স্টিফেন হকিংকে পৃথিবী বহুকাল মনে রাখবে

স্যার স্টিফের উইলিয়াম হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট ও টিম তাদের বাবা, মহান বিজ্ঞানী স্টিফের হকিংয়ের মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় বাবা আজ মারা গেছেন। তিনি একজন বড় বিজ্ঞানীউ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। তার কাজ বহু বছর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে’। আজ সকালে এই বিজ্ঞানী ৭৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে মহাকালের পথে যাত্রা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজে নিজের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে

স্টিফেন হকিংসের জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারী। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই তারিখটা ছিলো বিজ্ঞানী গ্যালিলিও‘র ৩০০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন। স্কুলে খারাপ ছাত্রের খাতায় নাম ছিলো হকিংসের। ক্লাসের মেধা তালিকায় একেবারে শেষের শুরুতে তাঁর নাম থাকতো। কিন্তু শিক্ষকরা এই মানুষটির প্রখর বুদ্ধির তারিফ করে গেছেন সব সময়। স্কুলে বিজ্ঞানের প্রতি হকিংসের গভীর আগ্রহ দেখে দাকে ‘আইনস্টাইন’ নামে ডাকা হতো। তবে ক্ষুদে আইনস্টাইন হয়েও বাড়ির ঘড়ি, রেডিও যা খুলতেন তা আর জোড়া দিতে পারতেন না হকিং।
বাবার ইচ্ছা ছিলো ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর। কিন্তু টাকার অভাবে সে ইচ্ছা তিনি পূরণ করতে পারেননি। চিকিৎসকও হননি হকিং। গণিতে তীব্র আগ্রহ থাকার পরেও অক্সফোর্ডে এসে ভর্তি হলেন পদার্থ বিজ্ঞানের একটি অপ্রচলিত শাখা কজমোলজি। হকিং বলেছিলেন ‘যদি কম ভরের কোনো কৃষ্ঞগহ্বর আবিষ্কত হয় তাহলে আমি নোবেল পুরস্কার পেয়ে যাবো। কিন্তু না, শেষ পর‌যন্ত নোবেল পুরষ্কার তাঁর পাওয়া হয় নি। আলফ্রেড নোবেল সাহেব যখন তাঁর পুরস্কারের উইল তৈরী করে যান তখন সেখানে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেন। উইলের এওকটি বড় অংশ জুড়ে ছিলো-‘ব্যবহারিক ভাবে প্রমাণিত’ কথাটা।
নোবেল পুরস্কার ছাড়া আর সব পুরস্কার আর স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তাঁর একটি অবক্ষ মূর্তি আছে। বৃটিশ রাণী তাকে ‘অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার এবং ‘অর্ডার অফ দ্যা কম্প্যানিয়ন’-এ ভূষিত করেন। তিনি পেয়েছেন আমেরিকার ‘মেডেল অফ ফ্রিডম’ পদকও।
হকিংকে নোবেল পুরস্কার না দিতে পারার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, একটা ব্ল্যাকহোল থেকে হকিং বিকিরণ বের হয়ে আসছে কি না, সেটা মাপার মতো কারিগরি ক্ষমতা এখনো মানুষের করায়ত্ত হয়নি।
২০০৭ সালে স্টিফেন হকিং তার মেয়ে লুসি হকিং এর সাথে মিলে লিখেছিলেন ছোটদের বই “George’s secret Key to the Universe” যা জর্জ নামের ছোটো বালকের কাহিনি কিন্তু যাতে রয়েছে ব্ল্যাকহোলসহ নানা বৈজ্ঞানিক ধারণা। ২০০৯ সালে বের হয়েছে এই বইয়ের পরবর্তী পর্ব।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল