হারিয়ে যাওয়া দিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

লুৎফুল কবির রনি

ছোটবেলার সরস্বতী পুজার আনন্দ আজ চাইলেও পাওয়া যাবেনা। সেই সাতসকালে গায়ে হলুদ, মাটির দোয়াতে খাগের কাঠি সাজানো, দুপুরবেলায় মাসীদের রান্না করা খিচুরি আর ল্যাবড়ারর তরকারি। অসাধারন। ওরকম খিচুড়ি অনেকদিন খাইনি।

পূজার সন্ধ্যায় মরিচবাতির প্রথম সারিটা জ্বলে ওঠা, হাড়কাপানো শীতের রাতে মূর্তি পাহাড়া দেয়ার জন্য বসে থাকা বা তৃতীয়দিন রাতে সব আয়োজন শেষে অস্থায়ী মন্ডপের শেষ বাতিটা নিভে যাওয়া – আনন্দ, উত্তেজনা, খুশির সঙ্গে একটু কষ্ট। সরস্বতী পূজা আমাদের কাছে এতগুলো আবেগের মিশেল ছিলো।

যে সময় আমি কাটিয়ে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে, সে সমস্ত দিনের গল্প করার সময় আমার চোখে মুখে নিশ্চয়ই আলো ফুটে উঠে। আমি আজও বিশ্বাস করি আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল, কিন্তু কোন শঠতা ছিলনা, চরিত্রে নির্মলতা ছিলো, কোন কলুষতা ছিলোনা, আচরণে স্থিরতা ছিলো, কোন রকম অধৈর্য্যতা বা অস্থিরতা ছিলনা, অভিমান ছিলো কিনতু আক্রোশ, প্রতিহিংসা ছিলোনা।

অনেক সাথীরা দেশ ছেড়ে চলে গেছে , কেন যাচ্ছে নিজের দেশ ছেড়ে মাকে কেঁদে কেঁদে অস্থির করে তুলতাম । তখন বুঝি নি এদেশ থেকে , নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে কেন চলে যায় মাটির সুহৃদরা ।

কৈশোরের অভিমানগুলো বেড়ে বেড়ে আজ এক সমুদ্র ? এখন এখানে গাছ থেকে শব্দ পর্যন্ত ধর্মের দ্বারা বিভেদ করা ।

মাগো আমার চোখ থেকে শৈশব কৈশোর কেন যায় না ?

খ্যাতনামা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী সরস্বতী পুজোর এক সকালে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে বসে আছেন। বেলা প্রায় বারোটা, এমন সময় এক বৃদ্ধা এলেন, সঙ্গে একটি ছোট্ট মেয়ে। গৌরবর্ণ, সৌম্যদর্শন আলী সাহেবকে সাতিশয় অনুনয় সহকারে বৃদ্ধা বললেন, “বাবা, তুমি তো ব্রাহ্মণ, আমাদের বাড়ির সরস্বতী পুজোটা একটু করে দেবে? আমাদের পুরুত আসেনি, এত বেলায় আর কোনো পুরুত পাচ্ছি না, এদিকে নাতনিটা আমার সকাল থেকে না খেয়ে বসে আছে।”

বৃদ্ধার অনুরোধে, এবং নাতনির শুকনো মুখ দেখে আলী সাহেব তাদের বাড়ি গেলেন। সমস্ত উপচার সমেত বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় মন্ত্রোচ্চারণ করে তিনি পূজা সমাপন করলেন, পরিশেষে দক্ষিণা গ্রহণ করে বিদায় নিলেন। পরবর্তীকালে এই ঘটনা সম্বন্ধে আলী সাহেব বলেছেন, “জানি না, মা আমার মত বিধর্মীর পুজো গ্রহণ করে রুষ্ট হয়েছিলেন কিনা। তবে আশা করি, বাচ্চা মেয়েটির উপোসী মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি আমাকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করে দিয়েছেন।”

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]