সেই হোটেল থেকে দেখা যবে ২৪ ঘন্টায় ১৬ টি সূর্যোদয়

একসঙ্গে ১৬টি সূর্যোদয় দেখা! সে কী করে সম্ভব? বিজ্ঞান সে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে যাচ্ছে। আমেরিকার প্রযুক্তি বিষয়ক কোম্পানী ‘ওরিয়ন স্প্যান’ তৈরী করছে মহাকাশে হোটেল। আগামী দুই বছরের মধ্যে মধ্যাকর্ষণহীন এই হোটেল ‘ওরিয়ন স্টেশন’ ভাসবে আমাদের পৃথিবী থেকে ২০০ মাইল উঁচুতে। এই অভিনব হোটেলের জানালা দিয়ে দেখা যাবে পৃথিবীকে ঘিরে আশ্চর্য সব দৃশ্য।

শুধু ভেসেই থাকবে না, হোটেলটি খুব ধীর গতিতে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করবে। এই স্পেস হোটেল বানাতে খরচ পড়বে ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।

গেল সপ্তাহে ওরিয়ন কোম্পানীর বিজ্ঞানীরা এই বিলাসবহুল হোটেলের ভেতরকার সম্ভাব্য ছবি প্রকাশ করেছেন।মহাকাশে উড়তে উড়তে এই হোটেলের যাত্রীরা দেখতে পাবেন ২৪ ঘন্টায়  ১৬ টি সূর্যোদয় । এই উড়ন্ত হোটেল পৃথিবীকে প্রতি ৯০ মিনিটে একবার প্রদক্ষিণ করবে।

মহাকাশ হোটেলে অতিথি সংখ্যা হবে ৬ জন। তাদের সেবা দিতে থাকবেন ২ জন সহকারী। এই আশ্চর্য সফরের প্যাকেজ হবে ১২ ‍দিনের।ওরিয়ন স্প্যান কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্ক বানজার সিএনএন কে জানিয়েছেন, মানুষের কাছে মহাকাশকে আরো পরিচিত এবং সহজ করে তুলতেই তাদের এই উদ্যোগ। আগামী ২০২২ সালে হোটেলটি যাত্রী নিয়ে উড়াল দেবে মহাকাশে।

অবশ্য মানিব্যাগের জোর না থাকলে এই হোটেলের দরজা টপকানো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। একটি ট্রিপে যাত্রী প্রতি খরচ হবে ১০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের টাকায় মাত্র এক কোটি টাকা। তবে ‘ওরিয়ন স্টেশন’-এর যাত্রী হতে চাইলে অতিথিদের তিনমাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে মহাকাশ ভ্রমণ বিষয়ে।

১২ ফুট লম্বা এবং ৩৫ ফুট চওড়া এই অভিনব হোটেলটির আকৃতি হবে ছোটখাট জেট বিমানের সমান। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে হোটেলের যাত্রীরা মহাকাশ থেকেই লাইভ ভিডিও চ্যাট করতে পারবেন পৃথিবীতে রেখে যাওয়া স্বজনদের সঙ্গে। মধ্যাকর্ষণ শূণ্য অবস্থায় থাকায় যাত্রীরা হোটেলের সব জায়গায় ভেসে ভেসে বেড়াতে পারবেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন