হামলার মুখে চে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জানালার পর্দা সরিয়ে দিলে কত কী উদ্ভাষিত হয়! জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া আলো পুরনো অন্ধকার সরিয়ে পুনরায় আলোকিত করে অনেক কিছু। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর ভবনের একটি সভাঘরের জানালার পর্দা দেড় বছর আগে সরিয়ে দেয়া হলে স্মৃতিতে উঠে আসেচে গুয়েভারা।১৯৬৪ সালে এই ঘরটি যখন স্পন্দিত হচ্ছিলো চে গুয়েভারার ভাষণের শব্দে ঠিক তখনই জাতিসংঘ ভবনের পাশে ইস্ট রিভারের বিপরীত তীর থেকে এই কক্ষের দিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় রকেট শেল। শেলটি অবশ্য তার লক্ষ্যবস্তু থেকে ২০০ গজ আগেই পানিতে পড়ে বিষ্ফোরিত হয়। আর তাতে ইস্ট রিভারের পানি লাফিয়ে ওঠে শূন্যে, কেঁপে ওঠে পুরো জাতিসংঘ ভবন। ক্যালেন্ডারে সেদিন ছিলো ১১ ডিসেম্বর, ঘড়িতে সময় দুপুর ১২.১০ মিনিট।

২০১৯ সালে ওই বিখ্যাত সভাঘরে বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে জার্মানীর জাতিসংঘ প্রতিনিধিরা ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে দেন আলো আসার জন্য। ১৯৬৪ সালের ঘটনার পর বিশাল আকৃতির জানালার পর্দাগুলো টানাই ছিলো।

সেই উত্তাল ষাটে কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রোর বিপ্লব সফল হয়েছে। চে কিউবার সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত এবং শিল্পমন্ত্রী। রকেট শেলের ধাক্কায় কেঁপে ওঠা জাতিসংঘ ভবনে দাঁড়িয়ে চে গুয়েভারা সেদিন কিন্তু তাঁর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ভাষণ থামাননি। অবিচল ভঙ্গিতে তিনি ভাষণ শেষ করেছিলেন। তখন নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে লেখা হয়েছিলো, চে ভাষণ শেষে বের হয়ে এসে লবিতে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে চুরুটের ধোঁয়া ছড়িয়ে বলেছিলেন, ‘‘ঘটনাটা পুরো বিষয়টার ওপর একটা আলাদা মাত্রা যোগ করলো’’।

যে বাজুকা থেকে রকেট ছোঁড়া হয়েছিলো সেটি নিউ ইয়র্ক পুলিশ খুঁজে পেয়েছিলো নদীর তীরে।শেলটি ছিলো দেড় ফুট লম্বা এবং তাতে ১ দশমিক ৯ পাউন্ড ওজনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিষ্ফোরক পোরা ছিলো। সেই সময়ে জাতিসংঘ ভবনের বাইরে কিউবা বিপ্লবের কারণে উৎখাত হওয়া বহু মানুষ জড়ো হয়ে ক্যাস্ট্রো ও চে বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলো।আমেরিকা ছিলো তাদের আশ্রয়দাতা দেশ। ঘটনাটি নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, শেলটি যদি যথাযথ ভাবে দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতো তাহলে ওই কক্ষের জানালায় আঘাত হানতো।

ওই একই দিনে আরেকটি ঘটনা ঘটেছিলো। ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে মলি গঞ্জালেস নামে একজন নারী একটি বড় ছুরি হাতে ভবনের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন চে গুয়েভারাকে আঘাত করার জন্য। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে। চে অবশ্য ঘটনাটা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘‘বন্দুক হাতে একজন পুরুষের হাতে মৃত্যুবরণ করার চাইতে ছোরা হাতে একজন নারীর হাতে মৃত্যু শ্রেয়’’।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box