স্পেনের সেই জনযোদ্ধারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্পেনের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ নিয়ে কবিতা লিখেছেন লোরকা। এই যুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসকের পুলিশ বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন কবি।তাঁকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে। শুধু লোরকাই বা বলি কেনো? ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে স্পেনের গৃহযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন গোটা পৃথিবী থেকে প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দেয়া বহু মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন কবি, লেখক, শিল্পী আর সাংবাদিক।সেই রণক্ষেত্রে এই বাহিনীতে বন্দুক হাতে লড়াই করেছিলেন আর্নেস্ট হেমিংয়ে, ক্রিস্টোফার কডওয়েল, বিখ্যাত আলোকচিত্রী রবার্ট কাপার মতো মানুষেরা।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তখন প্রায় ৩৫ হাজার প্রগতিবাদী মানুষ স্পেনে গিয়েছিলেন স্বৈরাচারী জেনারেল ফ্রাঙ্কোর বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তাদের এক পঞ্চমাংশই সে যুদ্ধে নিহত হন।স্পেনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করতে যাওয়া সেই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নাম দেয়া হয়েছিলো ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড’। যদিও তখন ফ্রাঙ্কোর প্রচারণা সেল এদের ‘রেড মার্সেনারিজ’ বলে অভিহিত করেছিলো।

আশি’র দশকে স্পেনের সাংবাদিক গ্যালিস টার্মলেট স্পেনের সেই ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড নিয়ে একটি বই লেখার কাজ শুরু করেন। কাজ করতে করতে গ্যালিস রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে স্পেনের গৃহযুদ্ধ বিষয়ে বেশ কিছু দুর্লভ তথ্যের সন্ধান পান। অনেক চিঠিপত্র লেখালেখির পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আর্কাইভ তাকে সেই গোপন তথ্য নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেয়। গ্যালিসের সামনে খুলে যায় সেই গোপন তথ্য ভাণ্ডারের দরজা। গ্যালিস সেই গোপন তথ্য নিয়ে কাজ করতে করতে সিদ্ধান্ত নেন এই বিষয়ের ওপর একটি বই লিখে ফেলার। বইয়ের কাজ বেশিদিন ফেলে রাখেননি গ্যালিস। তার লেখা ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেডসঃ ফ্যাসিজম, ফ্রিডম অ্যান্ড স্প্যানিশ সিভিল ওয়ার’ বইটা প্রকাশিত হয়।

সেই বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে জানা গেলো ১৯৩৬ সালের পর পৃথিবীর ৫২টি দেশ থেকে এই স্বেচ্ছাসেকরা জড়ো হয়েছিলেন স্পেনে। তাদেরকে জাতীয়তা, ভাষা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। তখন তাদের একটাই বড় পরিচয় ছিলো, তারা স্বৈরাচার-বিরোধী। লেখক জানাচ্ছেদ এই যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ গভীর ভাবে কমিউনিজমে বিশ্বাসী ছিলেন।

তখন সোভিয়েট ইউনিয়ন ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেডকে সমর্থন দিলে হিটলার ও মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোর পক্ষে দাঁড়ায়।কিন্তু তবুও এই ব্রিগেডের সদস্যরা পিছু হটেননি। খুব একটা প্রশিক্ষণ ছাড়াই তারা রিপাবলিকান শিবিরের সেরা যোদ্ধাদলে পরিণত হয়েছিলেন। তারা অস্ত্র হাতে মানুষের, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ঝিাঁপিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধের আগুনের একেবারে মাঝখানে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ দ্য স্পেক্টেটর, গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments