হর্ণ বাজানোর উৎসব…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফর হাসান লেখক/গীতিকার

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

আসাদ গেটের একটু আগের জ্যামে ঘটনা। সব বাস থেমে আছে। আমি ট্রান্স সিলভায়। ঠিক পেছনেই কর্কশ হর্ণ। বাজছে তো বাজছেই। জানালা খুলে পেছনে তাকালাম। এক ভদ্রলোক এই আকাম করছে। কী চায়? আমি নামলাম। কাছে গেলাম ‘ভাই এভাবে হর্ণ বাজাচ্ছেন কেন?’ তিনি ও তার পাশে বসা বন্ধুটি মিলে আমাকে বিদ্যাসাগর, সমাজসেবক এবং আরও অনেককিছু শুনিয়ে দিলো৷ তার ধারাবাহিক হর্ণ বাজানোর কারণ সামনের বাস কেন আগে?

এরকম করেই দেখছি বাসের যে হেলপার সিগারেট কিনতে পাশের দোকানে গিয়েছে, তাকে ড্রাইভার হর্ণ বাজিয়ে ডাকছে। আমাদের বাইকওয়ালারা, আমাদের প্রাইভেট কারে বসা উচ্চ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত চালকেরা, বাসের চালকেরা, ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের চালকেরা এবং শুনতে হাস্যকর মনে হলেও আজকাল রিকশাওয়ালারাও হর্ণের জন্য জন্ম নিয়েছে।

সবাই সবাইকে ডাকছে হর্ণ বাজিয়ে। তীব্র হর্ণ বাজিয়ে যেন উৎসব করছে। বিশেষ করে প্রতিটি সিগন্যালে থেমে থাকা অবস্থায় আর জ্যাম ছাড়তেই একত্রে সবকটি বাইক, অটোরিকশা, বাস, ভ্যান যেভাবে হর্ণের প্রতিযোগিতায় নামে, সেটা ভয়ংকর। সমস্বরে হর্ণ বাজাবার সময় পাশের হাসপাতাল, পাশের স্কুল, ওই জ্যামেই তাদের পাশের স্কুলভ্যানের বাচ্চারা, এদের কথা কেউ ভাবছে না৷ কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে এই হর্ণে, কেউ ভাবছে না। মানে যাদের ভাবার দরকার।

এই মুহুর্তে শুধু হর্ণের অবস্থার দিকে তাকালেই স্পষ্ট, পৃথিবীতে অনেক অসভ্য জাতিগোষ্ঠী থাকলেও এগিয়ে থাকবে ঢাকা শহরের অকারণে হর্ণ বাজানো শুয়োরের বাচ্চারা।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]