়ার আগে কোনভাবেই খোলা যাবেনা, সিনেমা শেষ হলে বের হওয়া যাবে, কারন যে তালা মারসে, সে বাইরে গেসে কোথাও ।
একথা শোনার পর সবার চেহারা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো । ওরা বুঝে গেলো যে ওরা ফাইসা গেসে মাইনকার চিপায় । ওদের করার কিছুই ছিলোনা, পুরা একঘণ্টা সবাই মিলে হলে বসে রাজনীতির এহেন কোন বিষয় নাই যে আলোচনা করে নাই, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে নাতিদীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ওরা ওদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করে সময় কাটিয়েছিলো এবং সেদিনের পর আমার বন্ধু আর কোনদিনও অফিস ট্যুরে কলিগদের সিনেমা দেখার প্রস্তাব দেয় নাই ।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]