সে এক অন্য রকম অনুভূতি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুরঞ্জনা মায়া

কিশোর কালের বয়স ছিলো, মনে তখন রঙ ছিলো। মনের মাঝে ফুল ছিলো…। নাহ এতো কাব্যি করে না বললেও কিশোর/ কিশোরীরা তখন যথেষ্ট রোমান্টিক ছিলো। বিশেষ করে সাহিত্য পড়ুয়া অকাল পক্কদের। আমি বলছি আমার কালের কথা। সে-ই যে সদ্য স্বাধীন দেশে নওল কিশোর কিশোরীদের কথা। সদ্য স্বাধীন দেশে রেডিও সিলোনের আমীন সায়ানীর ভারী গমগমে কন্ঠস্বর, তাবাসসুমের রিনরিনে কাচভাঙ্গা কন্ঠ শুনে তখনকার কিশোর/কিশোরী প্রেমে পড়েনি একথা বুকে হাত দিয়ে ক’জন বলতে পারবে? আমি তো ভাই মিথ্যে বলবোনা! আমি পটাপট প্রেমে পড়তাম। আমীন সায়ানী, চিত্রালির পাতায় জাফর ইকবাল, সারদীয় উলটোরথ/ প্রশাদের পাতায় রাজেশ খান্না, শাম্মি কাপুরদের দেখে ধপাধপ প্রেমে পড়তাম। শুধু কি তাই?

মনোজ বসুর নিশীকুটুম্ব উপন্যাসের নায়ক চোর সাহেব, বিমল মিত্রের থান ইট উপন্যাস সাহেব বিবি গোলামের ভুতনাথ, কড়ি দিয়ে কিনলামের দিপু, বিভুতি ভুষনের অপরাজিতের অপু এদের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি।

এমন হাবুডুবু অবস্থাতেও টের পেয়েছি আশেপাশে মলয় বাতাস বইছে, বকুল গন্ধ্যে বন্যা এসেছে, কোকিলের কুহুধ্বনী…! আহা! সে এক অন্য রকম অনুভূতি!

সব সময় নিজের চেহারা, রঙ নিয়ে কথা শুনে শুনে নিজের মনে বদ্ধমূল ধারনা জন্মেছিলো আমায় দেখে বাস্তবে কোন মুগ্ধ দু’চোখ অপলকে তাকাবেনা। তাই যখন থেকে টের পেলাম মুগ্ধ নয়ন শুধু এক জোড়াই নয়, প্রায় হাফ ডজনের মত তখন আমার সখী ধর! ধর! দশা! সেযুগে কোন মেয়ে বা ছেলে পরস্পরের দিকে সরাসরি তাকাতে প্রচুর হিম্মতের প্রয়োজন ছিলো। যা কিনা মফস্বলের ছেলে/মেয়েদের মধ্যে তেমন দেখা যেতোনা।রাতের বেলা হঠাৎ করে কারেন্ট চলে গেলে মায়েদের সঙ্গে ছানাপোনারাও রাস্তায় নেমে আসতো। মায়েরা গল্পে মশগুল কাচ্চা, বাচ্চারা ছুটোছুটি আর আমার মত কলিরা একটু আনমনা ভানে এলোমেলো হাটাহাটি। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের এন্টেনা সজাগ হয়ে থাকতো। কোন কোনা, গেটের পিলারের চিপায় উঠতি রাজেশ খান্না, শাম্মি কাপুরের মুগ্ধ দৃষ্টি যেন এন্টেনা এড়িয়ে না যায়। তেমনি এক রাজেশ খান্নার দৃষ্টির ঠ্যালায় আমার সখী ধরধর ভাব উধাও হয়ে সখী ছেড়ে দে পালিয়ে বাঁচি দশা হলো। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যে তার আকুল দৃষ্টি আমার লেডি হিটলার আম্মা সহ তামাম পাড়ার অভিবাবক কুলের নজরে পড়ে আমার অবস্থা খারাপ করে দিলো। তাকে দেখলেই পাশের বাড়ির চাচা চট করে আমাদের জানালায় গোয়েন্দা নজর চালিয়ে নিতেন। পাশের বাড়ির আরেক কেষ্ট চট করে আমাদের বাড়ি প্রদক্ষিন করে ফেলতো। আর আম্মা? অন্য কাজ ফেলে আমি জানালায় দাঁড়িয়ে আছি কিনা তা দেখে নিয়ে “ খবরদার! জানালার সামনে দাড়াবেনা!’’ হুশিয়ারী বাক্য ছুড়ে দিয়ে যেতেন। এমন যন্ত্রনার মাঝে সেই রাজেশ খান্না অচিরেই আমার কাছে ভিলেন প্রানের ভুমিকায় অবতীর্ন হলো। অতঃপর আর কি? সে প্রেম ফোটার আগেই মুর্ছে গেলো। তবে পরবর্তীতে আরো প্রেম যে জীবনে আসেনি তা কিন্তু নয়। সেসব অন্য কোন সময়!

ছবি: লেখক ও গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]