স্বপ্ন সুদূর

আহসান শামীম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের রেকর্ড গড়া ৩৮৬/৬ রান। এমন রান তাড়া করে জয়ের কোন ইতিহাস ও বিশ্বকাপে নেই। আজও হলো না।শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বাংলাদেশের সেমির স্বপ্নটা ধূসর হয়ে গেলো। কিন্তু শেষ হলো না। অনিশ্চিত অপ্রত্যাশিত কোন হিসাব নিকাশে বেঁচে থাকলো আশা।বাংলাদেশের আজও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামার যৌক্তিক কারণ বোঝা দায়।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভাল পরিসংখ্যান আর দ্রুত গতির বোলার কিভাবে আজকের একাদশে জায়গা পায়নি, সেই প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল সোচ্চার।মিঠুনের চেয়ে ও ভাল ফর্মে থেকে লিটন একাদশে না থাকার বিষয়টাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।মুশফিক যখন ব্যাকপেইনে ভুগছেন তখন দলে দ্বিতীয় উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন একাদশে থাকার দাবী রাখেন।
টস জিতে সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল সেই বিতর্কের সুযোগ নাই। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও টস জিতে ফিল্ডিং করতে চেয়েছিলেন।ধারাভাষ্যকারও টসের আগে জিতলে ব্যাটিং নেওয়ার কথাই আলোচনা করেছিলেন।যদিও দুই অধ্যায়ের খেলা দেখার পর টস জয় আর তারপরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলেই মনে হলো।
বাংলাদেশের বোলারদের বলে না ছিল গতি, না ছিল ঘূর্নি। সেই সাথে লাইন লেন্থেরও ছিল অভাব।বাজে বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং দৈন্যতার সুযোগ পুরাপুরি কাজে লাগিয়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। সাকিব আল হাসানের করা ওভারের দ্বিতীয় বল ডিপ মিডউইকেটে ঠেলে দেন জনি বেয়ারস্টো। মিঠুন দৌড়ে বাউন্ডারি ঠেকালেন ঠিকই । কিন্তু বল উইকেটরক্ষকের কাছে পাঠানোর আগে দৌড়ে চারবার জায়গা বদলে করে নেন রয়-বেয়ারস্টো।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এভাবে চার রান নেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।মোস্তাফিজের করা ওভারের পাঁচ নম্বর বল পুল করে জেসন রয় এক রানই নেওয়া কথা। কিন্তু এবারেও স্কয়ার লেগের হাস্যকর মিস ফিল্ডিংয়ে বলটা বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করলো। সেই সাথে জেসন রয়ের শতরান পূর্ন হয়ে যায়।এগুলো দুইটা উদাহরণ মাত্র, এমন ঘটনা ছিল পুরো ম্যাচের প্রথম অধ্যায়।

বাংলাদেশের বোলারদের কাঁদানো আর ফিল্ডারদের ফিটনেসের পরীক্ষাটা সবচেয়ে বেশি করে নিলেন জেসন রয়।মিরাজের ওভারে রয় টানা তিন ছয় মারার পর ১২১ বলে ১৫৩ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে তিনি মোট ১৪ টা বাউন্ডারি আর ৫ টা ওভার বাউন্ডারি মারেন। জস বাটলার ৪৪ বলে ২ টা চার আর চার ছয়ের সাহায্যে ৬৪ রান করেন।জনি বেয়ারস্টো ৫০ বলে ৫১ আর শেষের দিকে মাত্র ৭ বলে ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট।
২০১৭ সালে এই কার্ডিফেই নিউজিল্যান্ডর বিপক্ষে সাকিবে ১১৪ রানের ইনিংস।আজ আবারও এই কার্ডিফেই সাকিব ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ বলে শতক হাঁকালেন।প্রাপ্তির মধ্যে আজ সাকিবের ১২১ রানের ইনিংসের সুবাদে এখন পর্যন্ত এবারের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।এবারে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পাশাপাশি ৩ ম্যাচে বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের সংগ্রহ ৮৬.৬৬ গড়ে ২৬০ রান সাথে স্ট্রাইক রেট ৯৫.৯৪।আজকের ম্যাচ সেরা জেসন রয়ের ৩ ম্যাচে সংগ্রহ ২১৫ রান। তাঁর ব্যাটিং গড় ৭১.৬৬ সাথে স্ট্রাইক রেট ১১৮.৭৮ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

ছবি ঃ ইএসপিএন