হারানোর ভয়  

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আফরোজা জোয়ার্দার ইলা

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

হঠাৎ আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে।হয়তো বৃষ্টি আসবে… জোর বাতাসে হলি ফ্যামিলি হসপিটালের বাগানের গাছগুলো নড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই
১১ বছরের নিধি তার ভাইয়ের সঙ্গে হাত ধরে হসপিটালের পেছনের গেটের কাছে যায়।যেখানে গার্ড থাকলেও ওরকম কঠিন তৎপর হয়ে কাজ করে না।

নিধির পরনে একটা নীল আর রুপালী মিশেলে ব্রোকেটের জামা। বাগানের চারপাশটা কাঁটাতারের নিখুঁত বেড়াজালে আটকানো। কিন্তু এখান দিয়েই পার হতে হবে ওঁদের। এছাড়া কোন উপায় নেই। তাঁদের মা হসপিটালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি, কাল অপারেশন।
নিধির ভাই তারকাঁটা উঁচু করে একটা জায়গা করে দিলো,সেখান দিয়ে বাগানে ঢুকতে গিয়ে কাঁধের কাছটা বেশ খানিকটা ছিড়ে গেলো।ব্যথা করলেও উফ্ বলেই চেপে গেলো নিধি।
মা’কে দেখতে যেতে হবে, আর সময় নেই। বাগান দিয়ে ভেতরে ঢুকে সিড়ি দিয়ে তিনতলা। ওই তো দেখা যাচ্ছে মহিলা ওয়ার্ড লেখা। ভাইয়ের হাত ধরে ওয়ার্ডের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে,ভাই আর যাবেনা।মহিলা ওয়ার্ড, এখন তাকে একাই যেতে হবে।
ওই তো দেখা যাচ্ছে মা-কে।সবুজ শাড়ি পড়ে চুল আঁচড়াচ্ছে।এটা মায়ের সারাজীবনের অভ্যেস।বিকেল হলেই চুল আঁচড়ে বেনী করা। নিধি চুপিচুপি কাছে গিয়ে একদম ঝাঁপিয়ে পড়লো বুকে।আশেপাশের মহিলারা সবাই জিগ্যেস করলো এটাই কি আপনার মেয়ে?মা শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো। দুজনেই তখন ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে।কেউ কোন কথা বলছে না।১০ মিনিটের মধ্যেই কোথা থেকে ওয়ার্ডের এক নার্স চলে এলো,বললো ‘কি ব্যাপার ? বলেছি না বাচ্চা আসতে পারবে না!’
নিধি আর ওর মা চোখ মুছে তাকালো,অপরাধবোধে নিধি মাথা নিচু করে আছে, আর তার মা আস্তে করে বললো ‘এখনি চলে যাবে ও, এটা আমার মেয়ে।’
সেদিন ওরা কেউ কোন কথা বলেনি,না মা না মেয়ে।শুধু কাঁদছিলো আর একজন আরেকজনের চোখ মুছিয়ে দিচ্ছিলো।একটু পর আশেপাশের সবাই বলছিলো ‘এতো ভয় পাচ্ছেন কেনো,এটা তো কোন বড় অপারেশন না,দেখবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন।’
মা অন্যান্য রোগীদের উত্তরে তাদের বলেছিলো,‘ আর যদি দেখা না হয়,আমার মেয়েটার কি হবে?’

তার পরমুহূর্তেই দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলো ‘আল্লাহ যেনো আমাকে নিধি বড় হওয়া পর্যন্ত বাচিয়ে রাখেন।’
তারপর নিধির হাত ধরে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। ভাই এসে নিধি কে নিয়ে যায়।
বারবার পেছন ফিরে তাকায় নিধি মায়ের দিকে আর চোখ  মুছতে থাকে।দেখতে পায় মা ও কাঁদছে,সেই দৃশ্যটা নিধি আজও ভুলতে পারেনা।
সেই অপারেশন অবশ্য সাকসেসফুল হয়েছিলো।
তবে কোন এক ভর দুপুরে সেই নিধির বুকেই মাথা রেখে
মা ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন ১৫ বছর পর….।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]