হৃদয়ের রক্তক্ষরণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

যে গল্প বলে যাচ্ছি সে সময়টা ছিলো নব্বইয়ের শেষের দিকে। রীতিমতো নিঃশ্বাস নেই যতবার ততটা গান গাই।চিটাগাং, বগুড়া সিলেট রাজশাহী কত জেলার নাম বলবো! সব শহর থেকেই গানের ডাক আসে।আমরা দুই জোরবাঁধা সংসারী বাউল খুব সময় মেইনটেইন করে কাজ করি।কোন অনুষ্ঠানে যদি বিকেল পাঁচটায় সময় দেয় তো আমি ঠিক পাঁচটায়ই পৌঁছে যাই।ছবির গানের ক্ষেত্রে তা আরও কড়াকড়ি ভাবে পালন করি। শ্রদ্ধেয় সব সুরকার যেন আমাকে সময় দিয়ে পাঁচ মিনিট ও অপেক্ষা না করেন সেভাবেই স্টুডিওতে যাই।বিদেশেও ইতোমধ্যে অনেক দেশে ঘুরেছি।আমেরিকার নিউইয়র্ক লস এঞ্জেলস ছাড়াও ডালাস টেক্সাস যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তখনও আমার গান মানুষের মুখে মুখে হয়নি।মনের কোনে শিল্পীত দুঃখ চিনচিন করে বেজে ওঠে। খালি মনে হয় আহা! আমার যদি একটা অনেক জনপ্রিয় গান থাকতো।এভাবে ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দেখি অনেক গুলো গান আকাশে বাতাসে বাজছে! লাভস্টোরী ছবির গানের জন্য প্রযোজক সমিতি পুরস্কার তো আগেই পেয়েছি কিন্তু গানটি তেমন হিট হয়নি।তৃনমূলের শ্রোতা এ গান জানেন কিনা জানিনা কারণ তখন এগুলো জানার কোন উপায় ছিলো না। কিন্তু যখন দেখলাম রেডিওতে ঘন ঘন বাজছে তখন সেটাকে প্রতিধ্বনি হিসেবে বুঝে হিসাব কষেছি।সে যাই হোক।

হঠাৎ আমাদের গায়ক শুভ্রদেব একজন ইন্ডিয়ান প্রোমোটর নিয়ে আমাদের বাসায় এলেন। আমেরিকার আটটা অঙ্গরাজ্যে গাইতে হবে।বিশাল বড় প্রোমোটর তিনি।কালা মিউজিক এর কর্ণধার দেবু ঘোষ।খুব আনন্দিত হলাম দু’জন। টাকা পয়সা টার্ম কন্ডিশন শুনে বললেন দাদা, আমি তো অনেক বড় লিজেন্ডকেও অভিভাবক হিসেবে টিকিট দেইনা।সেখানে কনকচাঁপা কে একাই যেতে হবে।আমার হাজব্যান্ড ও বললেন তাহলে দাদা আপনি ও জেনে রাখুন ও একলা যাবেনা। উনি বেজার হয়ে চলে গেলেন। তারপর প্রায় ছয়মাস পরে উনি আবার বাংলাদেশে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বললেন ঠিক আছে আপনারা যেভাবে চাচ্ছেন তাই সই।সেই প্রথম বিশাল টিমের সঙ্গে আমি আমার অভিভাবক নিয়ে আমেরিকার আটটা অঙ্গরাজ্যে গাইতে গেলাম। আমাদের টিমে ছিলেন খালিদ হাসান মিলু, বিজরী বরকতুল্লাহ, মিতা নুর, বেবী নাজনীন এবং পুরো পাঁচজনের মিউজিশিয়ান টিম। খুব সফল একটি ট্যুর। লস এঞ্জেলস, নিউইয়র্ক, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, ও শিকাগো ছিলো আমাদের অনুষ্ঠান। খালিদ হাসান মিলু ভাই এতো শক্তিশালী গায়ক কিন্তু মঞ্চে তিনি খুবই আড়ষ্ট থাকতেন। খুব ডিজাইনার কাপড় জামা পরতেন কিন্তু মঞ্চের জেশ্চার পশ্চার একদম লাজুক ধরনের ছিলো। আর বেবী নাজনীন আপা, তিনি যেন একটা বাঘ, সত্যিই তার স্টেজ পারফর্মেন্স দেখার মতো ছিলো। নিজে গাইতে গাইতে সামনের দর্শক সবাইকে কেমন হাতের মুঠোয় নিয়ে নাচিয়ে ছাড়তেন। খুবই সফলতা নিয়ে আমরা দেশে ফিরে এলাম।আমাদের সবার ক্যারিয়ারে একটি সাফল্যের পালক যোগ হলো। কিন্তু ফিরে ছবির গানের পাড়ায় এসে সেই একই কথা, কনকচাঁপা এভাবে সবাইকে বিপাকে ফেলে আগাড়পাগাড় ঘুরে বেড়াবে না।সে থাকবে স্ট্যান্ডবাই। একবার ভাবি তাই হবে, আবার ভাবি গান যাদের জন্য গাই সেই শ্রোতাদের কাছে যাবোনা? তাদের প্রতিক্রিয়া বুঝবো না? আবার ভাবি কিন্তু আমার তো প্লেব্যাক এ গেয়ে গেয়ে গান জমাতে হবে! এই সব গান সংক্রান্ত ভাবনায় গানেরই একটি কলি আমার গলায় গুনগুন করে ওঠে ” এ গেলো তো ও এলো ও এলো তো এ গেলো, একই সাথে পেলাম না যে এই আমি আর ওই তোমাকে!

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]