হকিংয়ের নতুন বই নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা

স্টিফেন হকিং-এর মৃত্যুর ৮ মাস পরে তাঁর শেষ বই ‘ব্রিফ আনসারস টু দ্য বিগ কোয়েশ্চেনস’ গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রকাশের একদিন পরেই সে বই নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

বইতে কী কী বলে গেছেন পৃথিবীর এই প্রথিতযশা পদার্থ বিজ্ঞানী। বলেছেন-মহাকাশের কোথাও থাকতে পারে এলিয়নদের অস্তিত্ব যারা একদিন আঘাত হানতে পারে পৃথিবীতে, রোবটের কাছে বিপন্ন হবে মানুষের অস্তিত্ব, মানুষ সম্ভব করতে পারে সময়কে অতিক্রম করার কাজ যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় টাইম ট্র্যাভেল।আর শেষে খুব দৃঢ় ভাবে অস্বীকার করেছেন ঈশ্বরের অস্তিত্বের কথা।বলেছেন-ঈশ্বর নেই।

এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী তাঁর মৃত্যুর আগেই লিখতে শুরু করেছিলেন বইটি। কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা ধরণের প্রশ্ন পাঠাতো তাঁর কাছে। বিজ্ঞান বিষয়ক নানা কৌতুহল সেগুলো। হকিং পরিকল্পনা করেছিলেন একটি বই লিখে তিনি সবার প্রশ্নের উত্তর দেবেন। তাঁর চির বিদায়ের পর পরিবারের সদস্যরাই বইয়ের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেছেন।

এই বই লেখার আগেও হকিং ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।‘ব্রিফ আনসারস টু দ্য বিগ কোয়েশ্চনস’ বইতে তিনি লিখে গেছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন মহাকাশে অন্য প্রাণের অস্বিত্ব আছে। তবে বিজ্ঞানের গবেষণা আরেকটু অগ্রসর না হলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা বলা যাবে না। টাইম ট্র্যাভেলের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বইয়ের আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন,‘এই বিষয়টিকে একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় আগামী এক’শ বছরের মধ্যে মানুষ মহাকাশের যে কোনো জায়গায় ভ্রমণ করতে সক্ষম হবে’। তবে এই বিজ্ঞানীর কন্যা লুসি হকিং বইয়ের পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন যে হকিং মনে করতেন বিজ্ঞানের এই যে এতো প্রবল উন্নতি তা সব সময় মানব জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে এমনটা নয়। কারণ প্রযুক্তির উন্নতিকে ব্যবহার করে নানান অপকর্ম করার দুর্নাম মানুষ অর্জন করেছে।

বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লুসি বলেছেন, তার বাবা মানুষে মানুষে বিভক্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

বইয়ের শেষে এসে মানুষ এবং তাদের ভবিষ্যত নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে চমৎকার মন্তব্য করেছেন স্টিফেন হকিং। তিনি বলেছেন, ‘মানুষকে অজানা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরী করতে হলে দৃষ্টি থাকতে হবে ওই দূর আকাশের নক্ষত্রের দিকে। নিজের পায়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ সিএনএন
ছবিঃ গুগল