হুমায়ূন আহমেদ আমাদের প্রভাবিত করেছিলেন

লুৎফুল কবির রনি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

একবার এক ব্যক্তি হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বললেন, অমুক তো আপনাকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে। আপনার লেখায় নাকি শিক্ষামূলক কিছু নাই। শুনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছে, আমি তো পাঠ্যবই লেখি না!’ হ‌ুমায়ূন আহমেদ কেমন সরস ছিলেন তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি ‘আমি রসিকতা পছন্দ করি না’ এই টাইপ কথা বলা গম্ভীর মানুষেরাও হ‌ুমায়ূন আহমেদের রসিকতায় অট্টহাসি হাসেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমন কিছু নেই, যা নিয়ে রসিকতা করেননি তিনি।

ক্রিকেট নিয়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের খেলার সময় হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রবল উৎসাহ দেখে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন। কিন্তু হ‌ুমায়ূন আহমেদ ক্রিকেট বিষয়ে বিজ্ঞ নন দেখে সাংবাদিক হতাশ হয়ে বললেন, ‘আপনি যে ক্রিকেট বোঝেন না, এটা কি লিখতে পারি?’

: অবশ্যই লিখতে পারো।

: কিছু না বুঝেও ক্রিকেট কেন পছন্দ করেন—একটু ব্যাখ্যা করবেন?

: কারণ, আমি গল্পকার।

: স্যার, একটু বুঝিয়ে বলুন।

: ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি বল করা হয়। বল করা মাত্র গল্প শুরু হয়। নানান সম্ভাবনার গল্প। ব্যাটসম্যানকে আউট করার সম্ভাবনা, ছক্কা মারার সম্ভাবনা ইত্যাদি। ছয়টা বল হলো ছয়টা সম্ভাবনা—গল্পের সংকলন। এবার বুঝেছ?

জীবনকে দেখার এ চোখটা দারুণ ছিল হুমায়ূন আহমেদের।

আলমারিতে এখনও পকেট ছাড়া হলুদ পাঞ্জাবিটা সাজানো ।

আমরা তিন বন্ধু মিলে জোছনা দেখবো হিমু হয়ে । তখন এই পাঞ্জাবীটা পড়ে সারারাত হিমু সেজে কাটালাম ।ক্ষুধায় এর ওর কাছে চেয়ে খেয়েছিলাম । আবার শুয়ে শুয়ে জোছনা দেখা । অকারণে হেঁটে চলা । কি যে পাগলামি ছিল ।

কৈশোরের সেই স্মৃতি বলে দেয় হুমায়ূন আহমেদ আমাদের কি পরিমান প্রভাবিত করেছিলেন ।

‘কোথাও কেউ নেই’ এর বাকের ভাই এর জন্য মিছিল ফাঁসি না হওয়ার জন্য । কে কবে দেখেছে নাটকের চরিত্রের জন্য এই রূপ প্রতিক্রিয়া।

বাঙালীর চিরকালীন আবেগ , এতটা হুমায়ুনময় যে জোছনা, সমুদ্র , বৃষ্টি বাঙালী ভাটির এই যাযাবরের চোখ দিয়েই দেখে।

জোছনায় শীতল পাটিতে এখনও বসে মানুষের অনুভুতিকে সহজভাবে মাটির মমতায় তুলে আনছেন , বাঙালির আবেগের চোখেএই ছবি মুছবেনা।

সব মিলিয়ে সকল কিছুর পর বাঙালীকে বই পড়তে , বইয়ে আগ্রহী করতে যে নামটি সবার আগে , তিনি হুমায়ুন আহমেদ ।

প্রয়ান দিবসে স্মরণ করি তোমায় বিনম্র শ্রদ্ধায় জীবনের অতুলনীয় রূপকার ।

আপনার জন্ম না হলে হয়তবা জানাই হতো না এখানে হাজার মানুষের কান্না আছে, সুখ আছে।
যে কান্না, যে সুখ, যে আনন্দ বেদনা ছুঁয়ে যেতে পারে নিজেকেও। বইয়ের কয়েকটা কালির অক্ষর ভিজিয়ে দিতে পারে নিজের বালিশ, হাসিয়ে দিতে পারে নিজের অজান্তেই, শিহরিত করে দিতে পারে পুরো শরীর।

মূলত সাহিত্য এবং এর শাখা-প্রশাখা, টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ইত্যাদি মিলিয়ে হুমায়ূনের বিশাল সৃষ্টিসম্ভার। তাঁকে বাঙালী জীবনের এক ‘কালচারাল ফেনোমেনন’-এ পরিণত করেছে। হুমায়ূন আহমেদের চার দশকব্যাপী বিস্তৃত সৃষ্টিশীল অধ্যায় কাল কি পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে? পরপারে চলে যাওয়ার পর তিনি এখন একা, পুরোপুরি নিঃসঙ্গ। তাঁকে ঘিরে নেই ভক্ত-পাঠকের দল। নেই তাঁর পাণ্ডুলিপি পাওয়ার জন্য প্রকাশকদের হুড়োহুড়ি। নেই পুলিশি পাহারায় বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলার কোনো ভক্তপিষ্ট স্টলে তাঁর বসে থাকার দৃশ্য। তিনি সম্পূর্ণ একা। এখন শুরু হবে তাঁর টিকে থাকা না-থাকার পরীক্ষা।