সেই যে আমার রংধনু মাখা দিনগুলো

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

গুনে গুনে একমাস সাতাশ দিন থাকলাম সেবারের যাত্রায়।সুদীর্ঘ দিনে অনেকগুলো অনুষ্ঠানে গাইলাম। ইন্ডিয়ান একজন তবলচি ছিলেন তার সঙ্গে শুধু হারমোনিয়াম বাজিয়ে সবক‘টি অনুষ্ঠানে গাইলাম। সে সব অনুষ্ঠানে আমি উচ্চ অঙের গান যেমন ঠুমরী ভজন খেয়াল তারানা গজল কীর্তন এবং পুরনো হিন্দি উর্দু গীত গেয়েছি যা আমি খুব কম গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। লন্ডনে আমি ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানি শ্রোতা তৈরি করে নিতে পেরেছিলাম। এখানেও ধীরে ধীরে আমার গান তাদের মাঝে ছড়িয়ে গেলো।কিন্তু আমি আমার কম্যুনিটিতে গাইতেই বেশি পছন্দ করি।এবং ঘরোয়া গানের আসর যেগুলোতে শ্রোতারা সামনে বসে থাকেন খুব কাছে এবং ওয়াহ ওয়াহ কেয়া বাত কেয়া বাত করতে থাকেন এগুলো আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।আমি তখনই টের পাই আমার জন্ম হয়েছে একজন প্লেব্যাক শিল্পী হবার জন্য। লস এঞ্জেলস এ গাইতে গাইতে ডালাস থেকে ডাক এলো। সমাজসংস্কারক এবং আমেরিকার সাংস্কৃতিক অর্গানাইজেশনের প্রধান জনাব রাশেদ হুসেইন আমাকে গাইবার জন্য ডালাস ডেকে পাঠালেন। উনি আমার জীবনসঙ্গীর খালাতো বোনজামাই। ওনারা আমাদের খুব ভালোবাসেন। গুলশান আরা মিলি আপা আমাকে ভাইবৌয়ের মতো না নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসেন। তারা সব ঠিকঠাক করে এয়ার টিকিট পাঠালেন। আমার সাহেব ডোমেস্টিক ফ্লাইটে যেতে চাইছিলেন না।আমরা ইচ্ছে করেই ফ্লাইট মিস করলাম। আপা দুলাভাই রেগেও গেলেন না হাল ও ছাড়লেন না।উনারা গ্রেহাউন্ড বাসে টিকিট পাঠালেন। প্রায় আড়াই দিন সময় লাগলো লস এঞ্জেলস থেকে ডালাস যেতে। জার্নির প্রথম ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু যাত্রা শুরু করে মন ধীরে ধীরে তরল হয়ে এলো। কত জায়গা -ইনা পার করে বাস এগিয়ে যাচ্ছিলো! ভালোই লাগছিলো। নানাধরণের গাছপালা নানা রকম ঘরবাড়ি চোখের সামনে দিয়ে চলচ্চিত্রের মত অপসৃয়মান হচ্ছিলো।

আমি আবেগাপ্লুত হচ্ছিলাম। কোন কিছু মিস করার ভয়ে ঘুমাচ্ছিলাম না।হঠাৎ একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। বাস হয়তো থেমেছে, চোখ মেলে আমি স্তম্ভিত। একতলা সমান লম্বা ক্যাকটাস আমাদের বাসের সামনে দাঁড়ানো! কি অপূর্ব তার এই দাঁড়িয়ে থাকা। কি সুন্দর, অন্যরকম সুন্দর। জীবনসঙ্গীকে ধন্যবাদ দিলাম যে উনি ফ্লাইটে এলে এসব কিছু কিভাবে দেখতাম। আসলে সবকিছুরই ভালো দিক আছে। বুঝলাম টেক্সাসে ঢুকে পড়েছি।ওয়েষ্টার্ন জীবন যাত্রা চোখের সামনে দেখতে দেখতে ডালাস পৌঁছে গেলাম। যে কয়দিন ডালাস ছিলাম খুবই আনন্দে দিন কাটালাম।ihop এর নাস্তা আমার খুব পছন্দ হলো। বিখ্যাত ছবি ডালাস এর আসল শ্যুটিং এর বাড়িটিতে গেলাম। সেখানে দশ ডলার দিয়ে বাড়িটার একটি ইটের মালিকানা পাওয়া যায়। কিনলাম একটি ইট। আপা দুলাভাই খুব ফুর্তিবাজ মানুষ। তাদের সঙ্গে খুব আনন্দেই দিন কেটে গেলো। এভাবে একসময় বাংলাদেশে ফিরে এলাম। অনেক অভিজ্ঞতা অনেক আনন্দ অনেক সাফল্য এবং অনেক আত্মীয় স্বজন আমার জীবনের খেরোখাতায় যুক্ত হলো এবং সেই সঙ্গে বড় অংকের জীবিকা অর্জন হলো। দেশে ফিরে দেখি যত আগ্রহ নিয়ে আমার সন্তান মা বাবা শ্বশুর শ্বাশুড়ি অপেক্ষা করছেন তারচেয়ে বেশি ছবির গান জমে আমার অপেক্ষায় বসে আছে।আমি খুশিতে আত্মহারা।আমার অপেক্ষায় এতো গান! দুইচারদিন রেস্ট নিয়ে পুরোদমে স্টুডিওতে ঢুকে পড়লাম। আলহামদুলিল্লাহ।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]