স্যার এফ আর খানের শহরে আমরা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

বিশ্বখ্যাত বাঙালি আর্কিটেক স্যার এফ আর খান।

মনিজা রহমান

ছোটবেলায় স্কুলের বইয়ে পড়েছিলাম- ‘শিকাগো কেন ওপরের দিকে বাড়ে?’ আরো পড়েছিলাম একজন বিশ্বখ্যাত আর্কিটেক স্যার ফজলুর রহমান খানের কথা। তাঁর নকশায় সৃষ্টি সিয়ার্স টাওয়ারের কথা। যে সিয়ার্স টাওয়ার বিশ্বের বুকে টানা ২৪ বছর সবচেয়ে উচুঁ ভবন ছিলো। শিকাগো শহরে গিয়ে আমাদের দেখার সৌভাগ্য হলো সেই ঐতিহাসিক ভবনটির। আমাদের রোড ট্রিপে বাফেলো, ওহাইও’র কলম্বাসের পরে তৃতীয় শহর হিসেবে শিকাগোতে গেলাম আমরা।

শিকাগো। আমেরিকার তিনটি বড় শহরের কথা বললে চলে আসবে যার নাম। এটি আমেরিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর। আবার ট্যুরিস্টদের আকর্ষণের কেন্দ্রভূমি। আকাশছোঁয়া ভবনের শহর। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যর শহর। ওহাইও’র মতো শিকাগো নামটিও আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের দেয়া। রেড ইন্ডিয়ানরা বন্য পিয়াজকে বলতো ‘শেকাগেহ’। এই অঞ্চলে বিশেষ ধরনের এই পিঁয়াজের অতি ফলন ছিলো। সেখান থেকে এই শহরের নাম হয় শিকাগো।

সিয়ার্স টাওয়ারের ১০৩ তলা থেকে শিকাগো শহর।

শিকাগো শুধু আমেরিকায় কেন সারা পৃথিবীর শ্রমজীবি মানুষের তীর্থভূমি। ১৮৮৬ সালে এই শহর থেকে একদিন যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘মে দিবস’ এর। শিকাগোতে শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকরা সমানুপাতিক হারে বাস করে। প্রত্যেকে আলাদা এলাকাতে থাকে। আছে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশীদের এলাকাও। যার পোষাকী নাম- ডেটন এভিনিউ। তবে সবাই বলে ’দেশী’ এলাকা।

আমেরিকার জীবিত প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে মানুষটি, সেই বারাক ওবামাও থাকতেন এখানে। তিনি এই শহরের সিনেটর ছিলেন। এখান থেকেই তিনি আমেরিকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। প্রেসিডেন্ট হবার পরে হোয়াইট হাউজে চলে যান। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনে এক ভাড়া বাসায় থাকেন। শিকাগোর বাড়িটি ‘মিউজিয়াম’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের মতো অনেক ট্যুরিস্ট প্রতিদিনই ওবামার বাড়িটি দেখতে আসেন।

তবে সিয়ার্স টাওয়ার (যার বর্তমান নাম উইওলস টাওয়ার) এ গিয়ে দেখলাম, সেখানে ট্যুরিস্ট যেন উপচে পড়া। একদিন আগে টিকেট কিনে রাখতে হয়। আমাদের শিকাগো সফরের দ্বিতীয় দিনে গেলাম সেখানে। গাইডরা প্রথমে আমাদের ধাপে ধাপে ১০৩ তলায় নিয়ে গেল। ওখান থেকে দেখলাম উচুঁ ভবন, নদী, লেক মিলে অনিন্দ্যসুন্দর শহরটাকে। ভাবতেই গর্ব হলো যে এই ভবনটি একজন বাঙালির নকশা দিয়ে সৃষ্টি। এই ভবনের সামনে স্যার এফ আর খানের নামে একটি রাস্তাও আছে।

নেভি পিয়ারে গেলাম প্রথম দিন। মানুষের মিছিল সর্বত্র। তবে সবার মুখে মাস্ক থাকতেই হবে। প্রথম টিকেট কেটে গেলাম শিকাগো রিভার ক্রুজে। সেখানে নদী পথে খোলা ডেক থেকে উপভোগ করলাম দুই পাশের শহরকে। একজন ‘ন্যারেটর’ চমৎকারভাবে বর্ণনা করছিলেন সব। মিশিগান লেকের যাত্রাটা আরো উপভোগ্য ছিলো। নামে ’লেক’ হলেও সমুদ্রের মতোই আদিগন্তহীন। বিশাল সব ঢেউ ডুবিয়ে দিচ্ছিলো অদম্য সার্ভারদের। দামী সব ইয়াটগুলি মনে করিয়ে দিচ্ছিলো হলিউডের মুভির দৃশ্য। আসলেই যেন সিনেমার মতো দু’টি দিন কাটালাম আমরা শিকাগোতে।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]