সিলেটে টেস্ট অভিষেক

আহসান শামীম

চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রাচুর্যে ভরপুর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেষ্ট ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে টেষ্ট ভেন্যু হিসাবে সিলেটের এই স্টেডিয়াম। এর আগে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এখানে। এবার দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেট আর এই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে হাজারো সিলেটবাসীও।

এই ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘ এগার মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। টেষ্ট ক্রিকেট  র‍্যাংকিংয়ে  সফরকারীদের থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। মাত্র ২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান জিম্বাবুয়ের, আর ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। হিসাবে বিবেচনার পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ যদিও বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কোন অবস্থাতেই হাল্কা করে ম্যাচটা নিতে নারাজ।সেরা দল নিয়েই প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে চান তিনি।
জিম্বাবুয়ের  অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আস্থা হারাচ্ছেন না নিজের দলের প্রতি।সিলেট মাঠে দারুণভাবে জ্বলে ওঠার প্রত্যয়ই তাঁর কণ্ঠে।সফরকারী দলের অধিনায়ক বলেছেন, “আমরা দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেট খুব বেশি খেলি না। আমরা আসলেই এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছি। আমরা জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় আছি।”
টেস্ট ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমানের ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘয়িত হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে কনুই এর ব্যথা এখনও রয়ে গেছে। ম্যাচের আগে শুক্রবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলনেও দেখা যায় নি এই ফ্রন্ট লাইন পেসারকে।বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট টেস্টে মুস্তাফিজকে বাইরে রেখেই দল সাজাতে বাধ্য হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।এদিকে সিলেট টেস্টে অভিষেক হতে যাচ্ছে অলরাউন্ডার আরিফুল হকের। শুক্রবার অনুশীলন সেশনে নেটে দীর্ঘক্ষণ বোলিং করতে দেখা গেছে তাঁকে। অভিষেক হতে যাচ্ছে টেস্ট স্কোয়াডের আরেক নতুন সদস্য নাজমুল ইসলাম অপুর।বাঁহাতি স্পিনার অপুকেও ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে। স্কোয়াডে থাকা বাকি দুই পেসার শফিউল ইসলাম ও খালেদ আহমেদকে বাইরে রেখেই স্কোয়াড সাজানোর সম্ভাবনাটাই বেশি।
২০০১ থেকে ২০১৪ এই চৌদ্দ বছরে মাত্র ১৪ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। যেখানে বাংলাদেশ জয়ের মুখ দেখেছিল মাত্র পাঁচ ম্যাচে।বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছে ছয় ম্যাচ। শতকরা হিসেবে বাংলাদেশের জয়ের হার ৩৫.৭১ শতাংশ আর জিম্বাবুয়ের জয়ের হার ৪২.৮৫ শতাংশ। আবার দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে শেষ ১৪ ম্যাচের তিন খেলা ড্রয়ের মুখ দেখেছিল।