সুরের ধারায় ভেসে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুলতানা শিরীন সাজি

আর ছবি নাই তাই এই ছবিটাই দিতে হলো @ নীলা আপা

(অটোয়া থেকে): পন্ডিত তুষার দত্ত এসেছিলেন অটোয়াতে জুন মাসে। মেজবাহ আলম অর্ঘ্যর একটা ফেইসবুক ইভেন্ট এ তিনি অটোয়া আসছেন জেনে খুব খুশি হয়েছিলাম।তারা টিভির ‘আজ সকালের আমন্ত্রণ’ তে তাঁর কন্ঠ প্রথম শুনেছিলাম। অসাধারন লেগেছিলো। আর ভালো গান শুনলে যা হয়,মনে হয় আরো শুনি। এই ইচ্ছে যে পূরন হবে তখন জানিনি।

নীলা আপা সহ গেলাম মুশফিক ভাই এর বাসায়। সেখানেই বেইজমেন্ট এ ঘরোয়া আয়োজন। শুরুতেই শিল্পী জানালেন,বেশি করে নজরুল গীতি গাইবেন। বাংলাদেশে জন্ম তবে এখন কলকাতায় থাকেন। বললেন,কয়েকদিন ধরে ‘নয়নভরা জল গো তোমার’ মাথায় ঘুরছে। গাইলেন,‘ঘুম আসেনা’, ‘পরদেশী মেঘ যাওরে ফিরে’।
গান শুনছি আর মন পাখি হয়ে উড়ছে আকাশ থেকে আরো আকাশে।।পাহাড়ের কোল থেকে নদীর গা ঘেষে কোথায় থেকে কোথায় যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো মন।
শিল্পী যখন গান করেন আর গানের মাঝে মাঝে নিজের কথা বলেন,তখন মনেহয় শিল্পীকে খুব কাছের মানুষ। মনেহয় এমনই তো হবার কথা এমন গুনী মানুষদের। নজরুল ইসলাম এর গান নিয়ে কাজ করছেন আজকাল। বললেন, মাঝে মাঝে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যান,কি করে এত রাগ সৃষ্টি করেছেন কবি নজরুল!

‘না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়’ গাওয়ার ফাঁকে বললেন,একজন শিল্পীর প্রত্যাশা মানুষের ভালোবাসা।‘আজো কাঁদে কোয়েলিয়া’ গাইছিলেন যখন মনে হচ্ছিলো পুরো ঘর জুড়ে বাইরের বিকালের সব রঙ ঝরে ঝরে পড়ছে। একটা বিকাল সুরের মূর্ছণায় ভেসে গেলো। মনে হলো ,আমি ভেসে বেড়াচ্ছি ছোট্ট পাখির নাকি পালকের মত! সেই যে মাতেয়ার প্রিয় ড্রীম ক্যাচার!

আর পন্ডিত অশোক দত্তর তবলার কথা কি বলবো। মনে হচ্ছিলো বৃষ্টি পড়ছে। ঘর ভর্তি আমরা কিছু মানুষ সেই বৃষ্টিতে ভিজছি। ‘আজো কাঁদে কোয়েলিয়ার’ খেয়াল অঙ্গ গাইলেন দ্রুত করে। আর তবলায় চললো সুরের বৃষ্টি। অদ্ভুত সেই অনুভূতির কথা লেখায় প্রকাশ করা সম্ভবনা। চোখ ভেসে যায়।মন এলোমেলো হয়ে যায়।

পন্ডিত তুষার দত্ত এবং পন্ডিত অশোক দত্ত

অতনু চক্রবর্তীর লেখা পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গাওয়া অসাধারন সেই গানটা গাইলেন,‘কেনো অন্তহীন বিরহীরই গান ,মোর কন্ঠ শুধু সেঁধে যায়।কেনো একেলা এ আঁধারে বসে,সারাবেলা বয়ে যায়।‘মাঝে মাঝে অজয় চক্রবর্তী ডেকে এই গান গাইতে বলতেন শিল্পীকে। কেনোই বা বলবেন না, কি অসাধারন গাইলেন, ‘যারে খোজে এই দুঁটি আখি,
পায়না তারে ডাকি ডাকি।
ভরা অঞ্জলী ,প্রেম মাধুরী
কেনো অনাদরে ঝরে যায়।’

তিনি পুরুলিয়ার গল্প করলেন। গুরু বিমল মিত্রের কথা বললেন।
তিনি যখন পুরুলিয়ার গল্প করছিলেন আমার কেনো যেনো শান্তিনিকেতনের কথা মনে পড়ছিলো। নজরুলের গানের পাশাপাশি গজল ও গাইলেন। গজল গাওয়ার আগে যখন বললেন এটাই শেষ গান।মন খারাপ হয়ে গেলো।যে কোন ভালো সময় পলকেই হারায়। তবে গান শেষ হলেও তার রেশ থেকে যায়। ভালোলাগায় ভরা একটা বিকেল নিমেষেই শেষ হয়ে গেলো।

বিরতীর পর চলে এলাম। সত্যি বলতে কি এত সুন্দর গানের পর আর কারো গান শুনতে ইচ্ছে করছিলনা।পন্ডিত তুষার দত্তকে বললাম,তারা মিউজিক এ প্রথম তার গান শুনেছিলাম। ছবি তোলার সময় পাশে দাঁড়াতেই নাম জানতে চাইলেন,নাম বলতেই বললেন ফুলের সাজি? এভাবে আমার নাম একবারেই বুঝে তার অর্থ বলেছেন খুব কম মানুষ।

আমরা সবাই ব্লগার

বের হয়ে আসার সময় মন্ট্রিয়ল থেকে আসা মনিকা মুনা,তারেক রহিম আর আশরাফ অভির সঙ্গে ছবি তুললাম।তারেক আর অভির সঙ্গে দেখা হলেই ব্লগ মনে পড়ে। তুমুল আনন্দময় লেখালেখির দিন ছিলো একসময়। নীলা আপা,মোতালেব ভাই আর মিতাভাবী সহ একসঙ্গে ফেরার পথ ধরলাম।
নীলা আপা বারবার খুশিতে থ্যাঙ্কস বলেছেন।এমন সুন্দর এক গানের আয়োজন এ সঙ্গে আনার জন্য। বললাম ,যে কোন সুন্দর এর কাছে গেলে প্রিয়জনদের কথা মনে পড়ে। মনে হয় সবাই এই আনন্দ ভাগাভাগি করি।
আজ ঠিক এক একমাস একদিন পর লেখাটা লিখতে বসে মনে হলো,কালই বুঝি শুনেছিলাম। অদ্ভুত সুন্দর সেই বিকেলটার জন্য পন্ডিত তুষার দত্ত এবং পন্ডিত অশোক দত্তকে শুভেচ্ছা আর শুভকামনা জানাই। খুব সুন্দর এক আয়োজনের সঙ্গে থাকার জন্য অর্ঘ্যকে ধন্যবাদ। গান,কবিতা চলুক বৃষ্টির মত ঝমঝমিয়ে। সুরের ধারায় ভেসে যাক যতো দুঃখ ,অনাচার।
মানুষের ভিতরের মানুষ জেগে উঠুক।
‘কেনো অন্তহীন বিরহীরই গান ,মোর কন্ঠ শুধু সেঁধে যায়।কেনো একেলা এ আঁধারে বসে,সারাবেলা বয়ে যায়।’ কতবার যে শুনি।
কত অজস্রবার!
বুকের ভিতরের সব দুঃখ,কষ্ট ঝরে পড়ে যায়।

হিম হয়ে আসা যত খবর পড়ি ফেইসবুকের পাতায়। সব ভুলে থাকতে চাই। সব।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]