সেই ক্যাফেতে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

শাহিদা আরবী ছুটি

শাড়ি নামক এই পোশাক নিয়ে একটি গবেষণা হওয়া উচিত। পুরাপুরি অনাড়ম্বর ১২/১৩ হাত লম্বা এক টুকরা কাপড়ে এতো রং ঢং কিভাবে লুকিয়ে থাকে, কে জানে? শুধু কি রং ঢং? এই জিনিস গায়ে পেচালে হুট্ করে একজন কিশোরীও, তরুণী হয়ে যায়।

এই পোশাকে আলাদা করে তেমন কোনো বিশেষ সাজের প্রয়োজন হয়না। চোখে কাজল, কপালে টিপ্ দিলেই গর্জিয়াস। না দিলেও মন্দ না।

যাহোক শাড়ি নিয়ে আজকে একটা ছোট্ট বিচিত্র গল্প বলি,

আমি যেই এলাকায় থাকি এখানে একটা ক্যাফে আছে। এই ক্যাফেতে কফি কেক ইত্যাদি বিক্রি করে। এই ক্যাফের আশেপাশে আরো অনেক ক্যাফে আছে, সেগুলোও জমজমাট।

তবে এই ক্যাফেটা একটু বেশি জমজমাট। এখানে সারাক্ষন মানুষের ভীড় লেগে থাকে। এই ক্যাফের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে সব খাবার অর্গানিক। অস্ট্রেলিয়ায় এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা অর্গানিক খাবার প্রচুর দাম দিয়ে হলেও কিনে খাবে।

আমি অবশ্য সেই শ্রেণীর কেউনা। আমি হলাম তামাশা শ্রেণীর। বাংলাদেশে তামাশা শ্রেণীর মানুষরা সাধারণত দরিদ্র হয়। তাদের জীবনে তেমন কোনো গোল না থাকায় তারা বেশিরভাগ সময়ই আশেপাশের ঘটনা দেখে।

তামাশা শ্রেণীর মানুষরা সারাক্ষন দৌড়ের উপর থাকেনা। তারা সুযোগ পেলেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিন্ সিনারি দেখে, মানুষ দেখে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আরাম করে আমড়া ভর্তা খায় !

এই অর্গানিক ক্যাফের আরেকটা বিশেষত্ব আছে, সেটা হলো এখানে মেয়ে ওয়েট্রেসরা শাড়ি পরে আর পুরুষরা লুঙ্গি পরে। চেকে লুঙ্গি বেল্ট দিয়ে আটকিয়ে পেটিকোটের মতন করে পরে থাকে।

আমি প্রায়ই এই ক্যাফের বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করি। সবাই শাড়ি লুঙ্গি পরে আছে কেন?

এটা পুরোপুরি একটা অস্ট্রেলিয়ান অর্গানিক ক্যাফে। এমনকি একজন ইন্ডিয়ানও এখানে কাজ করেনা। খাবার দাবারও ১০০% অস্ট্রেলিয়ান/ইংলিশ। শুধু দুপুর বারোটা থেকে দুইটার মধ্যে এই ক্যাফেতে ডাল ভাত পাওয়া যায়। হলুদ রঙের বিশ্রী দেখতে এক প্রকার ডাল রান্না হয়, সেই ডাল মোটা চালের ভাত দিয়ে সবাই খুব আগ্রহ করে চামচ দিয়ে খায়। যারা এই ডাল ভাত খায় তারাও দেখি অস্ট্রেলিয়ান।

শাড়ি সামলানোর বিষয়। আমাদের মা খালারাও শাড়ি থেকে সেলোয়ার কামিজে মুভ করেছে, আমার ধারণা সারাক্ষন এই সামলে চলার জটিলতা থেকে।কিন্তু এই ক্যাফেতে গেলে মনে হবে সাদা চামড়ার অস্ট্রেলিয়ান মেয়েগুলো শাড়ি না, হাফ প্যান্ট পরে আছে। তারা যেভাবে দৌড়াদৌড়ি করে সবাইকে কফি ট্রফি সার্ভ করছে, আমি আতংকে থাকি এই বুঝি উষ্ঠা খেলো।

ঐদিক দিয়ে লুঙ্গি পেটিকোটের মতন করে পরে, কয়েকটা হ্যান্ডসাম ছেলে সারাক্ষণই অতি দ্রুত টেবিল মুছে যাচ্ছে, চেয়ার ঠিক করছে ইত্যাদি।

তো আমি একদিন সাড়ে পাঁচ ডলার দিয়ে এই ক্যাফে থেকে এক কাপ অর্গানিক কফি কিনলাম। সাড়ে পাঁচ ডলার এক কাপ কফির জন্য অনেক দাম। আমি দামি কফি অর্ডার দিয়ে বসে আছি। উদ্দেশ্য হলো যে কফি দিতে আসবে তাকে শাড়ি-লুঙ্গি রহস্য জিজ্ঞেস করবো।

কিছুক্ষনপর লুঙ্গি পরা এক অল্প বয়সী ছেলে আমার জন্য কফি নিয়ে আসলো। তাকে জিজ্ঞেস করে কিছুই পেলাম না। এমনকি তার পোশাকের নাম যে লুঙ্গি, সেটাও সে জানেনা।

আমি কফিতে একটা চুমুক দিলাম। কিছু জিনিস খেতে এতো বিশ্রী হয় যে চট করে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, এই দোকানের কফি হলো সেরকম। বিশ্রীরকমের বাজে। পুরো টাকা নষ্ট। আমি কফিতে আরো দুই চামচ চিনি দিলাম যদি কিছু হয়, লাভ হলোনা বরং খেতে আরো বিদঘুটে হয়ে গেলো !

এই বিশ্রী কফি খেতে খেতেই আমি শাড়ি লুঙ্গি পরার রহস্য বের করে ফেললাম। কখনো কখনো বাইরে থেকে সবকিছু ধরা পরেনা, ভেতরের ঘটনা জানার জন্য হয়তো ভেতরে যেয়েই বসতে হয়।

আমরা খোলা চোখ দিয়ে কিছু দেখে, সেখান থেকে যা বুঝি বা বোঝার চেষ্টা করি তা নির্ভর করে দুইটা জিনিসের উপর – এক, কি দেখছি আর দুই, কোথায়, কোন অবস্থানে বসে দেখছি।

যাহোক সব রহস্য বলে দিলে হয়না, তাই এই রহস্য বলবোনা। আচ্ছা আপনারা বলেনতো এই অস্ট্রেলিয়ান অর্গানিক ক্যাফেতে সবাই শাড়ি লুঙ্গি কেনো পরে? এবং কেনো এখানে আমাদের রঙের কোনো মানুষ কাজ করেনা? দেখি কার বুদ্ধি কেমন।


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box