সেমির স্বপ্নে আজ মরিয়া বাংলাদেশ

আহসান শামীম

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে ২০০৫ সালের ১৮ জুন তখনকার প্রবল শক্তিশালী  অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর, রাতে টিম হোটেলের সামনে মাশরাফিরা দেখলেন তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য দাঁড়িয়ে লিমুজিন গাড়ি। সেদিন দলের হয়ে প্রথম উইকেটটি নিয়েছিলেন আজকের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।সেই ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুল সেঞ্চুরি করেন।এরপর ওয়ান ডে ক্রিকেটে আষ্ট্রেলিয়া বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পরিসংখ্যানটা শূন্যই।

কার্ডিফে ওই জয়ের পর ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের পথেও এগিয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ।এবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কার্ডিফ ভেন্যু থেকে লজ্জার হার ছাড়া কিছু মেলেনি।পুরনো স্মৃতি যে কেবল সুখানুভূতির বাইরে কিছু নয় তাও জানেন মাশরাফি।অবশ্য মাশরাফি বিশ্বাস করেন অতীতের কিছুই আগামীতে তেমন কাজে লাগে না।নতুন দিন, নতুন ম্যাচ, প্রথম থেকেই শুরু করতে হয়। ২০১৫ বিশ্বকাপ ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ ভেসে গিয়েছিলো বৃষ্টিতে। অধিনায়কের চোখে জয়ের সংখ্যা না বাড়ার সেটাও একটা কারণ। ‘সাম্প্রতিক অতীতে, আমাদের দল যখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে আমরা যে কোনো দলকে হারাতে পারি, তারপর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি।’এমনটাই জানলেন মাশরাফি।১৪ বছর পর ইংল্যান্ডের  মাটিতেই আরেক জুন মাসে আবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ।সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচাতে আজ অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জিততে মরিয়া বাংলাদেশ।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দেওয়ার সাহস নিয়ে, ফুরফুরে মেজাজে টনটন থেকে ন্যাটিংহাম  মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।মাশরাফিদের নটিংহ্যাম বৃষ্টি দিয়ে জানালো অভর্থনা।ঝিরিঝিরি বৃষ্টি গতকালও ছিলো। নটিংহ্যামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছেন, আজ ম্যাচের দিনে দুপুর দুটো প্রর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা ৩৪ শতাংশ।আকাশ থাকবে মেঘলা।ম্যাচের মাঝেও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ঐচ্ছিক অনুশীলনে দেখা যায়নি, ব্যাট বল হাতে সাইফউদ্দিনকে।গুঞ্জনের শুরু তখনই। পিঠের মাংশপেশীতে টান ধরেছে তার।আজকের মহাগুরুত্বপূর্ন খেলায় তিনি খেলতে পারবেন কিনা সেটা সকালে তার ফিটনেসের পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত হবে।সাইফউদ্দিন ফিটনেসের পরীক্ষায় পাশ না করলে দলে তার পরিবর্তে মাঠে দেখা যেতে পারে রুবেল হোসেনকে।

 অষ্ট্রেলিয়া দলে ব্যাট হাতে অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা ফর্মে রয়েছেন। বোলিং বিভাগে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সরাও রয়েছেন দারুণ ছন্দে।অন্যদিকে ওয়েষ্ট উইন্ডিজকে হারিয়ে উজ্জিবীত টিম বাংলাদেশ।সাকিব মনে করেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার পেস নিয়ে  আমাদের  দুর্ভাবনা কম।  আমরা ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট উইন্ডিজকে খেলেছি। ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা পেসার ছিলো দুই দলেই। আমাদের স্রেফ মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে। আমরা দল হিসেবে বেশ দক্ষ আর সব চ্যালেঞ্জের জবাব দিতেও যথেষ্ট সমর্থ।’

দলে প্রকৃত একজন অলরাউন্ডারের অভাব বোধ করছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান হ্যাডিন। মার্কাস স্টয়নিসের ইনজুরি দলটার সেরা একাদশ গোছাতে সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী কোচ ব্রাড হ্যাডিন।বিশ্বকাপে পাঁচ বার মুখোমুখি দুই দলের বিপক্ষে অষ্ট্রেলিয়ার জয় চার আর হার এক।

ট্রেন্ট ব্রিজে মঙ্গলবার অনুশীলন করেছেন স্টয়নিস।অনুশীলনে তেমন ব্যথা অনুভব করেননি তিনি।এছাড়া দলের পেসার নাথান কুল্টার নাইলও ফিট হয়ে উঠেছেন। পিঠের ইনজুরির কারণে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা হয়নি তাঁর।স্বস্তির নিঃশ্বাস তাই অষ্ট্রেলিয়ান শিবিরে।বাংলাদেশের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার ব্যাপারে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া। ইনজুরিতে থাকা মার্কাস স্টয়নিস ফিরতে পারেন এই ম্যাচে, আরেক পেসার নাথান কুল্টার নাইলের ফেরাও অনেকটা নিশ্চিত।

বাংলাদেশ দল বল আর ব্যাট হাতে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দারুণ সময় কাজে লাগাছেন ধারাবাহিক ভাবে সাকিব আল হাসান।ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে দূরদ্যান্ত এক জয়ের পর বলেন,’৩২২ রান চেস করায় এখন থেকে ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া পরিবর্তন আনবে। এমন ম্যাচ জিততে হলে মাইন্ডসেট খুবই কাজে দেয়। মানসিক শক্তি কাজে দেয়। মানসিকভাবে শক্ত থাকলে তা কাজে আসে। যুদ্ধ আসলে হয় নিজের সাথে। নিজের কাছে হেরে গেলে যুদ্ধে হারতে হয়। নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে যুদ্ধে জেতা যায়।’

২০ জুন  বাংলাদেশের ম্যাচে সাকিবকে সামলাতে নেটে বাঁহাতি স্পিনারের শরণাপন্ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।দেশটার ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ক্রিকেট ডটকমএইউ এমনই খবর প্রকাশ করেছে।সাকিবকে থামাতেই অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য অস্ত্র হিসাবে আ্যাষ্টন আ্যগারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা। অজি নেটে নাথান লায়ন ও অ্যাডাম জাম্পাদেরও বোলিং এ ব্যাস্ত থাকতে দেখা গেছে। ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাকিব কতটা ভয়ঙ্কর সেই ঝাঁজটা দু’বছর আগেই মিরপুরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেষ্ট জয়ের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দশ উইকেট তুলে নেন

অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি জানানা, বাংলাদেশের ব্যাটিং ফর্ম ভাবাচ্ছে তাদের,বিশেষ করে সাকিব আর লিটন দাশের দিকেই অষ্ট্রেলিয়ান বোলারদের নজর।

সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ ২০ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্টার্ক-রিচার্ডসনদের বাউন্স আর গতির বিপক্ষে বড় পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে।টনটনের মতই মাঠের আকৃতি অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ সন্তুষ্ট।তার এই আস্থার জায়গা টনটনে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং।এমন সুবিধা অস্টেলিয়ার জন্যও উন্মুক্ত।মাঠ বা অষ্টেলিয়ার শক্তির বিচার না, বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডর্স মাঠে পরিকল্পনা আর পরিস্থিতি অনুযায়ী দলের কাছ থেকে সেরা খেলাই আশা করছেন।স্পিন আর মিডিয়াম পেসেই দূর্বল অষ্ট্রেলিয়া, এই সুযোগটাই কাজে লাগতে চান মাঠে কোচ স্টিভ রোডর্সের শিষ্যরা।অবশ্য অষ্ট্রেলিয়ানদের লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ ভাবাচ্ছে

আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩:৩০ মিনিটে অজিদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

ছবিঃ গুগল