সূর্যের দিকে মহাকাশযান

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসার এই যানটিই হবে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে প্রথম কোন স্পেইসক্রাফ্ট যা সূর্যের পরিমণ্ডলের গভীরে প্রবেশ করবে। এই যানটিকে মহাকাশে পাঠাতে নাসার খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। এর আকার হবে ছোট্ট একটি গাড়ির সমান। সূর্য থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ মাইল দূরে থেকে এই যানটি ওই তারার চারদিকে ঘুরতে থাকবে।

সূর্যের উপরি-পৃষ্ঠ অত্যন্ত গরম। সেখানকার তাপমাত্রা ১০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি। স্পেসক্র্যাফ্‌টের কাঠামোটিতে রয়েছে কার্বন যৌগের ৪.৫ ইঞ্চি পুরু শিল্ড যা সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা রেডিয়েশনের চেয়েও ৫০০ গুণ বেশি রেডিয়েশন প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া ম্যাগনেটিক ও ইলেক্ট্রিক ফিল্ড, প্লাজমা তরঙ্গ এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পার্টিকেল পরিমাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে এতে।

৯১ বছর বয়স্ক অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ইউজিন পার্কারের নামে নামকরণ করা হয়েছে মহাকাশযানটি। সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬১ লাখ কিলোমিটার ওপর থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে এবং প্রায় ১৩৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপের মধ্যে অবস্থান করবে মানবহীন স্পেসক্র্যাফ্‌টটি। এটি সাত বছরের একটি মিশন। এসময় করোনার মধ্যে দিয়ে স্পেসক্র্যাফটি ২৪ বার ভ্রমণ করবে। সূর্যের সবচেয়ে কাছের দৃশ্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে পার্কার সোলার প্রোব নামের ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই মহাকাশযানটি ইতিহাসের জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বড় একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রথমবারের মত সূর্যের দিকে মহাকাশযান ছাড়লো নাসা। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেসস্টেশন থেকে রকেটের দ্বারা এই উৎক্ষেপণটি হয়। এই মহাকাশযানটি যত দূরে যেতে পারবে এর আগে সেই দূরত্বের সাতভাগের এক ভাগ ও যেতে পারেনি মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত করা যন্ত্রপাতি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করাই এখন বিজ্ঞানীদের পরবর্তী উদ্দেশ্য।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
ছবি ও তথ্যঃ নাসা