স্বাধীনতার ১০০ বছরে বাংলাদেশ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একদিন স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছাবে বাংলাদেশ। কেমন হবে সেই দিন অথবা সেই দিনগুলি?ভবিষ্যত প্রজন্ম কীভাবে জীবনযাপন করবে, কোন সুরে গান গাইবে, কোন বেদনায় কাঁদবে, কোন আনন্দে হেসে উঠবে জানি না আমরা। কেউ বলতেই পারেন, এ আবার কেমন কথা! যে সুরে এখন আমরা গাইছি, যে বেদনায় প্রাণ কেঁদে উঠছে, যে আনন্দে জী্বন জাগছে তখনও তাই ঘটবে। কিন্তু আগামী ৫০ বছরে পৃথিবীর, পৃথিবীর মানুষের, তাদের জীবনযাপনের ধারায় যে বড় পরিবর্তন আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনুমান করা যায়, আপাদমস্তক বদলে যেতে পারে এই চিরচেনা পৃথিবী আমাদের।

আগামী ৫০ বছরে মানুষ মঙ্গলে যাবে? জানি না। হুট করে চাঁদে যে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে সেটাই কি আমরা জানতাম? পৃথিবীর দেশে দেশে সীমানার কাটাতার কি উঠে যাবে? জানি না।দারিদ্র্য দূর হয়ে যাবে, ক্ষুধা নিবারণের জন্য বিজ্ঞানীরা মোক্ষম ওধুধ বানিয়ে ফেলবেন, রোগভোগ মানুষের জীবনে আর অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে না, শিশুদের হাসিতে ভরে উঠবে পৃথিবী? না, এতসব প্রশ্নের কোনটার উত্তরই আশা করি জানা নেই কারুর।জানার কথাও নয়। সময়ের দাস মানুষ তাই শুধু আশা করতে পারে, আশায় বুকবেঁধে চেষ্টা করতে পারে তার সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণের জন্য।

একটি স্বাধীন দেশের অভ্যুদয় যারা দেখেছেন তারা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি…সত্যি নিজের জন্মভূমির মতো সুন্দর পৃথিবীতে আর কিছু হয় না।স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার মতো এমন আনন্দের অনুভূতিও বিরল। বহু মানুষের জীবনে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীনতা দেখার সৌভাগ্য হয় না। আমাদের দেশের আপামর মানুষ ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে, নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে স্বাধীনতার বেদীতে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ ডানা মেলেছে। এই উত্থান গৌরবের।এই উত্থানের কাহিনি আমরা জাতি হিসেবে আরও বহু বহু বছর বুকের মধ্যে বহন করে নিয়ে যেতে পারবো।

একটি দেশের মাটি যখন শহীদের রক্তচিহ্ন বহন করে সে মাটি পবিত্র হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর আমরা সেই গৌরব আর পবিত্র অনুভূতি বহন করছি। পৃথিবী যতোই পাল্টে যাক আগামী ৫০ বছরে এই ইতিহাস কখনো মুছে যাবে না। বহু সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, অস্থিরতা, হানাহানি, রক্তপাত আর অগৌরবের কাহিনি আমরা জন্ম দিয়েছি গত ৫০ বছরে। ইতিহাস তারও সাক্ষ্য বহন করছে। সে ইতিহাস আমাদের পরিচয়কে খর্ব করেছে, আমাদের সংস্কৃতিকে ভাঙ্গনের মুখে নিয়ে গেছে, আমাদের বিভাজিত করেছে। এই প্রবণতার শেষ অধ্যায় মানুষ হিসেবে আমাদেরই লিখতে হবে। আগামী ৫০ বছর পর একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে আমাদের ভিন্ন ভাবে ভাবতে হবে। আবারও দেশকে ভালোবাসার পাঠ গ্রহণ করতে হবে, প্রার্থনার মতো করে বাংলাদেশকে বুকের গভীরে স্থান দিতে হবে; বলতে হবে আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল   

 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box