হাসি পায় সুপর্ণা…

অদিতি বসুরায় (কবি, সাংবাদিক)

শীতকাল বিয়ের মরসুম। বিয়ে। বিয়ে তো ‘দিতেই’ হবে। বিয়ে যারা ‘করে’, করুক। আমরা মেয়ের বিয়ে ‘দি’।
খবরের কাগজ থেকে, টেলিভিশনের পর্দা থেকে,পাশের বাড়ির চিৎকার থেকে, ওপাড়ার ফ্ল্যাট থেকে, মুর্শিদাবাদের গ্রাম থেকে, বাগুইহাটির বাড়ি থেকে, বীরভূমের শালবন থেকে, খিদিরপুরের চালা থেকে, শিলিগুড়ির ষ্টেশন থেকে, নিউটাউনের বহুতল থেকে যে সব মেয়েদের মৃতদেহ পাওয়া যায় – তাদের হাড় পরে থাকে আগুনের নীচে। বাবা- মায়েরা কাঁদেন। কপাল চাপড়ান। তারপর গয়নার দোকানে ছোটেন দ্বিতীয় কন্যার বিয়ের অলংকার গড়াতে। সারা জীবনের সঞ্চয় নিয়ে। বিয়ে। বিয়ে দিতেই হবে। আমার হাসি পায়, সুপর্না!
শীতকাল এখন বিয়ের মরসুম। ফুলে- অলংকারে যারা আলতা পায়ে ‘ঘর’-এ ঢোকে – তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ গ্রীষ্মে বের হয় গলায় দাগ নিয়ে বা ৮০% পোড়া শরীর নিয়ে। মরে গিয়ে। এরা বসন্তে বাবা-মা-মামা-কাকা নিদেন বন্ধুদের জানায় – মার খাচ্ছে – ভাত পাচ্ছে না-রুটি দেওয়া হচ্ছে না-চাকরি বন্ধ করার কথা শুনতে হচ্ছে- আরো টাকার দাবী জানানো হচ্ছে- চড় থাপ্পড় পড়ছে যখন তখন- সেল ফোন চেক করা হচ্ছে- হচ্ছে তো হচ্ছে। মেনে নাও। মানিয়ে নাও। ছোট্ট থেকে মুখস্থ করানো হয়েছে তো, ‘যে সয়, সে রয়’। বাবা- মা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ঝাড়া হাত-পায়ে নাটক দেখতে যান। বন্ধুরা পার্টির প্ল্যান করে। মামা-কাকাদের কানে তুলো। প্রতিবেশিরা চোখে দেখে না।
শীতকাল বিয়ের মরসুম। শীতকালে ফুল ফোটে বারান্দায়। ছাদে। ইস্কুলে ইস্কুলে লাল সোয়েটার। শীতকালে সাবমেরিনের গল্প করে না কেউ। শীতকালে বেনারসি কেনা হয়। কুমকুমও। লাল খুব প্রিয় রং শীতকালের। বাবা- মায়েরা শীতকালে বিয়ে দিতে পছন্দ করেন মেয়েদের। শীতকালে খাবার নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। শীতকালে মালার দাম কম থাকে।

ছবিঃ প্রাণের বাংলা