সোনার কাপের লড়াই আজ

আহসান শামীম

বিশ্বে ফুটবলের সবচাইতে বড় আসরকে বিদায় জানাতেই রাশিয়ার মস্কো শহর আলোয় আলোয় উদ্ভাষিত। সাজানো হয়েছে ক্রেমলিনকেও। পথে পথে গান গেয়ে ফিরছে লুকা মাদ্রিচের ক্রেয়েশিয়ার মানুষ। উত্তেজনায় টগবগ করছে ফরাসী সমর্থকরা। আজ ১৫ জুলাই আর কয়েক ঘন্টা পরেই যবনিকা নামবে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের। এ উত্তেজনার মাঝে বেদনার সুর তো আছেই। একমাস ধরে ফুটবল জ্বরে কেঁপেছে বিশ্ব। কত আলোচনা, বিতর্ক আর বিশ্লেষণের সমাপ্তি আজ। ভবিষ্যদ্ববাণীর ছড়াছড়ি চারদিকে। উট বলছে কাপ যাবে ক্রেয়েশিয়ার ঘরে, বিড়াল জানাচ্ছে জয় নেবে ফ্রান্স। তবে শেষ নিষ্পত্তি হবে মাঠেই।

সেমিফাইনালে ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া।আজ শেষ ম্যাচে জয় তাদের হলে দেশটির নাম বিশ্বকাপের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা হয়ে যাবে। ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স ।দ্বিতীয়বারের মতো আজ বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি ফ্রান্সের নবপ্রজন্মের ফুটবলার গ্রিজম্যান-এমবাপ্পেদের সামনে।

ফাইনালের রেফারী

ফাইনালে শক্তিমত্তার দিকে ক্রোশিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে ফ্রান্স। দুই দল ইতিপুর্বে ৫ বার মুখোমুখী হলেও জয় মেলেনি ক্রোশিয়ার।৩ ম্যাচই জিতেছে ফ্রান্স বাকী দুই ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্র দিয়ে। তবে বড় দল হিসেবে এই ম্যাচে ফ্রান্সের কাঁধেই চাপ বেশী থাকবে। ক্রেয়েশিয়ার কোচ ডালিচ মনে করেন, ‘ফ্রান্স ফাইনালে ওঠার পথে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, বেলজিয়ামের মতো দলকে হারিয়েছে। তাই তাদের সমীহ করতেই হবে। কিন্তু তাই বলে ওরা অপরাজেয় নয়। ফাইনালে কেউ ফেবারিট থাকে বলে মনে করি না। পারফরমেন্সই শেষ কথা’

ফ্রান্সের পল পোগবা এই খেলায় সতর্ক থাকতে চান। কারণ ক্রেয়েশিয়া প্রথমবার ফাইনাল খেলতে এলেও তাদের পিছিয়ে পড়ে লড়াই করার শক্তিকে সমীহ করছেন তিনি। তবে নিজের দেশের জয় নিয়ে সংশয় নেই এই খেলোয়াড়ের।

এতো উত্তেজনার মাঝে সংবাদ সম্মেলনে কিন্তু শান্ত, স্থির ক্রেয়েশিয়ান অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। প্রত্যয়ী কন্ঠে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, ‘জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যেখানে এসেছি, তাতেই আমি তৃপ্ত। মাঠে নামলে বয়স বা রুগ্ন চেহারা আমাকে থামাতে পারে না। আমি দৌড়েই চলি দলকে জেতাতে। সোনার বল নয়, আমাকে দৌড়ে শক্তি যোগায় দেশকে জেতানোর তাগিদ।’

ক্রেয়েশিয়ার মতো উত্তেজনায় কাঁপছে ফ্রান্সও। উত্তেজিত দেশের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। দু’‌বছর আগে ইউরো ফাইনালে হেরে যেতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বার যাতে সে ভুল না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক দিদিয়ের দেশের দল। রাজধানী প্যারিসে এখন চলছে প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি ছাপানো জার্সি কেনার ধুম। এমবাপেদের জার্সি বিক্রি হচ্ছে অনেক দামে। পছন্দের ফুটবলারদের নাম লেখা জার্সি কিনছেন অনেকেই। সবচেয়ে বেশি বিকোচ্ছে কিলিয়ান এমবাপে ও এনগোলো কন্তের নাম লেখা জার্সি। দুই তরুণই যথেষ্ট শোরগোর ফেলেছেন রাশিয়ায়। 

ইতালির বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচে জিনেদিন জিদানকে লাল কার্ড দেখিয়ে ফরাসিদের কাছে দুই চোখের বিষ হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন রেফারি হোরাসিও এলিসান্দো। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের এই আর্জেন্টাইন আজও ফরাসিদের কাছে ‘কুখ্যাত’ হিসেবেই পরিচিত। এক যুগ পর আবারও ফাইনালে ফ্রান্স। এবারও শিরোপার লড়াইয়ের এই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে আর্জেন্টিনার রেফারি। তবে তিনি হোরাসিও নন, তারই স্বদেশী নেস্তর পিতানা। ফাইনাল পরিচালনার জন্য তার কাঁধেই দায়িত্ব দিয়েছে ফিফা। ফাইনালে এই আর্জেন্টাইন রেফারির সহকারী হিসেবে থাকবেন এর্নান মাইদানা ও হুয়ান বেয়াত্তি। চতুর্থ রেফারি বোর্ন কুইপার্স।

লুঝনিকি স্টেডিয়াম চত্বরে গতকাল শনিবারও ছিলো মানুষের মেলা। টিকিট পাওয়ার সুযোগ নেই। তবুও হাজার হাজার মানুষ আসছেন শুধু স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকা দেখতে, ছবি তুলতে। বিশ্বকাপের একটা বড় ‘রেপ্লিকা’ রাখা রয়েছে একটি স্পনসর কোম্পানির স্টলে। তার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন অনেকেই। লুকা বা লরিসও কিন্তু চান ও রকমই একটা ছবি তুলতে। তবে  আসল কাপের সঙ্গে।

ছবিঃ ফিফা, ফক্স নিউজ